শুক্রবার ১৬ GwcÖj ২০২১


অগ্নিকান্ডে ধ্বংসস্তুপ কুমিল্লার দৌলতগঞ্জ বাজার : শত কোটি টাকার ক্ষতিতে কাঁদছেন ব্যবসায়ীরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
21.01.2017

কুমিল্লা প্রতিনিধি ঃ কুমিল্লার লাকসাম সদরের দৌলতগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে শতাধিক দোকান পুড়ে গেছে। শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে বাজারের মনোহরীপট্টি, স্বর্ণপট্টি ও কাপড়িয়া পট্টির শতাধিক দোকান ঘর ভূস্মিভূত হয়েছে। এতে আনুমানিক শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। দমকল বাহিনীর ৮টি ইউনিট ৯ঘন্টা চেষ্টার পর শনিবার সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার পর পরই পুড়ে যাওয়া দোকান মালিক,কর্মচারী এবং আত্মীয় স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
দমকল বাহিনী ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানায়, শুক্রবার রাতে দৌলতগঞ্জ বাজারের মনোহরীপট্টির একটি কসমেটিক দোকান থেকে অগ্নিকা-ের সূত্রপাত হয়। আগুন মুহূর্তের মধ্যে টিনশেড দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বাহিনীর লাকসামের ২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়, পরবর্তীতে কুমিল্লা, চৌদ্দগ্রাম, চৌয়ারা, বরুড়া, সোনাইমুড়ি ও হাজীগঞ্জ থেকে আসা দমকল বাহিনীর মোট ৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কিন্তু মনোহরী পট্টিতে প্লাষ্টিক, আতশবাজি এবং কাপড় পট্টিতে ও কাপড়ের গুদামে আগুন ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দমকল বাহিনীর সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয় স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ ৯ ঘন্টা চেষ্টার পর দমকল বাহিনীর ৮ইউনিটের সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কাপড়িয়াপট্টির ৪৩টি দোকান, ১৬টি জুয়েলারি দোকান, ৪০টি জুয়েলারির কারখানা, একটি তৈলের কারখানা, ২টি খাবার রেস্তরাঁ, দুইটি লাইব্রেরিসহ ছোট বড় দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অগ্নিকা-ে ভূস্মিভূত হয়। গত ৫০ বছরেও এ বাজারে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। এদিকে আশ-পাশের পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি পেতে বেগ পেতে হয় বলে জানান দমকল কর্মীরা।
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় জুয়েলারি মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি সুভাষ বণিক জানান, ১৬টি জুয়েলারি দোকান এবং ৪০টি জুয়েলারির কারখানায় প্রাথমিক ভাবে প্রায় ১শ কোটি টাকা ক্ষতির ধারণা করছেন।
কাপড় ব্যবসায়ী গোলাম ফারুক জানান, কাপড়িয়াপট্টিতে অবস্থিত ৪৩টি দোকান ও গুদামের সকল মালামাল সম্পূর্ণ ভূস্মিভূত হয়ে গেছে। ক্ষতিও আনুমানিক শত কোটি টাকা হবে। অনেকে পুড়ে যাওয়া দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে আহাজারি করেছেন। তারা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন।
লাকসাম ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোবারক আলী বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের সাথে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও নোয়াখালী থেকে আসা ৮টি ইউনিটের অব্যাহত চেষ্টায় সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণ আসে। ক্ষতির ব্যাপারে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।
লাকসাম থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন,বাজার এলাকা ঘিঞ্জি হওয়ায় দমকল বাহিনীর গাড়ি ঠিকমতো প্রবেশ করতে পারেনি। পানি পেতেও বেগ পেতে হয়েছে। অনেক দূরে ভূমি অফিস পুকুর,জগন্নাথ দিঘি,থানা পুকুর,গোমতী নদী ও উপজেলার পুকুর থেকে পানি আনতে হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান- অগ্নিকা-ে শতাধিক দোকান-ঘর ভষ্মিভূত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা করা হবে।
অগ্নিকান্ডের সংবাদ পেয়েই স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ তাজুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম, কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা চেয়ারম্যান এড. ইউনুছ ভূইয়া, পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন,  দৌলতগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবারক উল্লাহ কায়েসসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন।