সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০


বোবা প্রাণীর মায়ার জালে বৃদ্ধ দম্পতি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.01.2017

মাহফুজ নান্টু: গোমতী নদীর পালপাড়া এলাকা বিশাল চর। বইছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। আকাশে মাঘের সূর্যের কিরণে প্রকৃতির রুক্ষতা স্পষ্টত লক্ষণীয়। চরের মাঝে এক পাল সুস্থ সবল ছাগল  চষে বেড়াচ্ছে। মাঝে মাঝে চরের বালুতে ছাগলের পাল গা এলিয়ে দিচ্ছে। আবার ছোট বাচ্চাগুলো মা ছাগলের কাছে লাফালাফি করছে।  দু’জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ছাগলের পাল দেখাশোনা করছেন। তাদের মাঝে কথার বিনিময় ঘটে। কথার মাঝেই প্রাণ খুলে হেসে উঠেন তারা। দূর থেকে দেখে বেশ সুখী দম্পতি মনে হল।
কথা হয় আলমাস – রৌশন আরা দম্পতির সাথে। এই দম্পতির দু’জন ছেলে। ঢাকায় চাকরি করে। ছেলেরা পরিবার নিয়ে থাকে। নাতি-নাতনিহীন জীবনে নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখতে ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিবেশী একজনের কাছ থেকে একটি ছাগল বর্গা নেন। শুরু হয় ছাগলটির লালন পালন। মাস ছয়েক পরে ছাগলটি দুটি বাচ্চা প্রসব করে। ছাগল ছানা দুটি একটু বড় হলে ছাগলটির প্রকৃত মালিক থেকে আলমাস ও রৌশনারা বেগম বর্গার ভাগ হিসেবে মাদী ছানাটি নিয়ে আসেন। এবার তারা একটি ছাগলের মালিক। উৎসাহ নিয়ে আগের চেয়ে অধিক গুরত্ব দিয়ে নিজের ভাগে পাওয়া ছানাটির লালন পালন করতে থাকে। প্রায় ছয় মাস পর ছাগলটি দুটি বাচ্চা দেয়। এভাবে ছয় বছরে প্রায় ৪১ টি ছাগলের মালিক হন আলমাস ও রৌশনারা দম্পতি। যার মধ্যে ৩৫ টি ছাগল বিক্রি করেছেন। গত কোরবানীর ঈদে দুটি খাসি বিক্রি করেন ১৮ হাজার টাকায়।
আলমাস মিয়া বলেন, গোমতী নদীর চর থাকার কারণে ছাগল পালনে বেশ সুবিধা। চরে ছাইড়া দিলে সারা দিনে ঘাস খাইয়া এক্কেবারে পেট ফুলাইয়া বাড়ি আইয়ে। তিয়াস (পিপাসা) লাগলে হাডু ভাইঙ্গা নদীর পানি খায়,রইদ লাগলে গাছের নিছে ঝিরায়। ছাগল পালন করা অবস্থায় গত কয়েক বছরে গরুর দুধ কিনতে হয়েছে। অনেকবার বেশ কয়েকটি ছাগল তিনটি করে বাছুর দিয়েছিল। যার মধ্যে দুর্বল ছানাটিকে সুস্থ সবল রাখতে গরুর দুধ কিনে খাওয়াতে হয়েছিল।
কথার মাঝে আলমাস মিয়ার চোখ বড় করে সর্তক দৃষ্টিতে এদিক ওদিক তাকিয়ে বলেন,দেশে চোর ডাকাইতের বড় ভয়। একটু এদিক ওদিক হলে হোন্ডা,সিএনজি আর অটোত কইরা ছাগল নিয়া যায়। তাই একটু বেশী কইরা পাহারা দেওন লাগে। বাইত বেশী কাম থাকলে একজন যাই, আরেক জন ছাগলগুলারে পাহারা দেই। আগামী কোরবানীর ঈদের জন্য দুটি খাসি বিশেষ যতœ নিয়ে লালন পালন করছেন।
রৌশনারা বেগম জানায়,ছাগল পালন করে তারা বেশ ভালই আছেন। কথার মাঝে আফসোস দেখা যায রৌশন আরা বেগমের। তিনি জানান, ছেলেরা চায় না তাদের বাবা-মা ছাগল পালন করুক। কিন্তু রৌশনারা জবাব দেন,চাইলেই কি আর পারি? বোবা প্রাণীডির মায়ায় জালে আটকাইয়া গেছি। এখন এগুলির ছাড়া ভাল লাগে না।