শুক্রবার ১৬ GwcÖj ২০২১


নতুন ইসির অধীনে মার্চেই তফসিল


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.01.2017

স্টাফ রিপোর্টার।। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রীট খারিজ করে দিয়েছে আদালত। আদালতের রায়ের কপিও ইতিমধ্যে চলে গেছে ইসিতে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকেও কুমিল্লা সিটি নির্বাচন করার ব্যাপারে সরকারের অনাপত্তি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে কমিশন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নতুন নির্বাচন কমিশন শপথ নেয়ার পর মার্চেই কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সূত্র। একই সূত্র নিশ্চিত করে বলেছেন, কুমিল্লা নির্বাচন অফিসকেও তাদের প্রস্তুতি শুরু করতে বলা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা নির্বাচন অফিসার রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রাক প্রস্তুতি আমাদের নেয়া আছে। তফসিল ঘোষনা হলে পরবর্তী কার্যক্রম আমরা শুরু করব। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর এটা হবে দ্বিতীয় নির্বাচন এবং দলীয় প্রতীকের এটা হবে প্রথম এবং নতুন নির্বাচন কমিশনের ও এটা হবে প্রথম নির্বাচন। এ দিকে, রীট খারিজের কথা শুনে নতুন করে নির্বাচনের তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশরেন নির্বাচন করা প্রত্যাশী সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রর্থীরা।

