শুক্রবার ১৬ GwcÖj ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » তারেক সাঈদের বিরুদ্ধে হিরু-হুমায়ুনসহ বাকি গুম খুনের অভিযোগগুলোর কী হবে ?


তারেক সাঈদের বিরুদ্ধে হিরু-হুমায়ুনসহ বাকি গুম খুনের অভিযোগগুলোর কী হবে ?


আমাদের কুমিল্লা .কম :
18.01.2017

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নারায়ণগঞ্জে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় র‌্যাবের চাকরিচ্যুত কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদের ফাঁসির আদেশের পর প্রশ্ন উঠেছে তার বিরুদ্ধে কুমিল্লার লাকসামের বিএনপি নেতা হিরু-হুমায়ুনসহ গুম-খুনের অন্য অভিযোগগুলোর কোনও সুরাহা  হবে কি না। ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার আগে ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লাসহ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জেই আরও কিছু গুম খুনের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি তার জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তবে সেসব ঘটনাকে কখনোই আমলে নেওয়া হয়নি।
এদিকে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলার কোনও সুযোগ নেই। কারণ এই তারেক সাঈদের বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও অভিযোগ আমাদের কাছে আগেও এসেছে।’
গত সোমবার সকালে বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার রায়ে ২৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। এ মামলায় র‌্যাবের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ ও সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ আসামিকে মৃত্যুদ-াদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি ৯ আসামির ৭ থেকে ১০ বছর মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে ২৩ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জনই র‌্যাবের সাবেক সদস্য।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার কাঠগড় এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে নিখোঁজ হন লক্ষ্মীপুর হাজিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক। ওই সময়ে তার স্ত্রী পারভীন আক্তার অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জের র‌্যাব-১১-র সিও তারেক সাঈদের নির্দেশে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওমর ফারুকের স্ত্রী পারভিন আক্তারের অভিযোগ, ৪ তারিখ ভোরে কাঠগড় এলাকার তাদের আত্মীয়ের বাসায় কালো পোশাকধারী ৬-৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য প্রবেশ করে ওমর ফারুককে ধরে নিয়ে যায়।
একইরকম অভিযোগ করেছিলেন, কুমিল্লার লাকসামের সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবীর পারভেজ নামের দুই ব্যক্তির পরিবার। এই ঘটনায় কুমিল্লা আদালতে মামলা করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। হিরুর ছেলে রাফসানুল ইসলাম অভিযোগ করেছিলেন, থানা মামলা না নেওয়ায় তাদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। এ ঘটনায় তারা সরাসরি তারেক সাঈদের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেছিলেন।
সাত খুনের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ওই বছরই মে মাসের দিকে একে একে সামনে আসে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদের নির্দেশে আরও গুম এবং অপহরণের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার বিভিন্ন অভিযোগ।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের কর্মী ইসমাইল হোসেনকে অপহরণের অভিযোগ তুলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ইসমাইলকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে র‌্যাবের কর্মকর্তা তারেক সাঈদ সরাসরি তাদের কাছে দুই কোটি টাকা দাবি করেছিলেন৷ সাত খুনের ঘটনার তিন মাস আগে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে ইসমাইলকে (৫০) তার এক বন্ধুর সামনে থেকে অপহরণ করা হয়।
সে সময় ইসমাইলের ছোট ভাই আবদুল মান্নান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ৭ ফেব্রুয়ারি তার ভাই ইসমাইল বন্ধু হিরনের গাড়িতে করে বাসায় ফিরছিলেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকায় একটি মাইক্রোবাস তাদের গাড়িটির গতিরোধ করে। মাইক্রোবাসের সবার হাতে অস্ত্র ছিল। তারা র‌্যাব পরিচয় দিয়ে ইসমাইলকে তুলে নিয়ে যায়। এ অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে পুলিশ বলে, আমাদের কিছুই করার নেই। আপনারা র‌্যাবের অফিসে যান। এরপর ভাবিকে সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাব-১১-এর কার্যালয়ে গেলে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, ‘আমরা প্রতিটা গুম-খুনের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছিলাম। সাত খুনের মামলার রায় হওয়ায় আমি আংশিক স্বস্তি বোধ করছি। কারণ আরও অনেক অভিযোগ আমরা পাচ্ছিলাম। লক্ষ্মীপুরের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, যদি সেসময় ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হতো তাহলে হয়তো সাত খুনের ঘটনাই ঘটতো না।
২০১৪ সালে একের পর এক ঘটনায় র‌্যাবের তদানীন্তন কর্মকর্তা তারেক সাঈদের সম্পৃক্ততার কথা বলতে গিয়ে নূর খান বলেন, ‘সেসময় একের পর এক অভিযোগ আসছিল তার বিরুদ্ধে। আর একই জায়গা থেকে বেশিরভাগ ঘটনাগুলো ঘটেছিল। সিদ্ধিরগঞ্জে ইসমাইলকে অপহরণের ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, উল্টো দিক থেকে আসা একটি বাসের যাত্রীদের বিবরণ থেকেই বুঝা যায় এটি কোনও সাধারণ অপহরণের ঘটনা নয়, এর সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবশ্যই জড়িত।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিবেশভিত্তিক আইনি সংগঠন বেলা’র পরিচালক রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এ বি সিদ্দিকের ঘটনাটিও একই রকমের। তবে তিনি ফিরে এসেছিলেন, বাকিরা সে সুযোগও পায়নি। এরপরও ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে একধরনের ইগনোর করার (এড়িয়ে যাওয়া) পরিস্থিতি প্রশাসনে সেসময় দেখা গিয়েছিল। সেটা ক্ষতির কারণও হয়েছিল।’
এ বিষয়ে কথা বলতে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের কেউ কথা বলতে চাননি।