সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » কুবি শিক্ষকের বাসায় দুর্বৃত্তের হামলা, শিক্ষক সমিতির ক্লাস বর্জনের ঘোষণা


কুবি শিক্ষকের বাসায় দুর্বৃত্তের হামলা, শিক্ষক সমিতির ক্লাস বর্জনের ঘোষণা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.01.2017

কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুবি) এক শিক্ষকের বাসায় সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে সকল প্রকার ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক সমিতি। বুধবার রাত সাড়ে সাতটায় শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ তারিক হোসেনের বাসায় এ হামলা চালানো হয়।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী নাজির ভিলার ২য় তলায় মঙ্গলবার ভোর রাতে তারিক হোসেনের বাসায় দরজা ভেঙ্গে পাঁচ থেকে ছয়জন মুখোশধারী লোক ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। কক্ষে ঢুকেই প্রথমে বিছানার চাদর দিয়ে তারিক হোসেনের হাত বেধে ফেলে দুর্বৃত্তরা। কোন ধরনের চিৎকার না করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হামলাকারীরা। হামলার ঘটনা টের পেয়ে পাশের ফ্ল্যাট থেকে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আশিখা আক্তার ও তার শ্বশুর ছুটে এলে দুবৃর্ত্তরা আশিখা আক্তারের শ্বশুরকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। চেঁচামেচিতে দুর্বৃত্তরা সরে পড়ার সময়ে ঐ শিক্ষকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে সকালে ঘটনাস্থলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টরসহ শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ যান। পরে সদর দক্ষিণ থানার থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। বুধবার রাত নয়টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে কোন মামলা হয়নি। তারিক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘কেন এবং কারা আমার বাসায় হামলা করল আমি জানি না। ব্যক্তিগতভাবে আমার সাথে কারো শত্রুতা নেই’।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে সকল প্রকার ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। বুধবার রাত সাড়ে সাতটায় দিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আবু তাহের ক্লাস বর্জনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বৃহস্পতিবার বিকাল চারটার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে রবিবার থেকে লাগাতার ক্লাস ও সকল পরীক্ষা বর্জন করবে শিক্ষক সমিতি।
প্রক্টর ড. কাজী কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনায় আমরা মর্মাহত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছে’।
উল্লেখ্য-কিছুদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দুইটি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সেই বিষয়টি থেকে প্রতিপক্ষ হামলা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।