জানা যায়, বর্তমান নির্বাচন কমিশন গেল বছরের  ২০ ডিসেম্বর কুমিল্লা  সিটি করপোরেশনের ২য় নির্বাচন সম্পন্ন করতে একটি সম্ভাব্য সময় সামনে রেখে তাদের কাজ শুরু করলেও ওই সময়ে সীমানা সংক্রান্ত হাই কোর্টে একটি রীটকে কেন্দ্র করে আটকে যায় নির্বাচনের প্রক্রিয়া। ফলে নারায়নগঞ্জের সাথে নির্বাচন করা সম্ভব হয়ে উঠে নি কুমিল্লার। কুসিকের নির্বাচন সম্পন্ন করা নিয়ে আইনী জটিলতার ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে নির্বাচনের। কিন্ত চলতি বছরের চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে রীটটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় সব অনিশ্চিয়তা কেটে যায়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিটি-১ এর দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম ১৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার  সেল ফোনে জানান, কুসিক নির্বাচন নিয়ে যে রীটটি করা হয়েছিল হাইকোর্ট তা খারিজ করে দিয়েছে শুনেছি। কিন্ত আমাদের কাছে এখনো কোন সার্টিফাইড কপি আসে নি। আর এটা মন্ত্রনালয়ের বিষয় না। এটা সরাসরি ইসিতে যাবে। নির্বাচনের ব্যাপারে মন্ত্রনালয় থেকে কোন সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রশাসনিক এই কর্মকর্তা বলেন, এটা ইসির এখতিয়ার। যেহেতু মামলা খারিজ হয়ে গেছে তাই তারা যে কোন সময় তফসিল এখন ঘোষনা করতে পারে।
এ দিকে, মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে এ  সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আমাদের সম্পূর্ন হোম ওয়ার্কও বলতে পারেন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যেহেতু আগামী মাসে বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং নতুন ইসি যোগদান করবেন তাই এখন আর তফসিল ঘোষনার কোন সম্ভাবনা দেখছি না। তবে এটা বলতে পারি, আমাদের নতুন ইসির প্রথম কাজই হবে সম্ভবত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এবং এর তফসিল ঘোষনা হতে পারে মার্চ মাসে। তবে নতুন ইসি যদি কাজের সুবিধার্থে কিছুটা সময় নেন তাহলে এপ্রিলও মাসেও তফসিল ঘোষণা হতে পারে।
এ দিকে, কুমিল্লা জেলা নির্বাচন অফিসার রাশেদুল ইসলাম বলেন,  কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের নিয়ে আমাদের প্রাথমিক কাজ শেষ পর্যায়ে। তফসিল ঘোষনা হলেই পরবর্তী কার্যক্রম আমরা শুরু করব।
কুমিল্লা জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে বর্তমানে মোট ভোটার ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ  ভোটার ৯৬ হাজার ৯৬৫ জন ও নারী ভোটার ১ লক্ষ ৩৪৪ জন।  প্রথম সিটি নির্বাচনে বিএনপি নেতা মনিরুল  হক সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী  আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজল খান অ্যাড.পেয়েছিলেন ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট পেয়ে । ওই নির্বাচনে ৯ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে অপর ৭ জনই জামানত হারান।
জানা যায়,  ২০১১ সালের ১০ জুলাই ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভা একিভূত করে ৫৩ দশমিক ০৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুসিকের (কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন) প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
পেছনের কথা :
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের  মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে নতুন করে মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের এলাকা ৫৩ দশমিক ৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তন থেকে বাড়িয়ে ১৫০ বর্গ কিলোমিটার করার প্রস্তাব করা হয়। গেল বছর  এ  সংক্রান্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন  প্রস্তাবনা পাঠানোর পর নির্বাচন সম্পন্ন করা নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। প্রস্তাবিত নতুন মাস্টার প্ল্যান ৩ মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করে নির্বাচন দিতে হাইকোর্ট থেকে এক নির্দেশনা দেয়ার পর তৎসময়ে অনিশ্চিয়তায় পড়েছিল সিটি নির্বাচন।
জানা যায়, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবিত নতুন করে সীমানা বর্ধিতকরণ অংশে বিজয়পুর, চৌয়ারা, গলিয়ারা, পশ্চিম জোড়কানন, জগন্নাথপুর, পাঁচথুবি, দুর্গাপুর উত্তর ও দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের আংশিক এলাকা যুক্ত করা হয়েছে। এতে সিটি করপোরেশনের সীমানা প্রায় ৩ গুন বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ১৩ অক্টোবর ২০১৬  হাইকোর্টের এই আদেশের অনুলিপি পাওয়া যায়। জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকা সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তাবিত মৌজাসমূহের বিবরণ নিম্নরূপ:
২২নং ওয়ার্ড বিজয়পুর ইউনিয়নের প্রস্তাবিত মৌজা চাঁদপুর, শিকারপুর, মোহনপুর, সাবেক চৌয়ারা দক্ষিণ গোপিনাথপুর (অংশ), দক্ষিণ রামপুর, বড় দূর্গাপুর।
২৫নং ওয়ার্ড চৌয়ারা ইউনিয়নের প্রস্তাবিত মৌজা উত্তর গোপালনগর, দক্ষিণ গোপালনগর, মোস্তফাপুর (অংশ), বড় দূর্গাপুর, রামচন্দ্রপুর, শ্রীমন্তপুর, হরকল (প্রতাপপুর) নলচর।
২৭নং ওয়ার্ড চৌয়ারা ইউনিয়নে প্রস্তাবিত মৌজা চাষাপাড়া, গলিয়ারা ইউনিয়নে ফুলতী ও রাজাপুর এবং পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়নে বানিপুর, উলুইন।
১৮ ও ২৬নং ওয়ার্ড জগন্নাথপুর ইউনিয়নে প্রস্তাবিত মৌজা কুচাইতলী, বারপাড়া, চাঁপাপুর, রঘুপুর, ধনপুর, বালুতুপা, দূর্গাপুর।
৬ ও ৪নং ওয়ার্ড পাঁচথুবি ইউনিয়নে প্রস্তাবিত মৌজা ডমুরিয়া চাঁন্দপুর, শুভপুর (অংশ), শালদা (অংশ), উত্তর শ্রীপুর, উত্তর মাঝিগাছা (অংশ)
২নং ওয়ার্ড পাঁচথুবি ইউনিয়নে প্রস্তাবিত মৌজা নিজ বানাসুয়া (অংশ), বানাসুয়া (অংশ), আমড়াতলী।
৩নং ওয়ার্ড দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নে প্রস্তাবিত মৌজা উত্তর রসুলপুর, আড়াইওড়া, শাসনগাছা, পশ্চিম নোয়াপাড়া, চম্পকনগর, দক্ষিণ বলরামপুর, শুভকরপুর, রহিমপুর।
২৩ ও ৭নং ওয়ার্ড দূর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে প্রস্তাবিত মৌজা আহমেদপুর, পশ্চিম রাজেন্দ্রপুর, শ্রীধরপুর, বড় আলমপুর, ছোট আলমপুর, ভাংতা, আমতলি, বালিখাড়া, উত্তর দূর্গাপুর, আড়াইওরা, উত্তর রসুলপুর, শামাজাদিপুর, আলেখারচর, শভকরপুর, গুনান্দি, রহিমপুর, আহমেদপুর, দৌলতপুর।
৩নং ওয়ার্ড দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নে প্রস্তাবিত মৌজা নিজ বানুসুয়া, বদরপুর, আড়াইওরা, উত্তর দূর্গাপুর, শুভকরপুর, পশ্চিম নোয়াপাড়া, রহিমপুর, দক্ষিণ রাজাপুর, চম্পকনগর, দৌলতপুর, দক্ষিণ বলরামপুর, মদিনানগর।
২৪নং ওয়ার্ড বিজয়পুর ইউনিয়নে প্রস্তাবিত মৌজা লালমাই ও শালবন।
২২ ও ২৩নং ওয়ার্ড বিজয়পুর ইউনিয়নে প্রস্তাবিত মৌজা সুলতানপুর, শ্যাওড়াতুলি, কৃষ্ণপুর, হাড়াতলী, ঘোষগাঁও, তুলাতলী, সানন্দা, গাবতলী ও কিসমত।
গত ১৫ জুন ২০১৬  কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মাসিক সভায় মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী এর এলাকা ৫৩ দশমিক ৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তন থেকে বাড়িয়ে ১৫০ বর্গ কিলোমিটার করার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার ৪ মাস পর সেই প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল নগরজুড়ে। ফলে স্বাভাবিক কারনেই  নির্ধারিত সময়ে কুসিকের নির্বাচন সম্পন্ন করা যায় নি বলে সচেতন মহলের অভিমত। এ দিকে,  কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মাহাবুবুর রহমান এবং নগরীর শুভপুরের বাসিন্দা খুরশিদ আলমের ছেলে হাবিব মিয়া গত ৫ অক্টোবর ২০১৬ হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এতে আগামী তিন মাসের মধ্যে মাস্টার প্লান অনুযায়ী সিটি করপোরেশন এলাকা সম্প্রসারণ করে নির্বাচন করার জন্য নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশন সংলগ্ন এলাকা সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভূক্ত করা হবে না এই মর্মে এলজিইডি সচিব. প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ৬ জনকে চার সাপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দ এই আদেশ দেন। রিটে এলজিইডি সচিব. প্রধান নির্বাচন কমিশনার কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারী পরিচালক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও কুমিল্লা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছিল।
এ দিকে, মামলার বাদী কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মাহাবুবুর রহমান মঙ্গলবার মামলা খারিজ সংক্রন্ত বিষয়ে জানান, মামলা খারিজ হয়েছে শুনেছি। কিন্ত এখনো আমাকে কোন কপি দেয়া হয়নি। তবে আশা করি আজ কালকের মধ্যে কপি পেয়ে যাব।