শুক্রবার ২৩ অগাস্ট ২০১৯


মাংসের দাম আবারও বাড়ানোর ‘পাঁয়তারা’


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.02.2017

চার দফা দাবিতে মাংস ব্যবসায়ী সমিতি ছয় দিনের ধর্মঘট শুরু করেছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘট শেষ হবে আগামী শনিবার। এই সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন মাংস ব্যবসায়ীরা।

ইতোমধ্যে কয়েক দফা বেড়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। এই ধর্মঘটকে আবারও দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা হিসেবে দেখছেন ক্রেতারা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, অতিরিক্ত চাঁদা ও হাটের খাজনা পরিশোধ করার পর তাদের কোনো লাভ থাকে না। এভাবে চলতে থাকলে মাংসের দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। তবে ক্রেতারা মনে করছেন, এটা নতুন কিছু নয়। মাংসের দাম বাড়ানোর একটি কৌশল মাত্র।

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে মাংসের দোকান বন্ধ।  রামপুরা বাজারের মাংস ব্যবসায়ী কবির হোসেন, মালিবাগ রেলগেইটের জাকির হোসেন, মালিবাগ বাজারের মো. রুবেল, খিলগাঁও বাজারের আনোয়ার হোসেন ঢাকাটাইমসকে জানান, সীমান্ত দিয়ে গরু আনতে ট্যাক্স দিতে হয় ২০ হাজার টাকার মতো। এরপর একটি গরু গাবতলী বাজার থেকে কিনতে হয় বেশি দাম দিয়ে। সঙ্গে হাসিলসহ আনার ভাড়া লাগে। তারা বলেন, ‘গরুর মাংস ৪৬০ টাকা আর খাসির মাংস ৮০০ টাকা করে বিক্রি করেও কোনো লাভ করতে পারি না। যেখানে গত রোজার ঈদেও ৩৮০ টাকা করে মাংস বিক্রি করে অনেক টাকা লাভ করতে পারতাম। কোরবানির ঈদের পর থেকে মাংস ব্যবসায় প্রতিদিন লোকসান দিতে হচ্ছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।

এই ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘দুই বছর আগেও চামড়া বিক্রি করতাম গরু তিন/চার হাজার, খাসি তিন/ চারশ টাকা করে। এখন গরু ৭০০/৮০০ টাকা এবং খাসির চামড়া ৩০/ ৪০ টাকা করে বিক্রি করতে বাধ্য করছেন ট্যানারি মালিকরা।’ ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘গরুর ভুঁড়ি ১২০০ টাকা, খাসির ভুঁড়ি এক/দেড়শ টাকায় বেচি। এইবার বুঝেন, চামড়ার দাম ভুঁড়ির থেইকাও কম।’

দোকান বন্ধ রাখায় আপনাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ‘এখন যখন কোনো লাভ করতে পারতাসি না তাই দোকান বন্ধ থাকলে প্রতিদিনের ভাড়া ৫০০/৬০০ টাকার মতো লস হয়। কিন্তু দোকান চালু থাকলে প্রতিদিন ছয়, সাত বা আট হাজারের মতো কিনা দাম থেইকা কম উডে।’

চার দফা দাবিতে রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা এই ধর্মঘটের ডাক দেন। এই ছয় দিন তারা তাদের মাংস বিক্রি বন্ধ রাখবেন এবং শহরে অন্য কোনো মাংস ব্যবসায়ীকে মাংস বিক্রি করতে দেবেন না। এই সাত দিনের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন মাংস বিক্রেতাদের এই সমস্যার কোনো সমাধান না করলে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ইজারার শর্ত অনুযায়ী মাংস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গরুপ্রতি ৫০, মহিষপ্রতি ৭০ এবং ছাগল-ভেড়া প্রতি ১৫ টাকা করে সিটি করপোরেশনের নেয়ার কথা থাকলেও হাটের ইজারাদারদের পক্ষ থেকে গত আট মাস ধরে গাবতলী পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। মাংস ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদ নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

তাদের অভিযোগ, সীমান্ত থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে চাঁদাবাজি হচ্ছে গরুপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। সরকারের আদেশ অমান্য করে কয়েকটি সিন্ডিকেট চক্র অতিরিক্ত খাজনা আদায় করে। বিষয়টি অবহিত করার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের কাছে বারবার আবেদন করা হয়। মেয়র একাধিকবার এসব সমস্যা সমাধানের নির্দেশও দেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ইজারার শর্ত বাস্তবায়নে নানা ধরনের টালবাহানা করাতে পশু কিনতে খরচ বেড়ে যায় এবং বর্তমান মূল্যে মাংস বিক্রিতে গরুপ্রতি আট হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো হচ্ছে সীমান্তের ট্যাক্স কমানো, সেখান থেকে শহরের পশুর হাটে পশু আনার সময় পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধ, গাবতলী ও অন্যান্য পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় নিয়ন্ত্রণ। এই দাবিগুলো পূরণ করলে মাংসের দাম কমানো সম্ভব বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি যাই হোক এই ধর্মঘটকে দাম বাড়ানোর কৌশল মনে করছেন ক্রেতা সাধারণ। রাজধানীর রামপুরা বাজারে কথা হয় আবুল হোসেন নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি ঢাকাটাইমসের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চাঁদাবাজি এটা নতুন কিছু নয়। ব্যবসায়ীরা মাংসের দাম বাড়ানোর জন্য এটা কৌশল হিসেবে নিয়েছে।’ এই ধর্মঘটের দ্বারা মাংসের দাম আরেক দফা বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এই ক্রেতা।