বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১


আমিন আমিন শব্দে মুখর গোমতীর চর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.01.2017

মাহফুজ নান্টু: কুমিল্লার গোমতী নদীর চরে লাখো ধর্মপ্রান মুসলমানদের অংশগ্রহণ ও আখেরী মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনার মধ্যে দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার আঞ্চলিক পর্বের সমাপ্তি হয়েছে। গতকাল বেলা ১২ টায় আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন তবলীগ জামাতের অন্যতম মুরুব্বী মোহাম্মদ হোসাইন আখেরী। ১৭ মিনিটের মোনাজাতে উপস্থিত মুসলমানদের আকাশের পানে দু’হাত তুলে কান্নার সাথে আমিন আমিন শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে গোটা গোমতীর চর এলাকা।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল শনিবার ছিল বিশ্ব ইজতেমার আঞ্চলিক পর্বের  শেষ দিন। এমন ঘোষণার পরেই আখেরী মোনাজাতে অংশগ্রহণ করতে দূরদুরান্ত থেকে যানবাহন যোগে আসতে শুরু করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। বেলা ১১ টার আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে পুরো ইজতেমাস্থল। বেলা ১২ টার সময় ইজতেমাস্থলসহ যে যেখানে ছিল ওই অবস্থায় আখেরী মোনাজাতে অংশগ্রহণ করে। গোমতীর চরে খোলা আকাশের নিচে আখেরী মোনাজাতে মুসুল্লিদের কান্নার দৃশ্যটি এক অপার্থিব পরিবেশের সৃষ্টি করে। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে নৈকট্য লাভের আশায় চোখের জলে ক্ষমা চেয়ে নিজের ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেছেন সবাই।
এদিকে তিনদিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার আঞ্চলিক পর্বের গতকাল আখেরী মোনাজাত উপলক্ষে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা আগের দু’দিনের চেয়ে বেশী সক্রিয় ছিল। মোনাজাত শেষে যেন নিরাপদে যেন মুসুল্লিরা বাড়ি ফিরতে পারে সে জন্য সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। আইনশৃংখলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সর্তকতার কারণে কোথাও কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য এ বছরই প্রথম বিশ্ব ইজতেমার আঞ্চলিক পর্বের  আয়োজন করা হয় কুমিল্লার গোমতী নদীর চরে। ইজতেমা সফল করতে জেলা সদরের অদূরে আলেখার চর (আমতলী) এলাকায় গোমতী নদীর তীরে ইজতেমা উপলক্ষে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। গোমতী নদীর চরে প্রায় পৌনে ১০ লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে ইজতেমার প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে প্রায় ১৫০ জন লোক কাজ করেন। ইজতেমায় ৫ লাখ মুসল্লির সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ইজতেমার বয়ান যেন সবাই শুনতে পান সে জন্য ১২ শতাধিক মাইক স্থাপন করা হয়েছে । বয়ানে অংশ নেন দেশের প্রখ্যাত আলেমগণ ছাড়াও তাবলীগ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। শৃংখলা রক্ষার্থে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তায় সিসিটিভি ওয়াচ টাওযারের মনিটরিংসহ পোষাকদারী সদস্যদের সাথে সাদা পোষাকের ১২ শতাধিক আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করেন।