শুক্রবার ১৬ GwcÖj ২০২১


বছরের ১৬ দিনেও শতভাগ বই পায়নি কুমিল্লার শিক্ষার্থীরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.01.2017

মাসুদ আলম।। নতুন বছরের ১৬দিন অতিবাহিত হলেও কুমিল্লা জেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ নতুন বই হাতে পায়নি শিক্ষার্থীরা। নতুন বছরের বই উৎসব প্রদর্শনীতেই এখনও আটকা পড়ে আছে কুমিল্লা শহরে বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনগুলো। ওই সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কিন্ডারগার্টেনগুলো বই বিতরণে নয়ছয় করছে বলে জানান অভিভাবকরা। ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত দুই একটা বইয়ে সীমাবদ্ধ। ৬ম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরাও হাতে পায়নি শতভাগ বই। শুধু তাই নয় কিছু কিছু কিন্ডারগার্টেন টাকার বিনিময়ে বই বিতরণ করার অভিযোগও করেন অভিভাবকরা।
শনিবার ও রোববার সরেজমিনে গিয়ে অভিভাবকদের সূত্র জানা যায়, বছরের প্রথম দিন পয়লা জানুয়ারি ছিল সারাদেশে বই বিতরণ উৎসব। ঠিক ঐ সময় বই উৎসব থেকে বঞ্চিত হয় কুমিল্লা মহানগরীর মিশনারি স্কুল ও মডার্ণ স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। ওই সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে সেই বই বিতরণ হয়েছে ৬/৭দিন পর। গতকাল ১৬ তারিখ অতিক্রম করলেও শিক্ষার্থীদেরকে শতভাগ বই দিতে ব্যর্থ হয় ওই সব নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
কুমিল্লা জিলা ও কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক মুন্নি আক্তার ও ফারজানা আক্তার জানান, আজ নতুন বছরের ১৬দিন অতিবাহিত হলেও জিলা স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণি ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শতভাগ নতুন বই হাতে পায়নি। তারা বলেন, জেলা শহরের সবচেয়ে নামিদামি এ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য বাঘে-মহিষে লড়াই করতে হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে তাদের তেমন দরদ নেই। এছাড়াও ভর্তি ফি, মাসিক বেতন ও সেশন ফি বাড়ানোর হিড়িক চলছে বলেও জানান তারা।
আরেকজন অভিভাবক রাবেয়া বেগম জানান, মিশনারিতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে সপ্তম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে আমার মেয়ে নূসরাত জাহান। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী বছরের প্রথম দিন বিদ্যালয়ে সকাল থেকে অবস্থান করে বই হাতে পাইনি। শিক্ষকরা নাকি বলছেন, নতুন ক্লাসে ভর্তি ছাড়া বই দেওয়া হবে না। ওই বইয়ের জন্য বিদ্যালয়ে পর পর তিন দিন গিয়ে ফেরত আসতে হয়েছে।
মিশনারি স্কুলের দুইজন ছাত্রী তাইফা ও মিম জানায়, প্রতি বছরেই আমাদেরকে ৭/৮ তারিখে বই দিত স্কুল থেকে। এ বছরও ৭ তারিখে আমাদেরকে নতুন বই দেয় স্কুল থেকে।
মডার্ণ হাই স্কুলের শিক্ষার্থী সিদরাতুল মোনতাহাব লাবিব বলেন, আজ নতুন বছরের ১৬ দিন শেষ হলেও সবগুলো বই এখনো হাতে পায়নি। এদিকে আমাদেরকে বছরের প্রথম দিন বই দেয়নি। ৩ তারিখে কিছু বই পেয়েছি, আমার মতো বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী তিন দিন ধরে ঘুরেও বই পায়নি।
কিন্ডাগার্টেনের কয়েকজন অভিভাবক ফাতেমা আক্তার, রেজিনা বেগম, মো.শাহাজান, মহিউদ্দিন জানান, নগরীর অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেনগুলো শিক্ষার নামে ব্যবসা চালিয়ে আছে। সরকারি বই বিতরণ করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরকে হয়রানি করছে। বছরের শুরুতে বই বিতরণের নামে ভর্তি ফি, ৩ মাসের অগ্রিম বেতন ও অন্যান্য ফি আদায় না করলে বই না দিয়ে নয় ছয় করে। এমনকি সরকারি বই বিতরণে তার মূল্যও হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন অভিভাবকরা।
এ ব্যাপারে কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নার্গিস আক্তার বলেন, কিছু নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই একটা বাকী থাকলেও শতভাগ বই বিতরণ করেছি আমরা। ভর্তি ফি ও বেতন নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য নয়। আমরা সরকারের নীতিমালা মোতাবেক ভর্তি ফি ও বেতন আদায় করছি।
কুমিল্লা মিশনারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার মেরি শিখা বলেন, ১ জানুয়ারি খ্রিষ্টান ধর্মের একটি দিবস আছে। ওই দিবস পালন করতে গিয়ে আমরা পয়লা জানুয়ারি বই বিতরণ করতে পারি না। তবে আগামী বছর থেকে আমরা পয়লা জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন বই বিতরণ করতে চেষ্টা করবো। তিনি আরো বলেন, আমরা এখনো শতভাগ বই হাতে পাইনি। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র আমাদের জানিয়েছে ডিজিটাল ও উদ্ভাবনী মেলা থাকার কারণে আমাদেরকে বাকী বইগুলো দিতে সময় লাগছে।
কুমিল্লা মডার্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আঞ্জুম সুলতানা সীমা বলেন, আমরা শতভাগ বই পেয়েছি। এমনকি শিক্ষার্থীদেরকেও শতভাগ নতুন বই দিয়েছি।
কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকা মমতাজ বেগম বলেন, স্কুলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে সবাইকে একদিনে বই দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই সবার মধ্যে নতুন বই বিতরণ করতে কয়েকদিন সময় লেগেছে।
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল মজিদ বলেন, ঢাকা থেকে আমরাও শতভাগ নতুন বই হাতে পাইনি। তাই কিছু উপজেলা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ বই দিতে সময় লাগছে। আশা করি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে বাকী বইগুলো শতভাগ পৌঁছে দিতে পারবো।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রত্যেকটি সরকারি স্কুল শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বই পাঠিয়ে দিয়েছি পয়লা জানুয়ারির আগেই। তবুও কেন বছরের ১৬ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা শতভাগ বই হাতে পায়নি,বুঝতে পারছি না? যে সব প্রতিষ্ঠান বই বিতরণে অনিয়ম করছে তার তালিকা করে ব্যবস্থা নিব। তবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমাদের ক্ষমতা নেই বললেই চলে। এতে তারা হাজারো অনিয়ম করলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা জেলা প্রশাসক ছাড়া আমরা সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারি না। এদিকে মিশনারি ও মডার্ণ স্কুল পয়লা জানুয়ারিতে বই না দিয়ে ৭/৮ দিন পর বই বিতরণের যে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।