রবিবার ৮ ডিসেম্বর ২০১৯


টিম কুমিল্লা ও আবিদ হোসেন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
24.01.2017

“টিম কুমিল্লা” এ দুটি শব্দ উচ্চারনের সাথে একটা গর্ব অনুভব হয়,প্রেরণা তৈরী হয় ভাল কাজের। কোন ক্রীড়া সংগঠন বা দলের নাম নয়। এটা একটা কোড নাম। যে নামটা মনে ধারণ করে কাজের গতিশীলতা,স্বচ্ছতা,জবাবদিহীতা ও সেবার মান বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করছে একদল মানুষ।পরিবার পরিজনকে দূরে রেখে মানুষের সেবায় নিয়োজিত সে মানুষগুলো আমাদের নিরাপত্তা,শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে একটি খাটে পালা করে ঘুমায়। টানা দু’দিন ডিউটি করে গা এলিয়ে দেয়া মাত্র চোখে রাজ্যর ঘুম জড়ো হলো ঠিক ওযাকিটকিতে খবর এলো, কোথাও কোন দূর্ঘটনা বা দাঙ্গা-হাঙ্গামাকে নিয়ন্ত্রন করতে বীর দর্পে প্রস্তুত হয়ে উঠে। চলে যায় নির্দিষ্ঠ স্থানে। সব সমস্যাকে সমাধান করে আবারো ব্যারাকে ফিরে আসে,নতুন কোন সমস্যা সমাধানের প্রত্যয় নিয়ে। এভাবেই বছরের পর বছর সমাজের দশের শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে এই মানুষগুলো মনের অসংখ্য বেদনা বিধুর সমস্যাকে চেপে রেখে হাসিমুখে পার করছে দিনরাত। এমনভাবে পরিবার পরিজন মা- স্ত্রী সন্তানদের ভালবাসাকে  উৎসর্গ করে ঝুম বৃষ্টি বা কনকনে শীতেও  রাত-বিরাতে চষে বেড়ায় আমাদের পাড়া মহল্লায়। যেন আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারি। পুলিশ। হ্যাঁ এই পুলিশের জন্য আমরা সাধারণ মানুষ ভাল আছি। অপরাধীদেরকে নিঘূর্ম রেখে আমাদেরকে শান্তির আবেশ দিতে  টিম কুমিল্লা কাজ করে যাচ্ছে। আর এমন সফল টিম কুমিল্লার নামে নেপথ্য রয়েছেন একজন যোগ্য আর্দশ নেতা। সব কিছুর উর্ধ্বে কর্তব্যকে বুকের বাম পাশে অবস্থান দিয়েছেন। শুধু পুলিশ প্রশাসনকে যোগ্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমন নয়, নতুনভাবে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ঘটিয়ে পুলিশের সেবাকে সাধারণ মানুষেরে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে জেলার সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ঠাই করে নিয়েছেন । হাসিমুখে যে কোন সমস্যার সমাধান করেছেন। ক্লান্তিহীন এ মানুষটি ইবাদত বন্দেগী ও অন্যান্য ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধাবোধ দেখাতে কার্পণ্য করেন নি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সফলতা আর মাদক ব্যবসায়ীদের রাতে ঘুম হারাম করে দিয়ে একটা সুন্দর সমাজ বির্নিমানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফলস্বরৃপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে বিপিএম পদক ও সনদ গ্রহন করেন।  একজন যোগ্য স্বামী,একজন জনক,একজন সংস্কৃতিমনা মানুষ কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো:শাহ আবিদ হোসেন। কুমিল্লা জেলার পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে অভূতপূর্ব পরিবর্তন করে চলছেন।
গত২০১৫ সালের যোগদানের পরে জেলা পুলিশের ওয়েভ পেইজে নিজের কাজের বানী সম্বলিত একটি পোষ্ট জেলার বিশিষ্টজনদের নজর কেড়েছিল। পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশে তথ্য সরবরাহে সংবাদকর্মীদের জন্য পেইজটি ব্যাপক ভূমিকা রাখে। পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল পুলিশ সুপারের বক্তব্যটি।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য
কুমিল্লা জেলা পুলিশের ওয়েবসাইটে আপনাদেরকে স্বাগতম।
উন্নতর সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তা ও আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর।এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে অপরাধমুক্ত কুমিল্লা প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি আশা করি এই উদ্দেশ্যে পূরনে আমাদের ওয়েবসাইটটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসকে সামনে রেখেই আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে সেবা প্রদানের চেষ্টা করে আসছি। জনগনের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করনের জন্য আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। কুমিল্লা জনগণ বাস্তবিকই বন্ধুভাবাপন্ন। আমরা সর্বদাই সকলের নিকট আইনের প্রতি অনুগত্য আশা করি। যেহেতু পুলিশের একার পক্ষে অপরাধ নির্মূল করা দুঃসাধ্য তাই আমরা আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ ও সুচিন্তিত পরামর্শকে সবদাই স্বাগত জানাই। আপনাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটমান অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকে আমরা উৎসাহিত করি এবং এ ধরনের সংবাদ ও সংবাদদাতার নিরাত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় আমরা সর্বদা-ই সচেতন।
