বুধবার ২৯ gvP© ২০১৭


হার দিয়েই শেষ নিউজিল্যান্ড সফর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
23.01.2017

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্টেও লজ্জার হার দেখতে হলো বাংলাদেশকে। এক দিন হাতে রেখেই ৯ উইকেটে জয় পায় কিউইরা। প্রথম টেস্টে তারা জিতেছিল ৭ উইকেটে।

বাংলাদেশ এই নিয়ে ওয়ানডে, টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে টানা হোয়াইটওয়াশ হলো।

দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিক না থাকায় অধিনায়কত্ব করেন তামিম ইকবাল। আগে ব্যাট করতে নেমে ২৮৯ রান সংগ্রহ করে তারা। জবাবে নিউজিল্যান্ড ৬৫ রান বেশি করে। এরপর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে যাচ্ছেতাই ব্যাটিং করে ১৭৩ রানে অলআউট হয়। অর্থাৎ জয়ের জন্য কিউইদেরে দরকার ছিল ১০৯ রান। চতুর্থ দিনের খেলা বাকি ছিল ১৯ ওভার। ১৮.৪ ওভারে জয় তুলে নেন স্বাগতিকরা।

আগেরদিন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ ছিল। চতুর্থ দিন কিউই পেসাররা আগের টেস্টের মতো ভয়ঙ্কর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেননি। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা বরং উইকেট বিলিয়ে প্রতিপক্ষের কাজটা সহজ করে দিয়েছেন।

ওপেনার তামিম ইকবাল দিয়েই শুরু হয় ‘আত্মহত্যার মিছিল’। জানতেন শর্ট বল আসবে। আর এটাও জানতেন ডিপ স্কয়ার লেগে কেউ না কেউ থাকবেন। সব জেনেবুঝে সাউদির ষষ্ট ওভারে শর্ট বল দিতেই পুল করতে যান। স্যান্টনার একটু মুভ করে বল লুফে নেন।

তামিমের (৮) পর রিয়াদের সঙ্গে সৌম্য বড় জুটি গড়ার ইঙ্গিত দেন। দারুণ ব্যাট করছিলেন দুজনে। বোল্টকে চার হাঁকিয়ে ত্রিশের ঘরে পা রাখেন সৌম্য। দুই ওভার বাদে মিডিয়াম পেসার গ্রান্ডহোমকে বলে টানেন উইলিয়ামসন। দুই স্লিপসহ গালিতে সৌম্যর সামনেই ফিল্ডিং সাজান। অনুমিতভাবেই অফসাইডে ঝুলিয়ে বল দেন। দেখেশুনে ওই গালি দিয়েই স্কয়ারকাট করতে যান। প্রথম ইনিংসে ৮৬ করলেও এবার ৩৫ রানে ধরা পড়েন রাভালের হাতে।

দুই ওভার বাদে সাকিবও একই কাজ করেন। তিনি স্কয়ারকাট ভালো খেলেন, এটা সবাই জানে। সাউদি তাই বলে এসে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ফিল্ডার রেখে অফ সাইডে ঝুলিয়ে ডেলিভারি দেন। সাকিব ফাঁদে পা দেন চোখের পলকে। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ওৎ পেতে থাকা গ্রান্ডহোম ক্যাচ লোফেন। আগের ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরিয়ানকে এদিন ফিরতে হয় ৮ রানে।

এরপর রিয়াদের (৩৮) পালা। দল যখন চাপে ঠিক তখন শরীরের অনেক বাইরের বলে জোর করে ড্রাইভ করতে যান। বলে সুইং ছিল। কানা নিয়ে স্ট্যাম্প খেয়ে নেয়।

সাব্বির ফিরে যান রানের খাতা খোলার আগেই। দলীয় শত রানের মাথায় ওয়াগনারের শর্ট বলে তালগোল পাকিয়ে ব্যাট দেন। কী করতে চেয়েছিলেন তিনিই ভালো জানেন। না ছেড়েছেন, না ব্যাটে এনেছেন; কিছুই বোঝা যায়নি। তবে বল যে গ্রিপের কাছাকাছি চুমু দিয়ে উইকেটরক্ষক ওয়াটলিংয়ের হাতে পৌঁছে যায়, সেটা বুঝতে কারো সমস্যা হয়নি।

নুরুল হাসান (০) দ্বিতীয় বলের মাথায় সাব্বিরকে কপি করেন। ওয়াগনারের এই শর্ট বলটি ছিল লেগস্ট্যাম্পের উপর। নুরুল ছেড়ে দিলে বেরিয়ে যায়। সাব্বিরের মতো কী মনে করে ব্যাট দিতে যেয়েও ফিরিয়ে আনেন। বল একটু ছুঁয়ে চলে যায় ওয়াটলিংয়ের আস্তানায়।

নাজমুল হোসেন শান্ত (১২) ৬০টি বল খেলেন। এত সময় ক্রিজে থেকেও বোল্টের দারুণ একটি ডেলিভারিতে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেননি অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান। ইয়র্কারে যেভাবে অলস ভঙ্গিতে ব্যাট চালান, তাতে মনোযোগ হারানোর লক্ষণই স্পষ্ট।

অভিষেকের পর থেকে ব্যাট হাতে ধুঁকতে থাকা মেহেদি হাসান মিরাজ (৪) এদিনও যারপরনাই ব্যর্থ। আরো নির্দিষ্ট করে বললে বোল্টের বাউন্সারে পরাস্ত। শর্টলেগে ফিল্ডার রেখেই বোল্ট বাউন্সার মারেন। মিরাজ লাফিয়ে উঠে নিজেকে সামলাতে না পেরে ব্যাট দিতে বাধ্য হন। হাত চারেক পাশে হাঁটুগেড়ে থাকা ল্যাথাম সহজে তা তালুবন্দি করেন।

এরপর রুবেল সাতটি বল খেলতে পারেন। তাতে শুধু সময়ই যায়। এগিয়ে আসে নির্ঘাত পরাজয়!



Notice: WP_Query was called with an argument that is deprecated since version 3.1.0! "caller_get_posts" is deprecated. Use "ignore_sticky_posts" instead. in /home/dailyama/public_html/beta/wp-includes/functions.php on line 4021