শুক্রবার ২৩ অগাস্ট ২০১৯
  • প্রচ্ছদ »sub lead 1 » শহীদ জিয়াই ছিলেন বাংলাদেশের সমূদ্রসীমা অর্জনের নেপথ্য নায়ক – কাজী ফখরুল আলম


শহীদ জিয়াই ছিলেন বাংলাদেশের সমূদ্রসীমা অর্জনের নেপথ্য নায়ক – কাজী ফখরুল আলম


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.01.2017

মহানায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কতটা দূর-দৃষ্টি সম্পন্ন নেতা ছিলেন তা তাঁর কর্মের মধ্যেই প্রতিফলিত, ২০১২ সালে বাংলাদেশের সমূদ্র জয়ের যে মহা উৎসব আয়োজন করে কৃতিত্ব দাবি করলো বর্তমান সরকার, তার নেপথ্য নায়ক ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

শহীদ জিয়া জানতেন প্রচলিত সমূদ্র আইন অনুযায়ী সমদূরত্ব পদ্ধতিতে সমূদ্রসীমা নির্ধারন করলে বাংলাদেশ সাগরে তালাবদ্ধ হয়ে পড়বে। কারন বাংলাদেশের ২০০ নটিক্যাল মাইল যেখানে শেষ, সেখান থেকে আমাদের আউটার মহীসোপন অর্থাৎ গভীর সমূদ্রযাত্রা বাধাগ্রস্থ হয়। কারন মিয়ানমারের ২০০ নটিক্যাল মাইলের সমূদ্রসীমা বাংলাদেশের পথ আটকে দেয়। গভীর সমূদ্রে তালাবদ্ধ হয়ে পড়ি আমরা। আর তাই দূর-দৃষ্টি সম্পন্ন জিয়া ভবিষ্যতের বিপদ আঁচ করে তখন থেকেই আন্তর্জাতিক সমূদ্র আইনে ‘‘ন্যায়পরায়নতার নীতি’’ সংযোজনে প্রচন্ড চেষ্টা চালিয়ে যান। আর এক্ষেত্রে কুটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্ত মুসলিম দেশগুলোসহ অন্যান্য দেশকেও বাংলাদেশের পক্ষে নিয়ে আসেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল যিনি জিয়ার আমলে অ্যার্টনী জেনারেল ছিলেন এ বিষয়ে তাঁকে শুরু থেকে যুক্ত করা হয়। ১৯৭৭ সালের ২৩ মে থেকে ১৫ জুলাই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সমূদ্র বিষয়ক একটি দীর্ঘ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সম্মেলনে বাংলাদেশ ‘‘ন্যায়পরায়নতার’’ সংশোধনী আনে এবং এর স্বপক্ষে লবি শুরু করে। ঐ সম্মেলনে ২৩ জুন ১৯৭৭ বাংলাদেশের প্রস্তাবের উপর ২৮ টি দেশ আলোচনায় অংশ নেয়। প্রথম বক্তা সৌদি আরব বলেছিল বাংলাদেশের উপকুলের যে অনন্য বৈশিষ্ট্য, সেটা বিশ্বের বিবেচনায় নেয়া উচিত, তার প্রস্তাব ন্যায্য ও যুক্তি সংগত। ইরান, বাহরাইন, তুরস্ক, সিরিয়া, বেলজিয়াম, রুমানিয়া, সোমালিয়া, মরক্কো, কাতার, সেনেগাল, আলজেরিয়া, ইয়েমেন, যুগোস্লাভিয়া ও ফিলিস্তিন বাংলাদেশের প্রস্তাবকে সমর্থন করে।
পাকিস্তান বলেছিল, বাংলাদেশের প্রস্তাব সুষ্ঠু ও ন্যায্য, ৫০ টি দেশ তা সমর্থন করেছে, তাই সমূদ্র আইনে এর ঠাঁই পাওয়া উচিত। মিশর বলেছিল এটা আইনানুগ ও ন্যায্য। গাদ্দাফির লিবিয়া ‘উষ্ণ সমর্থন’ দেয়। আফগানিস্থান বলেছিল, বাংলাদেশের সমস্যা ব্যতিক্রমী,  তাদের সংশোধনী প্রস্তাব আইনে অন্তর্ভুক্ত হোক।
১৪তম বক্তা ছিল ভারত। ভারতীয় প্রতিনিধি বলেছিলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের ভৌগলিক ও সামুদ্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তাদের প্রস্তাব পরীক্ষা করে দেখব। তবে ভারতের এ মূহুর্তে দুটি আপত্তি রয়েছে। বাংলাদেশের শর্তে বেজলাইন স্থির করা হলে তা সমুদ্রসীমা ও ইইজেড নির্ধারনে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু মিয়নামার নীরব থাকে।
এই সম্মেলনে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গুলো বেশী সরব ছিলো। বার্বাডোজ বলেছিল, বাংলাদেশ অবিরাম পাললিক ক্ষয়সাধন সমস্যায় ভুগছে। তাদের প্রস্তাব আইনকে আরও উন্নত করবে। মাল্টা, বাহামা ও সেনেগাল শুধু সমর্থনই নয়, তারা বাংলাদেশের পক্ষে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও তুলে ধরেছিলো। ইন্দোনেশীয় প্রতিনিধি হাস্যরস সঞ্চার করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন,‘মাননীয় চেয়ারম্যান, বাংলাদেশের সংশোধনী বিশাল সমর্থন লাভ করেছে,  আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন, তাদের প্রস্তাব ইতিমধ্যে মতৈক্য সৃষ্টি করেছে।’ এর পরই হাসির রোল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কে এম কায়সার সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘অন্যের স্বার্থ ক্ষতি করে নয়, বাংলাদেশের চাওয়া হলো তাকে যেন প্রকৃতির কারনে খেসারত দিতে না হয়, তালাবদ্ধ হতে না হয়।’
সেদিন সম্মেলন কক্ষে কেউ প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেনি।
পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ‘ন্যায়পরায়নতার’ বিধানটি আইনে পরিনত হয় এবং ২০১২ সালে ঐ আইনের সুফল পায় বাংলাদেশ এবং সাগরে তালাবদ্ধ হওয়া থেকে বেঁচে যায়।
ন্যায়পরায়নতা আইনের কারনে আদালত আমাদের রায়ের ক্ষেত্রে এক ধরনের করিডোর সৃষ্টি করেন। নামকরন করেন ‘ধূসর এলাকা’, এর মাছ খাবে মিয়ানমার, তলদেশের খনিজ তুলবে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের আপত্তি সত্ত্বেও ২০০ নটিক্যাল মাইলের পর বাংলাদেশের আউটার মহীসোপানের সূচনা তীর চিহ্ন দিয়ে ইটলস নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। ফলে ঐ ধূসর এলাকা পেরিয়ে আমরা অবাধে আউটার মহীসোপানে যাতায়াত করতে পারবো।
দুঃখ হয়, শহীদ জিয়ার অনুসূত নীতির ফলেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতে পক্ষে রায় পেলেও আজ অনেকে কথায় কথায় তাদের কৃতিত্ব দাবী করেন। শহীদ জিয়ার অবদানের কথা জানা সত্ত্বেও একটি বারও তাঁর নাম উচ্চারন না করে নতুন প্রজন্মকে ধোঁকা দিতে চান। ধিক্- তাদের এই নোংরা রাজনীতিকে।

তথ্যসূত্র:- সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান
প্রথম আলো ৪ এপ্রিল-২০১২।