সোমবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯


লাকসাম বন বিভাগ নিজেরাই নানাহ রোগে আক্রান্ত


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.02.2017

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের পকেট বানিজ্য ও নানাহ ভ্রান্তনীতির শিকার হয়ে গত ৩ বছরে বিভিন্ন সড়কে কাটা পড়েছে পরিবেশ বান্ধব হরেক রকম গাছ। ওই দপ্তর কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা আর অবহেলাসহ নানাহ ভাবে মরে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো দেখলে বুঝা যায় ওই বিভাগের অস্তিত্ব আজ বড় ঝুঁকিতে পড়ে নিজেরাই যেন নানাহ রোগে আক্রান্ত। তবে এলাকার পরিবেশের পরম বন্ধু গাছগুলোকে হত্যার দায় নিতে নারাজ সংশ্লিষ্টরা। ওদের কর্মকান্ডে দায়িত্বহীনতায় যেন নোংরা রাজনীতির চেয়ে আরো নোংরা। ওই বিভাগের নানাহ সংকট উত্তোরনের চাইতে দায়িত্বে থাকা ওইসব কর্মকর্তারা বেশী ব্যাস্ত সময় পার করছেন অপ্রাশংগিক কাজে।

পৌরশহর ছাড়াও উপজেলার সড়কগুলোতে পরিবেশের উন্নয়ন ও সামাজিক শোভা বর্ধনে ওইসব হরেক রকমের গাছ লাগানো হলেও স্থানীয় বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের উদাসিনতা ও দায়িত্বহীনতায় অসংখ্য সমস্যা বিদ্যমান। পরিকল্পনাহীন সংস্কার কার্যক্রমের কারনে অনেকাংশে গাছগুলো মরছে। পাশাপাশি অসংখ্য জীবিত গাছগুলো পড়ছে মারাত্মক ঝুঁকিতে এমনকি এলাকার পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষ সৃজন যেন আজ মহাসংকটে। এ ছাড়া এ অঞ্চলের হাটবাজারগুলোতে অসংখ্য করাত কল,ফার্নিচার শো-রুম ও কারখানা যত্রতত্র ভাবে গড়ে উঠে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সরকারি রাজস্ব আয়ের স্বার্থে কারো যেন মাথা ব্যাথা নেই। বিভিন্ন সড়কে কারনে-অকারনে কাটা গাছ ও মরে যাওয়া গাছগুলো মাঝে মধ্যে উদ্ধার করলেও রাজস্বখাত কিন্তু অনুপস্থিত। সরকারি নার্সারীতে আজ জ্বলছে লাল বাতি। এছাড়া ওই সড়কগুলোতে পাহারাদার-রক্ষনাবেক্ষন কমিটির নামে সম্মানি ভাতা এবং চারা-গাছ-গাছড়া বিক্রির টাকা নিয়েও নাটকীয় বানিজ্যে অভিযোগ  উঠেছে।

লাকসাম-মুদাফরগঞ্জ সড়কের পৌরসভার মিশ্রি এলাকা, উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের অশ্বতলা, চুনাতি,  মনোহরপুর, চাঁনগাঁও, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ সড়ক, লাকসাম সোনাইমুড়ি সড়ক, লাকসাম নাঙ্গলকোট সড়ক, লাকসাম চৌদ্দগ্রাম সড়ক, কান্দিরপাড় ইউপির নোয়াপাড়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়কের দু’পাশে শতশত বিভিন্ন ধরনের গাছ মূমূর্ষ অবস্থায় কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। এগুলোর কোনটিতে ঘুণে ধরেছে, আর কোনটিতে বাসা বেধেছে কাঠ পোকায়। ওই মরা গাছগুলো ভেঙ্গে পড়ে যে কোন মুহূর্তে বড়ধরনের দৃর্ঘটনার শংকা জনমনে। লাকসাম পৌরসভার মিশ্রি এলাকাসহ উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চুনাতি, মনোহরপুর, চাঁনগাঁও, নোয়াপাড়া বাজার, অশ্বতলাসহ প্রায় ২ কিলোমিটার পাকা সড়কের দু’পাশে বনায়নকৃত ছোট-বড় গাছ নানাহ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এতে শত শত গাছ গাছ মরে শুকিয়ে পাতাবিহীন কঙ্কালের মত দাঁড়িয়ে আছে। গাছগুলোর বেশিরভাগই  শিশু গাছ। এছাড়াও ইউক্লিপটাস্, আকাশী গাছও রয়েছে। মরা গাছগুলোর বেশিরভাগের গোড়ায় পোকায় ধরায় সরু হয়ে গেছে। ওই এলাকার প্রায় ২ কিলোমিটার পাকা সড়কের পাশে থাকা প্রায় ২ শতাধিক মরা গাছ পাতাবিহীন ও ছাল উঠে গিয়ে শুকিয়ে কংঙ্কালের মত ভীতিকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। পাশাপাশি অজানা কোন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কয়েক লাখ টাকার গাছগুলোর আজ করুন পরিনতির দায় কার ?।