শুক্রবার ১৪ অগাস্ট ২০২০
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য হাইকোর্টে ঐশী


মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য হাইকোর্টে ঐশী


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.04.2017

মা-বাবাকে হত্যার মামলায় মৃত্যদণ্ড পাওয়া ঐশী রহমান হাইকোর্টে হাজির হয়েছেন। সোমবার সকালে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ ঐশী রহমানকে হাইকোর্টে নিয়ে আসে।

এর আগে গত ৩ এপ্রিল মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত ঐশী রহমানের মানসিক অবস্থা পর্যক্ষণের জন্য ডিআইজি প্রিজনকে তাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ঐশীর ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানিকালে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে ঐশীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী। তিনি বলেন, কোনো স্বাভাবিক মানুষ তার বাবা-মাকে হত্যা করতে পারে না। ওই ঘটনার সময় ঐশী মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ছিলেন। তাই মৃত্যুদণ্ডের সাজা তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এসময় আদালত ঐশী রহমান বর্তমানে কোন কারাগারে আছেন আইনজীবীর কাছে জানতে চান। আইনজীবী জানান, ঐশী কাশিমপুর কারাগারে আছেন। পরে আদালত ঐশীকে ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় হাজিরের জন্য আইজি প্রিজনকে নির্দেশ দেন।

গত ১২ মার্চ পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত ঐশীর ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়।

২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যার দায়ে তাদের মেয়ে ঐশী রহমানকে দুবার মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ে প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে দুই বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর অন্যটি সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে দুই বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। মামলার অপর আসামি আসাদুজ্জামান জনিকে খালাস দেন আদালত।

২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগের বাসা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরের দিন ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিউর রহমান রুবেল পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দিন বিকেলে পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করেন ওই দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমান। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ ঐশীকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক আবুল খায়ের। এ মামলায় ৩৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।