মাদক একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ।এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। আমি এবং আমার সহকর্মীগণ কুমিল্লা জেলা হতে মাদক নির্মূলে শতভাগ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মাদক বিক্রেতা এবং ব্যবহারকারী সম্পর্কে তথ্য প্রদান ও তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য আপনাদের সহযোগীতা কামনা করছি।
আমরা সর্বদাই কুমিল্লার জনগনের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করি। কারণ যাই হোক না কেন যেকোন অকাল মৃত্যূই পরিবার, দেশে ও জাতির জন্য দুঃখজনক। আমাদের দেশে সড়ক দূর্ঘটনা অপমৃত্যূর একটি প্রধান কারণ, আমরা যদি ভ্রমণের সময় একটু সচেতন থাকি তাহলে দুর্ঘটনার পরিমান অনেকাংশে কমে আসবে। দূর্ঘটনার ঝুঁকি এবং যানজট এড়াতে প্রত্যেকেরই ট্রাফিক আইন মেনে চলা উচিত।
আমরা এটাও আশা করি আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে কোন ধরনের সংকোচ এবং দ্বিধা করবেন না। শুধু একজন সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে পুলিশের শত পরিশ্রম করে উপস্থাপন করা একটি মামলা এবং পুলিশের অক্লান্ত পরিশ্রম ভেস্তে যেতে পারে। যারা তদন্তে সহায়তা করে এবং আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করে তাদেরকে আমরা সর্বদাই সাধুবাদ জানাই। অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আপনারাও আমাদের শরীক হোন।
কাজের মাধ্যমে জনগনের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ্য থেকে আমি আপনাদের সবােইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের ওয়েবসাইটটি পরিদশনের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। মোঃ শাহ আবিদ হোসেন, পুলিশ সুপার, কুমিল্লা।

এমন ঘোষনার পরেই জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের শুধুমাত্র ২০১৬ সালে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটনসহ অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে জেলা পুলিশের সুনাম ছড়িয়ে পরে।২০১৬ সালে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫২হাজার৯শ পিচ ইয়াবা,১৩ হাজার ৫০ বোতল ফেন্সিডিল,১৪শ২৫কেজী গাঁজা,৩৩টি অস্ত্র,৫৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিষয়গুলির সাথে সংশ্লিষ্টতায় ৬শ৬৪জনকে আটক,৪শ৫২টি মামলা রজু করা হয়। এভাবেই গত ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭সাল পর্যন্ত জেরা পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় কুমিল্লা জেলা শান্তির জেলা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে।

জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু যে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখেছিলেন সে  সুখী সোনার বাংলা বির্নিমানে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী যুগের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত দেশে পরিনত করার জন্য রুপকল্প ২০২১ যে স্বপ্ন দেখেছেন একজন পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি তা বাস্তবায়নে বেশ প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এ রকম প্রশংসনীয় উদ্যেগের স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল।।

ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় জেলা পুলিশের স্টলে আগত দর্শনার্থী ও নাগরিকদের উদ্দেশ্য পুলিশ সুপার
প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশি সেবা নাগরিকদের
দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা পুলিশ অঙ্গিকারাবদ্ধ
রুপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখাসহ পুলিশি সেবা নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। সে লক্ষ্য জেলা পুলিশ প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ  গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সেসব পদক্ষেপের সুফল ভোগ করছে জেলাবাসী। নগরীর টাউনহলে তিনদিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার গতকাল দ্বিতীয় দিনে জেলা পুলিশের স্টলে আগত দর্শনার্থী ও নাগরিকদের  উদ্দেশ্য কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো:শাহ আবিদ হোসেন এ কথা বলেন।
এ সময় পুলিশ সুপার মো:শাহ আবিদ হোসেন আরো বলেন,সারা দেশের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিকসেবা প্রদানে কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন পথিকৃত। কারন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন,গত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জেলা পুলিশের নিজস্ব উদ্ভাবিত অ্যাপসের মাধ্যমে ৩৪২ জন পুরুষ ও নারী কন্সটেবল নিয়োগ দেয়া হয়। এ অ্যাপসের সাহায্য আবেদনকারীগন তাৎক্ষনিক প্রবেশপত্র ও আবেদনকারীদের সকল প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষন করা হয়। অ্যাপসের সাহায্য যখন যে তথ্য প্রয়োজন তাৎক্ষনিক সে তথ্য সরবরাহ করা হয়। অ্যাপসটি ব্যবহারে  সময়  হ্রাস, দালাল-দূর্নীতিমুক্ত কাজের স্বচ্ছত্,াজবাবদিহীতা নিশ্চিত করাসহ যোগ্য প্রার্থীরাই নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছে । এছাড়াও গত ২০১৬ সালের ১১ নভেম্বর থেকে নাগরিক সেবায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ পাইলট জেলা হিসেবে অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদান শুরু করে।
এদিকে গতকাল টাউনহলে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে কুমিল্লা জেলা পুলিশের স্টলে ঘুরে দেখা যায়,মেলায় আগত স্কুল কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশা শ্রেনীর দর্শনার্থীদের উপচেপরা ভীড়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ¯œাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাইম,কাউসার,রোজি,হাসনান,সাইদ স্টল পরিদর্শন শেষে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। এতে করে সাধারণ মানুষের হয়রানী কমবে।
লাকসাম উপজেলার বাসিন্দা মো:আবদুস সুবহান একটি বেসরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা । গতকাল  ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় পুলিশের স্টল পরিদর্শণ শেষে জানান, একটা সময় পুলিশ ভেরিফিকেশন পেতে সাধারণ মানুষ কত যে হায়রানীর শিকার হতো তা বলে শেষ করা যাবে না। থানার দালালরা নানান ছলছুতোয় টাকা হাতিয়ে নিতো। বর্তমান কুমিল্লা জেলা পুলিশের অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার বিষয়টি সত্যিই অবাক হওয়ার মতো। এখন দালাল দৌরাত্ব কমবে। সার্টিফিকেট পেতে সময়ও লাগবে কম।
উল্লেখ্য, রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কাজের স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবাপ্রদানসহ সরকারের গৃহিত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরার লক্ষে, গত ১৩ জানুযারী শুক্রবার নগরীর টাউন হলে ৩ দিন ব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা উদ্ভোধন করা হয়। মেলা উদ্বোধন করেন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জনাব এন.এম জিয়াউল আলম। মেলা উদ্বোধন শেষে  কুমিল্লা জেলা পুলিশের স্টল ঘুরে দেখেন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জনাব এন.এম জিয়াউল আলম , জেলা প্রশাসক জনাব জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মাহফুজুর রহমানসহ জেলা পুলিশের সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।আজ শেষ হবে তিনদিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্বাবনী মেলা ২০১৭।
শুধু পেশাগত কাজে নয় একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে অন্য সমাজের নি¤œ আয়ের কিংবা ছিন্নমূল মানুষের দূ:খ দূর্দশাগুলোকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সার্মথ্যনুযায়ী সহযোগীতা করার চেষ্টা করেছেন। সেরকম কিছু খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে শীর্তাতদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন।
চার শতাধিক শীর্তাতর মাঝে  কুমিল্লা জেলা পুলিশের কম্বল বিতরন
