শুক্রবার ১৬ GwcÖj ২০২১


কুবি উপাচার্যকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের ২৪ ঘন্টা সময়সীমা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
15.01.2017

কুবি প্রতিনিধি॥
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুবি) কলা অনুষদের ডিন এম এম শরীফুল করীম দ্বারা প্রগতিশীল শিক্ষক মো: আবুল হায়াত লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারে কালক্ষেপন করায় কুবি উপাচার্যকে ২৪ ঘন্টার সময়সীমা বেধে দিয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।  রোববার বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আলী আশরাফের সাথে দেখা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিভাগীয় প্রধান, অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য থেকে অব্যহতি দিতে এ সময়সীমা বেধে দেন। বেধে দেওয়া  সময়সীমার মধ্যে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না নিলে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কঠোর আন্দোলনে যেতে পারে বলে জানান পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর ইংরেজি বিভাগের ইভেনিং মার্স্টাস (ইএমএ) প্রোগ্রামের প্রশ্ন মডারেশনের স্থান নিয়ে ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ অবুল হায়াতকে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সভাপতি এম. এম. শরীফুল করীম লাঞ্ছিত করেন ও মারতে উদ্ধ্যত হন। ১৮ ডিসেম্বর লাঞ্ছনার উপযুক্ত বিচারের আবেদন করে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেন ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষক। প্রশ্ন মডারেশন নিয়ে আবুল হায়াত নিয়মের কথা বললে শরীফুল করীম ক্ষিপ্ত হয়ে দ্রুত গতিতে নিজ চেয়ার থেকে উঠে ‘তুমি চেন, আমি কে? ফাজিল, বদমাশ, বেয়াদব, শালা’ বলে অশালীন ভাষা প্রয়োগ করে তেড়ে আসেন। জনাব করীম পূর্বে বিভিন্ন সময় একাডেমিক কমিটির সভায় এবং বিভাগের বিভিন্ন কাজের সময় জনাব হায়াতকে  বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন। বিভাগের একাডেমিক সভায় সকল শিক্ষকের সামনে দাম্ভিকতা ও হুমকি দিয়ে প্রায়ই শরীফুল করীম বলেন, ‘পূর্বে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মারার রেকর্ড আছে’ এমন অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আবুল হায়াত জীবনের নিরাপত্তাহীনতা বোধ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় গেলে প্রথমে ডায়েরি নেয়নি থানা। পরে গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর সাধারণ ডায়েরি নেয় থানা।
এ দিকে বিষয়টির তদন্তের জন্য প্রায় ১৫ দিন পরে ১১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধক্ষ্য অধ্যাপক কুন্ডু গোপীদাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার এত দিন পরে তদন্ত কমিটি গঠন করায় প্রগতিশীল শিক্ষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তদন্ত সুষ্ঠ হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষকবৃন্দ।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আলী আশরাফ বলেন, ‘তারা আমার সাথে দেখা করে শরীফুল করীমকে সকল পদ থেকে সাময়িক অব্যহতি দেয়ার বিষয়ে কথা বলেছে।’