শুক্রবার ১৪ অগাস্ট ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » চৈত্রে বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি কুমিল্লায় হুমকির মুখে দেড় লাখ হেক্টর বোরো ধান চিন্তার ভাঁজ প্রসারিত হচ্ছে ৬০ হাজার কৃষকের কপালে


চৈত্রে বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি কুমিল্লায় হুমকির মুখে দেড় লাখ হেক্টর বোরো ধান চিন্তার ভাঁজ প্রসারিত হচ্ছে ৬০ হাজার কৃষকের কপালে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.04.2017

মাহফুজ নান্টু।। বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ মাস চৈত্র। এখনো বৈশাখ আসতে সপ্তাহ বাকি। চলতি বছর চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয়েছে ঝড় আর শিলা বৃষ্টি। আর এমন ঝড় ও শিলা বৃষ্টির কারণে কুমিল্লা জেলায় মাঠে আবাদকৃত ১লাখ ৬০ হাজার ৩১ হেক্টর জমির বোরো ধান হুমকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে নষ্ট হয়েছে শাকসবজি, তরমুজ ভাঙ্গিসহ অন্যান্য ফসলাদি।
এ বছর চৈত্রমাসের মাঝামাঝি আগাম কাল বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি আর দমকা বাতাস শুরু হয়েছে। গত পনের দিনে দু’একদিন পর মাঝারি বৃষ্টি আর দমকা বাতাস প্রবাহিত হয়েছে কুমিল্লা জেলায়। গতকাল দুপুরের পর থেকে শুরু হওয়া দমকা বাতাস আর মাঝারি আকারের শিলাবৃষ্টিতে জেলার লক্ষাধিক হেক্টর জমির বোরো ধানের মাঠে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জেলার ৬০ হাজার কৃষক।
সরেজমিনে জেলার নি¤œাঞ্চল দাউদকান্দি, মেঘনা তিতাস,সদর দক্ষিণ,সদর ও বুড়িচং-ব্রাক্ষ্মপাড়া উপজেলায় ঘুরে ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিনের ঝড়-শিলা বৃষ্টি আর দমকা বাতাসে ধানের শীষগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে কৃষকরা তাদের কাক্সিক্ষত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন না।
এদিকে জেলার নি¤œাঞ্চল হোমনা মেঘনা ও দাউদকান্দিসহ আশেপাশের এলাকায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ, ভাঙ্গি ও মিষ্টি কুমড়ার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নষ্ট হয়েছে গোমতী চরে বাজারজাত করার অপেক্ষায় থাকা মিষ্টি কুমড়ো, চিচিঙ্গা, ঢেড়স, চাল কুমড়া, বেগুন, মিষ্টি আলুসহ অন্যান্য সবজিগুলো।
গতকালসহ পুরো চৈত্রমাসজুড়ে যে পরিমাণ বৃষ্টি ও দমকা কুমিল্লা অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে, তাতে খুব বেশি ক্ষতি না হলেও জড়-বৃষ্টির এ ধারা অব্যাহত থাকলে বোরো ধান ও সবজির ফলন নিয়ে বড় ক্ষতির শিকার হতে হবে জেলার কৃষকদের। জেলার সদর ও বুড়িচং উপজেলার গোমতীচরের অন্তত ১০ জন সবজি চাষী শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভারি বৃষ্টিতে গোমতী চরের সবজি ক্ষেতে তেমন সমস্যা হয় না। তবে বৃষ্টির সাথে দমকা বাতাস আর শিলা বৃষ্টিতে ফসলের যে ক্ষতি হয় তা কাটিয়ে উঠা সম্ভবপর নয়।
এদিকে সদর দক্ষিণ ও চান্দিনা উপজেলার কৃষক আবদুল মজিদ, সোবহান, আয়েত আলী, জুলফিকাসহ আরো অন্তত কুড়িজন কৃষক জানান, বিগত বছর গুলোতে কদাচিৎ এক আধটু ঝড়-বৃষ্টি হলেও এ বছরের মত এমন ধারাবাহিক ঝড়-বৃষ্টি আর দমকা বাতাস প্রবাহিত হয় নি। এখনো বৈশাখ মাস আসেনি। তার আগে এমন ঝড়-বৃষ্টি ভাবিয়ে তুলছে কৃষক সম্প্রদায়কে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আসাদুল্লাহ জানান, বোরো ধানের মাঠে এখনো তেমন ধানের শীষ আসেনি। তবে ঝড়-বৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।