বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » তনু হত্যাকা- নতুন বছরে বিচারহীনতার বেদনা বইতে চান না স্বজনরা
পরবর্তী


তনু হত্যাকা- নতুন বছরে বিচারহীনতার বেদনা বইতে চান না স্বজনরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.01.2017

স্টাফ রিপোর্টার ।। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকা- ২০১৬সালে দেশের একটি আলোচিত ঘটনা। হত্যাকারীদের শনাক্ত ও বিচার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে গণজাগরণ মঞ্চসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এরপরে দীর্ঘ ৯মাসেও তাঁর হত্যাকারী শনাক্ত হয়নি। ইংরেজি নতুন বছরে তাঁর হত্যার বিচার না হওয়ার বেদনা আর বয়ে বেড়াতে চান না স্বজনরা।
তনুর পরিবারের সূত্র জানায়, কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গল থেকে গত ২০ মার্চ রাতে কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পুলিশ ও জেলা ডিবি’র পর গত ১ এপ্রিল থেকে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি-কুমিল্লা। সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ৩ জন পুরুষের শুক্রানু পাওয়ার কথাও গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।
সূত্র জানায়, আদালতের আদেশে সিআইডি ডিএনএ প্রতিবেদনটি দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী মেডিক্যাল বোর্ডকে সরবরাহ করলেও ৩ সদস্যের ওই মেডিক্যাল বোর্ড তনুর মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট করতে পারেনি। এদিকে এ মামলার দুইজন তদারক কর্মকর্তা সিআইডি-কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান ও শাহরিয়ার রহমানের বদলীর পর বর্তমানে মামলাটির তদন্ত তদারকী করছেন সিআইডি-কুমিল্লার পুলিশ সুপার ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন।
এদিকে তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ৯টি মাস পার হয়ে গেলেও খুনিদের কেউ এখন পর্যন্ত শনাক্ত হলো না। এ পর্যন্ত ঘাতকদের ডিএনএ মেলানোর কাজটিও শুরু করতে পারেনি সিআইডি। নতুন বছরটির শুরুতেই আমরা তনু হত্যাকারীদের শনাক্ত করার দাবি করছি। আমরা আর বেদনা বয়ে বেড়াতে পারছি না।
কুমিল্লা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি রাশেদা আখতার বলেন,২০১৬সালে দেশে অনেক নারী নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তনু হত্যার বিচার না হওয়ায় এসব ঘটনা বাড়ছে। ২০১৭সালে নারী নির্যাতন মুক্ত একটি বাংলাদেশ চাই।
সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি আলী আকবর মাসুম বলেন,দেশে বিচার ব্যবস্থার উন্নতির কথা বলা হলেও তনুসহ অন্যান্য হত্যাকা-ের বিচার না হওয়ার কারণে মানুষকে হতাশ হতে হচ্ছে। আমরা নতুন বছরের শুরুতেই এসব কালিমা থেকে মুক্ত হতে চাই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং সিআইডি-কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বরাবরের মতো বলেন, মামলাটির তদন্ত কাজ চলছে, তাই এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।