বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯



আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.01.2017

মাসুদ আলম।। থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন ক্রমেই পৃথিবীর সব দেশের সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে এ ক্ষেত্রে সংস্কৃতিগত ও আদর্শিক সংঘর্ষ দেশে দেশে বিদ্যমান। অনেক দেশে এখনও এ ধরণের উৎসব পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়নি। বাংলাদেশেও এ ধরণের উৎসব অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয় ভিন দেশীয় সংস্কৃতি হওয়ার কারণে। তাই অনেক তরুণ থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের পক্ষে থাকলেও ভিন দেশীয় সংস্কৃতি লালন করতে অহীনা প্রকাশ করেছেন।
থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের পক্ষে বাংলাদেশের প্রাচীন শহর কুমিল্লার অনেক তরুণ। ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় এ কলেজে অধ্যয়নরত অর্থনীতি বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এম কে আনোয়ার, মিনহাজুল ইসলাম, মোফাজ্জল হোসেন, বাশার মাহমুদ এবং অনার্স চতুর্থ বর্ষের বাংলা বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামানের সাথে। অন্য দেশের নববর্ষ বাংলাদেশে উদযাপনকে কীভাবে দেখছেন তারা। তাদের মতে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্য সব দেশের সংস্কৃতির সমন্বয়ে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন হলে কোনো সমালোচনার সৃষ্টি হতো না।
অর্থনীতি বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এম কে আনোয়ারের ভাষ্যমতে, বর্তমানে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন হয় বিশৃঙ্খলভাবে একটা রাত কাটানোর জন্য, এলকোহল খাওয়ার জন্য। কিন্তু থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন হওয়া উচিত ছিল বাংলা সংস্কৃতির সমন্বয়ে।
তার মতে, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের পক্ষে তরুণরা। কারণ, বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতির বাইরে নয়। বাংলাদেশ জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। ইনটারনেটের কারণে সারা দুনিয়া এখন এক। সব কিছু বিবেচনায় ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন আমাদের করা উচিত। তবে বাংলাদেশে এ উৎসব উদযাপন হবে নিজেদের সংস্কৃতিতে। তিনি বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বাঙালি সংস্কৃতিতে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন সরকারি টেলিভিশন বিটিভি ওয়ার্ল্ড সম্প্রচারের মাধ্যমে সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারে। ইংরেজি নববর্ষের ধারকদের কাছে আমাদের সংস্কৃতির উদযাপন নতুন কোনো মাত্রা আনবে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু বিদেশি এই উৎসব কীভাবে উদযাপন করা উচিত তার একটা রূপরেখা জাতীয়ভাবে তৈরি করা উচিত। বিদেশি এই উৎসব উদযাপনে আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়ে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা উচিত বলেও এই তরুণদের অভিমত।
তাদের মতে, কীভাবে পালন করা যায় তার রূপরেখা চিন্তা করা উচিত আমাদের সামাজিক অবক্ষয় রক্ষা করার জন্য। থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রচার করা। অনুকরণীয় মনোবৃত্তি নিয়ে ওয়াইন খাওয়া সামগ্রিক তরুণ সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়’ এমন অভিমত বাসার মাহমুদের। থার্টি ফার্স্ট নাইট কীভাবে উদযাপন করে কুমিল্লা শহরের তরুণরা। উপস্থিত সবার সামনে মিনহাজুল ইসলাম জানান, অন্যদিনের তুলনায় বন্ধুরা মিলে সন্ধ্যায় একটু বেশি আড্ডা দেওয়া হয়। এছাড়া আতশবাজি ফাটানো, বন্ধুরা মিলে রান্না করে খাওয়া। কিন্তু এলকোহল সাধারণ তরুণদের মাঝে এখনও আসেনি।
কুমিল্লা শহরে তরুণদের মিলন মেলা- কান্দির পাড়, টাউন হল, ধর্ম সাগর পাড়। কিন্তু অন্য শহরের তরুণদের মিলন স্থানের মতো কুমিল্লা শহরে থার্টি ফার্স্ট নাইটের উচ্ছৃঙ্খলা তাদের চোখে পড়েনি। থার্টি ফার্স্ট নাইটের নিরাপত্তা নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে দেওয়া হয়। এমন ধারণা এই তরুণদের। তবুও এ বিষয়ে এম কে আনোয়ার বলেন, এই নিরাপত্তার পেছনে দুটি বিষয় কাজ করে। প্রথমত: জঙ্গি তৎপরতা। দ্বিতীয়ত: রাষ্ট্রের দায়িত্ব আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া।
এ ক্ষেত্রে তিনি মনে করেন, নৈতিক চিন্তার উন্মেষ না ঘটিয়ে নিরাপত্তা দিলে ব্যক্তিগতভাবে খারাপ কাজের মাধ্যমেই থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন হবে। নিরাপত্তাকে ভালো কাজে লাগানোর জন্য প্রথমে নৈতিকতার স্থান তৈরি করতে হবে। শুধু নিরাপত্তা দিলে থার্টি ফার্স্ট নাইটে উচ্ছৃঙ্খলতা আরো বাড়বে। বাংলাদেশে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন ৯০-এর দশক থেকে শুরু হয়। বর্তমানে অনেকে পারিবারিকভাবেও উদযাপন করছেন থার্টি ফার্স্ট নাইট।