সোমবার ২২ জুলাই ২০১৯


মৌমাছি থেকে মধু


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.02.2017

কাজী মোরশেদ আলম
মধু শরীরের সুস্থতার জন্য বহুত কার্যকরী। মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌচাকে রাখে। এই মৌচাক থেকে সঞ্চিত হয় মধু। ফোঁটা ফোঁটা মধু থেকে পাওয়া যায় অনেক মধু। পৃথিবীর আদিতে মধুই ছিল ভরসা। মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরি হতো এই মধু ব্যবহার করে। পরবর্তীতে মানুষ চিনি ও আখ থেকে গুড় ও চিনি তৈরি করতে শিখেছে। মধুকে ঔষোধ বল্লেও কোনো ভুল নেই। কেননা রোগের বহু মাত্রায় উপকার করে থাকে এই মধু। মৌমাছিরা সুশৃঙ্খল ভাবে জীবন যাপন করে। ওদের থাকে দল নেতা। ওদের জীবন খুব পরিপাটি। ওরা মানুষের করে না কোনো ক্ষতি। করে থাকে অনেক উপকার। কিন্তু কেউ যদি এই মৌমাছির ওপর ঢিল মারে তাহলে ঝাকে ঝাকে এসে কামড়াতে থাকে। আর এটা হলো ঢিল মারার প্রতিদান। আমাদের আশে পাশে এমন ধরনের ব্যক্তি আছে ওরা খামাকা ঢিল মারে আর মৌমাছির কামড় খায়। এমনটি করা আদৌ ঠিক না। আল্লাহতায়ালার অপার দান এই মৌমাছি। এই মৌমাছি আমাদের দেয় মূল্যবান মধু। যা খেয়ে আমাদের শরীরকে রাখি সুস্থ ও সবল। কাজেই এই মৌমাছিদের প্রতি অবহেলা করা উচিত হবে না। সুঠামো মৌচাকে যদি কেউ ঢিল মারে তাহলে দলে দলে ছুটে আসবে মৌমাছি। শরীরে বসিয়ে দিবে হুল। সামনে যাকে পাবে তার শরীরেও বসিয়ে দিবে হুল। তাই বলে মৌমাছিকে বলা যাবে না দুর্বৃত্ত। দুর্বৃত্ত হলো তারাই যারা মৌমাছির মৌচাকে ঢিল মারে। আমরা প্রায়শই দেখি মৌমাছির মৌচাকে ঢিল মারার মতো কতিপয় লোক। সমাজে তারাই অশান্তি সৃষ্টি করে চলেছে একের পর এক। খামাকা মানুষের ইজ্জত নষ্ট করছে, দেশের সম্পদ নষ্ট করছে। এসবের থেকে রক্ষা পেতে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।
দেশের বুকে যদি কেউ ভালো কাজ করে তাহলে কেউ কেউ তা সহ্য করতে পারে না। এই সহ্য করতে না পারাটা যে কত মারাত্মক অন্যায় কাজ তা তারা ভাবছে না একটু। ক্ষতি সাধন তারা করেই যাচ্ছে। এসব ক্ষতি দেশের ক্ষতি, দেশের মানুষের ক্ষতি। এসব ক্ষতি থেকে দুরে থাকতে হবে। মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে এর বিরাট প্রতিদান পেয়ে থাকে মানুষ। তাহলে এই মৌমাছির মৌচাকে ঢিল মারাটা আদৌ কি ঠিক? কোনো মতেই ঠিক না। মৌমাছি আমাদের উপকার করে। যারা উপকার করে তারা গ্রহণীয় ও বরণীয়। তাহলে দেশের মাঝে যারা মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে তাদেরকে কেনোইবা বাধা দেওয়া হবে, কেনো নষ্ট করে দেয়া হবে। একজন লেখক সাহিত্য চর্চা করে লেখার মান বৃদ্ধি করেন দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। মানুষ তা পড়ে এবং উপলদ্ধি করে ভালো কাজে এগিয়ে আসেন। অথচ লেখককে যদি লেখা বন্ধ করার জন্য নানা মুখি ষড়যন্ত্র করতে থাকে তাহলে কি এটা ভালো কাজ হবে? কোনো মতেই না। দেখা  গেছে একজন লেখকের লেখা বন্ধ করার জন্য যাদু করেন, লেখককে নানা ক্ষতিকর খাদ্য খাবিয়ে দুর্বল করে রাখেন। আবর লেখক যদি রাজনীতি না করে তাহলেও দেখতে পারে না কোনো কোনো রাজীনীতিবিদ। লেখকদের প্রতি এসব করে যারা তারা দেশের শত্রু, মানুষের শত্রু এবং ঘৃণিত বাজে লোক। ওরা একজনের ভালো দেখতে পারে না। ক্ষতি করেই তারা যেনো আনন্দ পায়। তারা কেউ কেউ বিশ্বাস করে না সৃষ্টিকর্তাকে। মৃত্যুর পর পরকালকে তারা করে অস্বীকার। আবার কেউ কেউ আছে বিশ্বাস করে ঠিকই কিন্তু তাদের মাঝে আছে খারাপত্ব। একজনকে ক্ষতি করলে তারা পায় খুব আনন্দ। স্মরণে রাখা একান্ত দরকার যে, হিংসার জন্য জবাবদিহি করতে হবে মহান আল্লাহর কাছে। যারা সমাজের কল্যাণের জন্য কাজ করে তাদের সহযোগিতা করা আমাদের একান্ত কর্তব্য। সামনের দিকে তারা যেনো অবাধে যেতে পারে তার চেষ্টা করতে হবে। অহেতুক বিরুদ্ধচারণ করা ঠিক না। ভালো কাজে সহযোগিতা করা মানে নিজেও ভালোকাজ করা। আর অন্যায় কাজে সহযোগিতা করা মানে নিজেও অন্যায় কাজ করা। তাই আমাদের মনে রাখতে হবে বা স্মরণে রাখতে হবে কাউকে ক্ষতি করবো না। ক্ষতি করা হলে নিজেরই ক্ষতি হবে বেশি। এই যে ক্ষতির জন্য যে পদক্ষেপ। তার প্রতিদান নিজের উপর এসে ভর করবে। কাজেই অসহযোগিতা করে দেশকে খাটো করা, দেশের সম্পদ নষ্ট করা আদৌ ঠিক হবে না। আসুন প্রতিটি ক্ষেত্রে ভালো কাজে আমরা এগিয়ে যাই। ভালো কাজ করি এবং অন্যের ভালো কাজে সহযোগিতা করি। মৌমাছি মধু দান করে আমাদের উপকার করে। মৌমাছি থেকে শিখতে হবে অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি করার কৌশল।  মৌমাছি অনেক কষ্ট করে মধু যোগায় মানুষের জন্য। যারা কাজে কর্মে করে অবহেলা তাদের লক্ষ্য রাখা উচিত মৌমাছির কর্মের প্রতি। মৌমাছির মত কর্মক্ষমতা থাকতে হবে। না হলে আমরা একটি সুন্দর সমাজ উপহার দিতে পারবো না। আসুন দেশকে ভালোবাসি এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসি। অনেক কল্যাণ হবে আমাদের।

কাজী মোরশেদ আলম এম. এ. বি. এড (ডি.এইচ.এম.এস)
প্রধান সম্পাদক, সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ
হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

মোরশেদ মিডিয়া সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র
গ্রাম-মোহনপুর, পো. মোহনপুর বাজার, থানা- দেবিদ্বারা, জেলা-কুমিল্লা।