বুধবার ১৩ নভেম্বর ২০১৯


কাজের সন্ধানে একদল অভাবী মানুষ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
15.03.2017

মাহফুজ নান্টু: যে নগরটি বর্তমানে গভীর রাত পর্যন্ত নগরপিতার নির্বাচনী কাজে ব্যস্ততম সময় পার করছে, সে নগরের প্রাণকেন্দ্রে প্রভাতের সূর্য আকাশে উঁকি দেয়ার আগে একদল অভাবী মানুষ ঝুড়ি কোদাল নিয়ে চলে আসেন কাজের সন্ধানে। গত কয়েকদিন ধরে নগরীর কান্দিরপাড়ে এ দৃশ্যটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কাক ডাকা ভোরেই কাজ পাবার আশায় টাউনহলের সামনে দেশের উত্তর বঙ্গের শতাধিক অভাবী মানুষ ভিড় জমান ফুটপাতে। সবার সামনে মাটি কাটা বা ময়লা ফেলার ঝুঁড়ি আর কোদাল থাকে। আর কপালে থাকে একরাশ দুশ্চিন্তার ভাঁজ। কাজ পাবে কি পাবেনা এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিয়ে মধ্যে সময় পার করে। প্রতিটি দিন অধীর অপেক্ষার পর কারো কাজ মেলে আবার কেউবা ফিরে যায় খালি হাতে।
কুমিলা টাউন হলে কাজের অপেক্ষায় বসে থাকা মানুষগুলো বেশির ভাগ দেশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার। এছাড়া আশেপাশের জেলার কতিপয় দিনমজুরকেও তাদের দলে দেখা যায়। গতকাল সকালের শুরুতে কুমিলা কান্দিরপাড় টাউনহলের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কাজের অপেক্ষায় ফুটপাতজুড়ে বসে আছেন দু’শতাধিক মানুষ। তাদের সবার সামনে কোদাল আর ঝুড়ি। মাঠে পৌষ-মাঘ মাসে রোপণকৃত ধানের চারা বড় হচ্ছে। সবাই প্রান্তিক চাষী। বর্গা চাষের শরিষা আলু, গম উঠেছে। তবে বেশিরভাগ গেছে জমির মালিকের গোলায়। যে সামান্য শস্য নিজের ভাগে পেয়েছে, তা হয়ত খুব বেশি দিন যাবে না। এসময়ে হাতে কাজ না থাকায় ও পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যতের খাবার যোগাড় করার জন্য কাজের উদ্দেশ্যে মূলত এই অভাবী মানুষগুলো শতমাইল পথ পাড়ি দিয়ে কুমিল্লাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আসেন।

গত কয়েকদিন ধরে নগরীর টাউনহলের সামনে জড়ো হওয়া মানুষগুলোর সাথে কথা হয়। কাজের সন্ধানে কুমিলায় আসা মানুষগুলোর বেশিরভাগের বাড়ি পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারি জেলায়। তাদের মধ্যে কুড়িগ্রাম থেকে আসা যুবক নজির, জমাল, হোসেন মিয়ার সাথে কথা হয়। জেলার ফুলবাড়ী,ভুরুঙ্গামারী,রাজারহাট ও রৌমারী উপজেলায় তাদের পৈত্রিক নিবাস। ওই এলাকাগুলোতে মাঠে ধান ছাড়া অন্য কোন শস্য নেই। আগামী দু’মাস প্রায় বেকার থাকতে হবে। প্রত্যেকের পরিবারে বাড়তি অন্য কোন আয়ের উৎস নেই। বাড়িতে বেকার বসে থাকলে যৎসামান্য যা সঞ্চিত খাদ্য শস্য আছে তাও ফুরিয়ে যাবে। তাই মা,স্ত্রী,সন্তান ও ছোট ভাই বোনদের কথা চিন্তা করে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে কুমিলায় চলে এসেছেন। কিন্তু এখন কুমিলায় তেমন কাজ নেই। শুধু দালান নির্মাণ মিস্ত্রীদের সাথে সহকারী হিসেবে রোজ ২শ পঞ্চাশ  থেকে সাড়ে ৩শ টাকায় চুক্তি হয়। তবে প্রতিদিন কাজ থাকে না। কাজের তুলনায় তাদের উপস্থিতি বেশি থাকে বলে  মাঝে মাঝে অনেক কম টাকায় কাজে যাওয়ার কথা ফুটে ওঠে তাদের মুখে। ভাষাগত কিছুটা পার্থক্য থাকায় সমস্যা হয় রৌমারী উপজেলার হোসেন মিয়ার। সে জানায়, হামার মা আছে বউ আছে, বেটা দুখান, বেটি আছে তিনখান(আমার বাড়িতে মা,স্ত্রী দুই ছেলে ও তিন মেয়ে আছে)হামার কোন জমি নাই(আমার নিজের কোন জমি নেই)। ওধার জমিন করি (অন্যর জমি বর্গা চাষ করি)। কাম নেই খাওন কেমবাম আনি (কাজ না থাকলে খাবার যোগাড় করি কেমনে?) এখন উত্তরাঞ্চলে কাজ নেই। হই আউছি(এ জন্য এখানে এসেছি)। ওহন এইহানে বসি আছি। কোন মালিক আইলে যাইবামু(কেউ কাজে নিলে যাব বলে এখানে বসে আছি।
টাউনহলের সামনে বসে থাকা দিন মজুরদের সকলের পারিবারিক অবস্থা প্রায় একই।