বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এক লাখ পাঁচ হাজার নারী ভোটারদের মন পেতে ব্যস্ত সাক্কু-সীমা


কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এক লাখ পাঁচ হাজার নারী ভোটারদের মন পেতে ব্যস্ত সাক্কু-সীমা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.03.2017

শাহাজাদা এমরান।। আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা শুরু হতে আর মাত্র দুইদিন বাকি। কিন্ত তাই বলে বসে নেই প্রধান দুই দলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু আর আঞ্জুম সুলতানা সীমা। সকাল থেকে দুপুর,দুপুর থেকে বিকাল , বিকাল থেকে আবার রাত বিরামহীন ভাবে তাদের প্রচার চলছে। তবে এবারের প্রচারণার একটি কৌশল দুই প্রার্থীর মধ্যেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর তা হলো, নারী ভোটারদের মন জয় করা। তাদের ধারণা, যে প্রার্থী যত বেশি নারী ভোটারের মন জয় করতে পারবে, সেই প্রার্থীই নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে পারবে। কারণ, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারী ভোট ৩ হাজার ১১৯টি বেশি। গেল নির্বাচনে কুসিকে পুরুষ ভোটার থেকে নারী ভোটারের কাস্টিং ভোট বেশি ছিল । এই সব বিবেচনায় সাক্কু – সীমা এখন ছুটছেন রান্না ঘরে কিংবা কর্মজীবী মহিলাদের কর্মস্থলে । উদ্দেশ্য একটাই, নারী ভোটারদের মন জয় করতে হবে।
আগামী ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ সাত হাজার পাঁচশত ছেষট্টিটি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লক্ষ দুই হাজার চার শত সাতচল্লিশ আর নারী ভোটার এক লক্ষ পাঁচ হাজার পাঁচশত ছেষট্টি। এক দিকে যেমন সংখ্যার দিক থেকে পুরুষ ভোটার কম, অপর দিকে বেশি কর্মজীবী হওয়ার কারণেও পুরুষ ভোটাররা সবাই ভোট দিতে পারবেন না। কারণ, কম করে হলেও প্রায় ১০থেকে ১৫ হাজার পুরুষ আছে যারা বিদেশে আবার অনেকেই আছে কর্মের কারণে যারা জেলার বাইরে অবস্থান করতেছে। ইচ্ছে করলেও ভোটের দিন তারা আসতে পারবেন না। সেই হিসেবেও আসন্ন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নারী ভোটাররা এক বিশাল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর কুমিল্লায় নতুন একটি প্রবাদ বাক্য শুরু হয়েছে যে, যে প্রার্থী যত বেশি নারীর মন পাবে, সে প্রার্থীই শেষ বিকেলে আনন্দের হাসি হাসবে। আবার আরেক হিসেবে দেখা গেছে, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে মোট ভোটারের এক চতুর্থাংশ ভোটার হচ্ছে সংখ্যালঘু ভোটার। অর্থাৎ ৫৫ হাজার ভোটার রয়েছে হিন্দু,বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টানদের। যার তিন ভাগেরও বেশি আবার হিন্দু ভোট। এই অর্ধ লক্ষ সংখ্যালঘু ভোটারের মধ্যে আবার পুরুষদের থেকে এগিয়ে রয়েছে নারীরা।
নারী-পুরুষ ভোটারের এই জটিল অংকে কিভাবে হাঁটছেন জানতে চাইলে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বলেন, আমি নারী পুরুষে ভেদাভেদ বিশ্বাস করি না । আমার কাছে সব ভোটারই সমান। আমাদের কুমিল্লার নারীরা অনেক সচেতন। তারা গত পাঁচ বছরে আমার কাজ কর্ম দেখেছে। আমি বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখেছি নারীরা আমাকে কিভাবে গ্রহণ করে। তারা আমাকে পছন্দ করে। আমার ওপরই তাদের আস্থা। তার পরেও আমি বসে নেই। আমি নারীদের ভোট পাওয়ার জন্য শুধু ২৭টি ওয়ার্ডে নারী কমিটিই করিনি , আলাদা করে ২৭টি নারী কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটিও করেছি। গত নির্বাচনেও নারীরা আমাকে ভোট দিয়েছে এবারও তারা আমাকে ভোট দিবে।
অপর দিকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী ও সাবেক প্যানেল মেয়র আঞ্জুম সুলতানা সীমা বলেন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নারী-পুরুষ উভয়ের। আমি সকলেরই কাছেই যাচ্ছি, আবেদন করছি, প্রার্থনা করছি ভোট দেওয়ার জন্য। আশা করি তারা আমাকে হতাশ করবে না। আর আপনি যেহেতু স্পেশাল নারীর কথা বলছেনই সেহেতু আমি বলব, আমি যেহেতু একজন নারী তাই একজন নারীর দু:খ,কষ্টের , বেদনার কথা আমার চেয়ে কে বেশি বুঝতে পারবে, বলেন ? একজন নারী যত সহজে তার সমস্যাটা আমাকে জানাতে পারবে, তত সহজে একজন পুরুষ মেয়রের কাছে জানানো সম্ভব না। আমি এই কুমিল্লা পৌরসভার কমিশনার ছিলাম, প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলাম, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলাম, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ছিলাম, প্যানেল মেয়র ছিলাম এবং আদর্শ সদর উপজেলার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ৮০ হাজারের ওপরে ভোট পেয়েছিলাম। সবই আমার মা-বোনদের অবদান। তাদের সমর্থন এবং ভোট ছাড়া আমার আজ এত দূরে আশা সম্ভব ছিল না। কুমিল্লা নগরীর নারীরা আজ নারায়ণগঞ্জের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা দেখেছে, একজন ডা. সেলিনা হায়াত আইভি কিভাবে একজন নারী হয়ে কাজ করে সফল হয়ে দ্বিতীয় বার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। সুতরাং এখন আর নারীদের পিছনে ফেলার দিন শেষ। প্রধান মন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, বিরোধী দলের নেত্রী নারী, কয়েক বছর আগে দেশের স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রীও নারী ছিল। সুতরাং নারীরাই পারে এবং পারবে এই কথাটিই আমার কুমিল্লা নগরের নারী মা বোনেরা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে প্রমাণ করবে ইনশাল্লাহ।

এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট নারী নেত্রী পাপড়ি বসু বলেন, আসন্ন কুসিক নির্বাচনে অবশ্যই নারী ভোটাররা ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। আমরা প্রয়াত একুশে পদক প্রাপ্ত নারী নেত্রী ডা. জোবায়দা হান্নানের নেতৃত্বে ফেমার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নারী ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছি। এখন আমরা সফল হয়েছি। কারণ, আমাদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে নারীরা এখন ভোট কেন্দ্রে আসছে এবং ফলাফল নির্ধারনে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যয়ের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা আক্তার বলেন, নারীরা এখন আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বেশি সচেতন। তারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে চায়। তবে কোন প্রভাবশালী মহল যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নারীদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে এ দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে। ভালো পরিবেশে নিরপদে ভোট দিতে পারলে এবার কুসিক নির্বাচনে নারীরা এক বিশাল ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন এই নারী নেত্রী।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের ভোটার ও মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহেরা আক্তার বলেন, নারীরা এখন অবলা নয় যে, যাকে তাকে ভোট নামের পবিত্র আমানত জিনিসটি দিয়ে দিবে। ইনশাল্লাহ আমরা ভোট কেন্দ্রে যাব। দেখে , শুনে ,বুঝে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করব। তবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ যাতে নারী বান্ধব হয় সেটা কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।
কুমিল্লার সচেতন মহল মনে করেন, আসন্ন কুসিক নির্বাচনে আসল ব্যবধানটা গড়ে তুলবে আসলে নারীরাই। সুতরাং প্রার্থীদের এই ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হতে হবে।