কুমিল্লা জেলা পুলিশের উদ্যেগে চার শতাধিক শীতার্ত’র মাঝে কম্বল বিতরন করা হয়। গতকাল বিকেলে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে পুলিশ সুপার মো:শাহ আবিদ হোসেন কম্বল বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক কাজেও পুলিশ সদস্যরা অনেক দায়িত্ববান। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিকেলে জেলা পুলিশের আয়োজনে ৪ শতাধিক ছিন্নমূল ও অতি দরিদ্র মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরন করা হয়।
শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরন বিষয়ে  কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো:শাহ আবিদ হোসেন বলেন,নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি মানবিক কাজেও কুমিল্লা জেলা পুলিশের সদস্যরা  অনেক উদার ও মহৎ প্রানের অধিকারী।
কম্বল বিতরন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ডিএসবি) আবদুল মোমেন,গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান,ডিআইওয়ান মাহবুবুর রহমান,কান্দিরপাড় পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকতাগন।
বর্তমানে বাংরাদেশসহ সারা বিশ্বে ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে বড় বড় ভয়ংকর দাঙ্গা হাঙ্গামায় বহু মানুষের প্রানহানীর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সে রকম অনেক উস্কানী কিংবা ঘটনাগুলো নিরবে নিভৃতে মিটিয়ে ফেলেছেন। তেমন একটি ঘটনার উদাহারণ যা গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়নি।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার ধান্যদৌল বাজার জামে মসজিদের ভিতরে পবিত্র কোরআন শরীফ ছিঁড়ে ফেলা এবং মসজিদের জানালার গ্লাস ভাঙ্গা ও মল ত্যাগের ঘটনায় পুলিশ জাহাঙ্গীর আলম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সে একই এলাকার সামছু মিয়ার ছেলে। এক দশকেরও বেশি সময় সৌদীতে থাকা জাহাঙ্গীর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো: শাহ আবিদ হোসেন। তিনি জানান, জাহাঙ্গীরের এই মানসিক বিপর্যস্ততার কারণ পারিবারিক কিংবা সামাজিকভাবে আঘাত প্রাপ্তি। সোমবার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ সব তথ্য জানান। গত ২২ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে ফজরের নামাজের দুই ঘন্টা পূর্বে ব্রাহ্মণপাড়ার ধান্যদৌল বাজার জামে মসজিদের পবিত্র কোরআন শরীফ ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং মসজিদের জানালার গ্লাস ভেঙ্গে ফেলা ও মল ত্যাগ করা হয়। এর আগেও গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর আলম ধান্যদৌল চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদেও প্রবেশ করে পবিত্র কোরআন শরীফ ছিঁড়ে ফেলে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, আসামী জাহাঙ্গীর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে ধান্যদৌল মসজিদর ইমাম ঠিকমত কোরআন তেলওয়াত করতে পারে না। আকামত দেয়ার সময় ইমাম সাহেব বসে থাকেন ও তৃতীয়ত বাংলাদেশে মুদ্রিত পবিত্র কোরআন শরীফ ভুলভাবে মুদ্রিত। এসব কারণে সে এসব কাজ করেছে।
পুলিশ সুপার মো: শাহ আবিদ হোসেন বলেছেন, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আসামী মো: জাহাঙ্গীর আলম(৩৫) কে গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো: জাহাঙ্গীর আলম কুমিল্লার আমলী আদালত-২ এর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: তারিক আজিজের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেয়ার সময় তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। ঐ ঘটনা ঘটানোর জন্য তাকে অনুতপ্ত হতে দেখা যায়।
এছাড়া নতুন বছর ২০১৭ সালে কুমিল্লা জেলায অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদের হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধের যে অপূর্ব নির্দশন রেখেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এমন হাজারো ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা পুলিশ প্রশাসনের সবোর্চ্চ কর্তা ব্যক্তিটি মো:শাহ আবিদ হোসেন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তা কুমিল্লার ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করবে। কুমিরøা জেলাসহ দেশবাসীর শুভ কামনা নিয়ে এভাবে এগিয়ে যাক কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন।
লেখক : মাহফুজ নান্টু
সংবাদকর্মী
ই-মেইল : সধভঁলহধহঃড়@মসধরষ.পড়স