বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » আশকোনা অভিযানে এক নারীসহ দুই জঙ্গি নিহত কুমিল্লার জঙ্গি জাহিদের স্ত্রী-মেয়েসহ ৪ জনের আত্মসমর্পণ


আশকোনা অভিযানে এক নারীসহ দুই জঙ্গি নিহত কুমিল্লার জঙ্গি জাহিদের স্ত্রী-মেয়েসহ ৪ জনের আত্মসমর্পণ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.12.2016

স্টাফ রিপোর্টার।। জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে রাজধানী ঢাকার আশকোনায় ‘সূর্য ভিলা’ নামের বাড়িতে অভিযানকালে এক নারীসহ ২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে একটি শিশু। এছাড়া ওই বাড়ি থেকে আত্মসমর্পণ করেছেন চার জন।
এদিকে, আত্মসমর্পণ করা ওই ৪ জনের মধ্যে জঙ্গি নেতা কুমিল্লার মেজর জাহিদের স্ত্রী জঙ্গি জেবুন্নেসা শিলা ও তার মেয়ে রয়েছে। জঙ্গি নেতা জাহিদ গত কয়েক মাস আগে আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছিলেন। মেজর জাহিদের বাড়ি কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার চাঁনপুর গ্রামে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে গতকাল শনিবার বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত চলা এই অভিযানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের তিনটি গাড়িতে করে ৩০-৩৫ জন ঘটনাস্থলে যান। এ সময় দাঙ্গা পুলিশের ছিলেন ৪০ জন। আর পুলিশের উত্তরা বিভাগের তিনটি গাড়িতে করে পুলিশ সদস্যরাও সেখানে যান। ‘নব্য জেএমবির শীর্ষ এক নেতার’ সন্ধান করছিল কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।
শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ‘সূর্য ভিলা’ বাড়ির পাশের একটি বাড়িতে তল্লাশি চালান। এরপর তাঁরা নিশ্চিত হন, ‘সূর্য ভিলা’ বাড়িতে ‘জঙ্গি আস্তানা’ আছে। এরপর শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার তাঁরা ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। রাত চারটার দিকে সোয়াত দল সেখানে যোগ দেন। ভোর পাঁচটার দিকে ঘটনাস্থলে যান পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। পরে ঘটনাস্থলে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বাড়িটিতে ‘নব্য জেএমবির শীর্ষ এক নেতা’ রয়েছেন। এ ছাড়া নারীসহ একাধিক জঙ্গি রয়েছেন। জঙ্গিদের কাছে শক্তিশালী গ্রেনেড রয়েছে। তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হচ্ছে। তবে তারা শরীরে গ্রেনেড বেঁধে প্রতিরোধের ঘোষণা দিচ্ছে।
তবে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দুই শিশুকে নিয়ে দু’জন নারী আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দফায় ওই বাড়ির নিচতলার বাসা থেকে চারজন আত্মসমর্পণ করেন। এই চারজন হলেন মিরপুরের রূপনগরে পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি নেতা ও সাবেক মেজর কুমিল্লার জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শীলা, তাঁর মেয়ে এবং পলাতক জঙ্গি মুসার স্ত্রী তৃষ্ণা ও তাঁর মেয়ে। তাদের মাইক্রোবাসে করে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গতকাল দুপুরে এডিসি ছানোয়ার হোসেন বলেন, ওই বাসায় আরও তিনজন ছিল। তাদের বের হওয়ার জন্য পুলিশ এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় দিয়েছিল। বারবার তাদের হ্যান্ডমাইকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা তাতে সাড়া দেয়নি। দুপুর সাড়ে ১২টার একটু পরে নিচতলা বাসার দরজা খুলে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন এক নারী। কীভাবে ওই ‘জঙ্গি’ নারী বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছেন, উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, তিনি নিজে ওই বাড়ির গাড়ি পার্কিংয়ের পিলারের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি দেখতে পানে বোরকা পরা একজন নারী বাঁ হাতে একটি মেয়েশিশুকে ধরে বাসার দরজা খুলে বাইরে এসেছেন। ওই দুজন পার্কিংয়ের দিকে আসছিলেন। তখন তিনি তাঁদের দাঁড়াতে বলেন। বারবার বলেন হাত তুলতে। কিন্তু ওই নারী দাঁড়াননি। তিনি শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে সামনে দিকে হাঁটতে শুরু করেন। একপর্যায়ে বাঁ হাতে শিশুটিকে ধরে রেখে ডান হাত ওপরের দিকে তোলার মতো ভঙ্গি করেন। তবে তখন তিনি কোমরে রাখা বিস্ফোরকে চাপ দেন। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই নারীর মৃত্যু হয়। ওই নারীই ‘জঙ্গি’ সুমনের স্ত্রী। বিস্ফোরণে আহত শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তখনো বাড়ির ভেতরে ছিল নিহত জঙ্গি তানভীর কাদেরির ছেলে আফিফ কাদরি ।
গতকাল বেলা তিনটার দিকে এক ব্রিফিংয়ে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটানো জঙ্গি নারী মারা গেছেন। ভেতরে থাকা আরেক ‘জঙ্গি’ বিস্ফোরক ও গুলি ছুড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি করেছে। এরপরে ভেতর থেকে আর কোনো শব্দ আসেনি। ভেতরে থাকা ‘জঙ্গি’ জীবিত না মৃত, তা নিশ্চিত নয় পুলিশ। পরে অবশ্য পুলিশ জানায়, আফিফ কাদরি মারা গেছে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেলা সোয়া তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে যান। পরে বিকেল পৌনে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আশকোনায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে চালানো অভিযান পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এই অভিযানে চারজন আত্মসমর্পণ করেছেন। নিহত হয়েছেন দুজন। নিহত দুজনের মধ্যে একজন নারী জঙ্গি (সুমনের স্ত্রী)। আহত অবস্থায় একটি শিশু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। ওই বাসার ভেতরে অসংখ্য তাজা গ্রেনেড, বোমা পড়ে আছে। অভিযান পরিসমাপ্ত হলেও ভেতর থেকে এগুলো পরিষ্কার করার ও আলামত সংগ্রহের কাজ চলবে।
ওই জঙ্গি আস্তানার ভেতর থেকে আলামত সংগ্রহ ও বিপজ্জনক বস্তু সরানোর কাজটি বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থগিত করা হয়। রোববার আবার তা শুরু হবে বলে জানান কাউন্টার টেররিজমের দুই উপ-কমিশনার (ডিসি) মইদুল ইসলাম খান ও প্রলয় কুমার জোয়ার্দার। তাঁরা বলেন, ভেতরে এক কিশোরের লাশ পড়ে আছে। ভেতর থেকে গ্যাসের গন্ধ বের হচ্ছে। বিদ্যুৎ নেই। ভেতরে বিস্ফোরক থাকায় অন্ধকারে কাজ চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁরা আরও বলেন, বাড়িটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। বাইরে পড়ে থাকা দুটি বোমা নিষক্রিয় করা হয়েছে। ভেতরে আরও পাঁচ-ছয়টি গ্রেনেড থাকতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।