বুধবার ১৩ নভেম্বর ২০১৯


নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে ফ্যাক্টর কুমিল্লা ও চাঁদপুর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
18.12.2016

স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (এনসিসি) এবার নগরপিতার ভাগ্য নির্ধারণ করবেন মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের প্রায় এক লাখ ভোটার। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জেরই প্রায় অর্ধলাখ ভোটার রয়েছেন। বাকি ৫০ হাজারের প্রায় ৩০ হাজার কুমিল্লার এবং ২০ হাজার চাঁদপুরের। এনসিসির বিভিন্ন এলাকায় বাস করেন এসব ভোটার। ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির সুবাদে তারা এখানে বসবাস করেন। এদের বড় অংশই ভাড়াটিয়া। কেউ কেউ বসতবাড়িও গড়েছেন। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দুই দলের প্রার্থীদের নজর এখন সেদিকে। এ জন্য তারা কাজে লাগাচ্ছেন মুন্সীগঞ্জের নেতাদের। জানা যায়, এ তিন জেলা ছাড়াও পাবনা ও নরসিংদীর বেশ কিছু ভোটার রয়েছেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটির বাইরে বিশেষ করে রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও, আড়াইহাজার, ফতুল্লারও বেশ কিছু বাসিন্দা এনসিসির ভোটার। সব ভোটারের কাছে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা। মুন্সীগঞ্জ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হাই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন নারায়ণগঞ্জে। দলের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর জন্য নিজ জেলা থেকে আসা এখানকার ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন তিনি। মুন্সীগঞ্জের বিএনপি নেতারাও বসে নেই। দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরাফত আলী সপু, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজসহ প্রভাবশালী নেতারা প্রতিদিনই যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ। এদিকে প্রধান দুই দলের কুমিল্লা ও চাঁদপুরের নেতাদেরও দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জে। উদ্দেশ্য, নিজ জেলার ভোটারদের দলের প্রার্থীর পক্ষে রাখা।

তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কুমিল্লার বাসিন্দা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো.মোস্তাক মিয়া।

নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোডের চাকুরিজীবী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মনপাল গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন,এখানে কুমিল্লার বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। তারা যার দিকে যাবে সেদিকে সফলতা আসবে।

নারায়ণগঞ্জের পড়শি জেলা মুন্সীগঞ্জ। এনসিসিতে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার মুন্সীগঞ্জের ভোটার। এবারের নির্বাচনে জয়ের ক্ষেত্রে তারা বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন। এসব ভোটারের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আঞ্চলিকতার টান। সে ক্ষেত্রে এগিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও বসে নেই। মুন্সীগঞ্জ নেতাদের পাশাপাশি তিনি নিজেও ছুটে যাচ্ছেন এসব ভোটারের কাছে। বিগত সময়ে সব শ্রমিকের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করেন আইভী। মুন্সীগঞ্জের ব্যবসায়ীদেরও আপন করে নিয়েছেন তিনি। জানা যায়, শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্ট, হোসিয়ারি, সুতা, রং, কেমিক্যাল, ডাইং, রোলিং মিলসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব কারখানায় কাজ করছেন বাইরের জেলার মানুষ। কাজের তাগিদে এখানে ভাড়াটিয়া হয়ে বসবাস শুরু করেছেন তারা। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে বাড়িওয়ালা বড়জোর ১৫ থেকে ২০ হাজার। বাকি সবাই ভাড়াটিয়া। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের ভোটার সংখ্যাই বেশি। এনসিসির ১২ নম্বর ওয়ার্ড শহরের ইসদাইর এলাকার ভোটার সুতা ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া, যার আদি বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। তিনি বলেন, ‘এবার নির্বাচনে প্রতীক একটি বিষয়। কেউ আমার জেলার বাসিন্দা হলে স্বাভাবিকভাবেই একটা টান কাজ করবে। ’ অবশ্য ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মুন্সীগঞ্জের ইকবাল হোসেন বলেন, ‘প্রতীক দেখব, জেলা দেখব, ভোট দেব। বিবেচনা করছি। ’ এ বিষয়ে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে মুন্সীগঞ্জের বিপুলসংখ্যক ভোটার রয়েছেন। আমাদের প্রার্থীর আদি বাড়িও মুন্সীগঞ্জ। গণসংযোগে মুন্সীগঞ্জ থেকে বিভিন্ন নেতা-কর্মী এসেছেন অঞ্চলভিত্তিক ভোটারদের প্রার্থীর পক্ষে কাজে লাগাতে। ’ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, ‘নৌকার প্রার্থীর জন্য আমরা সবার কাছে যাব। কোনো জেলাকে আমরা ভাগ করতে চাই না। তবে মুন্সীগঞ্জের ভোটার বেশি থাকতে পারে এমনটি আমরা দেখেছি। ’

সূত্র:বাংলাদেশ প্রতিদিন।