শুক্রবার ১৬ GwcÖj ২০২১


মহাসড়ক যেন মৃত্যুকূপ!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
18.01.2017

মাসুদ আলম।।
অদক্ষ চালকের বেপোরোয়া গতি এবং সড়ক ও ট্রাফিক আইন অমান্য করে গাড়ি চালানোর কারণে মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ। এতে প্রায় প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। এতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রীদের মধ্যে। সাধারণ যাত্রীরা মনে করেন গাড়ি চালকদের অসর্তকতার ও অসচেতনতার কারণে হাইওয়েতে দুর্ঘটনা বাড়ার প্রধান কারণ। গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিগত দেড়মাসে দিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ১৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছে ৩৫ প্রাণ, আহত ও পুঙ্গ হয়েছে ১০২ জন। যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
হাইওয়ের সূত্র জানায়,১৪ জানুয়ারি শনিবার কুমিল্লার দাউদকান্দি জিংলাতলীতে বাস খালে পড়ে একই পরিবারের ২সহোদরসহ ৬ জন নিহত হয়, এতে আহত হয়েছে ৩৫ জন। নিহত সবার বাড়ি নীলফামারী জেলায়। ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকাগামী একটি ইজতেমা যাত্রীবাহী বাস দাউদকান্দি দৌলতপুর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৩৪ আহত হয় এতে এক ইজতেমা যাত্রী নিহত হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ দয়াপুর এলাকায় পিকআপ ও ট্রাকের সংঘর্ষে হাঁস ব্যবসায়ী দুই সহোদরসহ চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের সবার বাড়ি ছিল সিলেট মৌলভীবাজার জেলায়। এছাড়াও বিগত দেড়মাসে বাবা-ছেলে, মা-ছেলে, দুই বোন, বাবার কোলে ছেলেসহ প্রায় ১৮টি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৩৫ এর চেয়েও তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। এতে আহত ও পুঙ্গত্ব হয়েছে ১০২ যাত্রী ও পথচারী। এ সব দুর্ঘটনার বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, খালে পড়ে এবং মুখোমুখি সংঘর্ষে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোরলেন হওয়ার পরও অদক্ষ চালকের বেপোরোয়া গতি, সড়ক ও ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ফোরলেনের উল্টোবাক না দেখে খেয়ালখুশিমত ওভারটেক করাসহ বিপদজনক বাঁকে চালকদের অসর্তকতার কারণেই দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে বলে তারা জানান। আর এসব দুর্ঘটনার কারণেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কে এখনো যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে।
হাইওয়ে পুলিশ সুপার অফিস সূত্র জানায়, হাইওয়েতে দুর্ঘটনা এড়ানো এবং যানজট নিরসনের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক কিছু করণীয় আছে। শুধু চাহিদা থাকার কারণে যথাযথ ভাবে হচ্ছে। আমাদের জনবল সঙ্কট, এ্যাম্বুলেন্সের ও পুলিশ ভ্যানের অভাব। এছাড়াও দাউদকান্দি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত হাইওয়ের বিশাল আয়তনের পরিমাণ অনুসারে সে পরিমাণ পুলিশ ফাঁড়িও নেই। এতে করে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি এবং আহত-নিহতদের উদ্ধার করতে সময় লেগে যায়। আহতদের সাথে সাথে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয় না।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রী মোঃ আমানউল্লাহ ও শাহাজান ভূঁইয়া জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যেভাবে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে, এতে করে জনগণের মনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি চালকদের ড্রাইভিং করার সময় ফোনে কথা বলা এবং সিগারেট খাওয়ার বিষয়টি আইনের আওতায় আনা উচিত। এমনকি অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি, সড়ক ও ট্রাফিক আইন অমান্য করা চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক আইন করা উচিত। তা না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে দিনের পর দিন প্রাণ ঝরতেই থাকবে।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা হাইওয়ের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ জেলার বিভিন্ন মহাসড়কগুলো দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে অবশ্যই চালককে সচেতন নাগরিক হতে হবে। কারণ একটি গাড়ি চালাতে হলে চালকে যে সব বিধি বিধান গুলো মেনে চলতে হয়, তা চালকরা মানছেন না। এতে করে দুর্ঘটনার পরিমাণ বাড়ছে। যে ভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দিনের পর দিন দুর্ঘটনা বাড়ছে এগুলো কমিয়ে আনতে হলে ঝুকিপূর্ণ পরিবহন পরিহার করতে হবে। এমনকি চালককে সচেতন হতে হবে। তবে আমাদের এ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশ ভ্যানের অভাব রয়েছে। এছাড়াও হাইওয়ের আয়তন অনুসারে সেই পরিমাণ পুলিশ ফাঁড়ি নেই। এতে করে দুর্ঘটনা কবলিত স্থানে সাথে সাথে পৌছানো সম্ভব হয় না।