বৃহস্পতিবার ১৯ †m‡Þ¤^i ২০১৯


জামায়াতের আত্মগোপন আর বিবৃতিনির্ভর রাজনীতি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
15.02.2017

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর আগে এমনকি কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের দিন পর্যন্ত নানা হুংকার দেয়া জামায়াত গত তিন বছরের ঘটনাপ্রবাহে একেবারেই চুপসে গেছে। কোনো বিশেষ দিনে হঠাৎ প্রকাশ্যে এসে ছবি তুলে তা গণমাধ্যমে পাঠানো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু পেজে সেগুলো আপ করেই অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে দলটি।

কেন্দ্রীয় নেতারা সেই যে কবে আত্মগোপনে গেছেন, প্রকাশ্যে আসার নাম নেই। এর মধ্যে জোটের প্রধান দল বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে পারলে তারা গোপনে আসেন, আবার চলেও যান গোপনে।

এর ফাঁকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে মাঝেমধ্যে বিবৃতি পাঠাচ্ছেন জামায়াতের নেতারা। এসব বিবৃতিও আবার আগের মতো গণমাধ্যমে নজর কাড়ে না। হাতে গোনা দুই-একটি গণমাধ্যমে অল্প কিছু বক্তব্য এলেও বাকিগুলো ছাপা হয় না বললেই চলে।

অথচ ২০১৩ সালেও জামায়াত নানা হুংকার ছড়িয়েছে প্রকাশ্যে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আইনি ও রাজপথে মোকাবেলার ঘোষণা দেয়া দলটি নজিরবিহীন সহিংসতা করেছে। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের আগের দিন সাধারণের মোবাইল ফোনে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিয়ে এসএমএস  পাঠানো হয়েছে। আর ফাঁসি কার্যকরের পর সহিংসতা ছিল আরও ভয়াবহ।

জামায়াতের জনসমর্থন কখনও দেশে উল্লেখযোগ্য না হলেও রাজনীতিতে নানা কারণে সব সময় গুরুত্ব পেয়ে এসেছে দলটি। বিশেষ করে ২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতায় আসার পর দলটির নেতাদের বেপরোয়া মনোভাব আর বিএনপির ওপর তাদের প্রভাবের কারণে জামায়াতকে আলাদা গুরুত্ব দিতেই হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সব সময় বলাবলি হচ্ছে যে, বিএনপি কী করবে সেটা অনেকাংশেই জামায়াতের পরামর্শ গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে বিএনপি-জামায়াতের বর্জনের মধ্যেও দশম সংসদ নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জামায়াতের গুরুত্ব নানা কারণে রাজনীতিতে কমে এসেছে। দলটির পাঁচ শীর্ষ নেতার ফাঁসি কার্যকরের পর গোপন স্থান থেকে দলের নতুন আমির নির্বাচন করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তার জানান দিয়েছে দলটি।

আসলে প্রায় ছয় বছর ধরেই প্রকাশ্য কার্যক্রম নেই জামায়াতের। কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূলে সংগঠনের কার্যালয়গুলো বন্ধ। পুলিশের ভয়ে সভা-সমাবেশও হচ্ছে না। ।

এই অবস্থাতে গণমাধ্যমে অজ্ঞাত স্থান থেকে বিবৃতির মাধ্যমে হাজির হচ্ছে জামায়াত। জাতীয় প্রায় প্রতিটি ইস্যুতেই আসে এই বিবৃতি।

সবশেষ ৩১ দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপে যেতে না পারলেও নবগঠিত নির্বাচন কমিশন নিয়েও বিবৃতি দিয়ে নিজেদের মত জানায় দলটি। এই বিবৃতিটি এসেছে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানের নামে।

এর আগে নানা সময় বিবৃতি এসেছে আমির মকবুল আহমাদ, নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ বা অন্য কারও নামে।

নানা সূত্রের খবর হচ্ছে, সরকারের সঙ্গে বিরোধে যেতে চায় না দলটি। জামায়াত ঘনিষ্ঠ বিএনপি জোটের একটি দলের মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন,‘সরকার ক্ষিপ্ত হয় এমন কোনও কাজ করবে না জামায়াত। উল্টো সরকার কঠোর অবস্থান থেকে নমনীয় হয় সেজন্য কর্মপরিকল্পনা করার চিন্তা ভাবনা চলছে। আর এ কারণেই তারা ২০ দলে আগের থেকে নিষ্ক্রিয় থাকছে।’

ওই নেতা বলেন,জামায়াতের এমন পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে রাষ্ট্রপতির সংলাপ চলাকালে ২০ দলের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকে তাদের কোনো প্রতিনিধি না পাঠানোয়।

নির্বাচন কমিশন গঠনের পরদিন মঙ্গলবার রাতে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল হালিম উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত নীরব কেন বা কবে প্রকাশ্যে আসবে-এ বিষয়ে জানতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ থেকে শুরু করে দলের মহানগর পর্যায়ের বহু নেতার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়। একাধিক নেতা নানা সময় বিভিন্ন নম্বর থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন, এমন সমব কটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের দায়ে একাধিক শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের পরও জামায়াতের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের তাদের কৃতকর্মের জন্য সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে ওই সময় থেকে তাদের রাজনীতির মাঠে নৈতিক বৈধতা নড়বড়ে হয়ে যায়। এছাড়া বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক দিক থেকেও তারা কোথাও কোনো ধরণের সহযোগিতা পাচ্ছে না। ধীরে ধীরে তারা অনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তেছে। যে কারণে জামায়াত এখন পুরোপুরি প্যাডনির্ভর হয়ে পড়েছে।’

গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, ‘জামায়াত যেহেতু একটি ক্যাডারভিত্তিক দল তাই তাদের এই নীরবতাকে দুর্বল ভেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হাত গুটিয়ে বসে থাকা ঠিক হবে না। কারণ নীরবতার সুযোগে তারা অন্যভাবে সংগঠিত হয়ে মাঠে নামতে পারে, এটা ভুলে গেলে চলবে না।’