রবিবার ২৫ জুন ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » শান্তনু কায়সারের প্রস্থান বাংলা সাহিত্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বিশিষ্টজনদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া


শান্তনু কায়সারের প্রস্থান বাংলা সাহিত্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বিশিষ্টজনদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.04.2017

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও দেশ বরেণ্য কথাসাহিত্যিক শান্তনু কায়সার । তিনি কুমিল্লার সন্তান না হলেও কুমিল্লাবাসীর অত্যন্ত আপনজন, কাছের মানুষ। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে এই নগর কুমিল্লায়। চাকুরী জীবন শেষ করেও তিনি থেকে গেছেন এই কুমিল্লা শহরে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাটিয়েছেন কুমিল্লায়। এই প্রখ্যাত সাহিত্যিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দৈনিক আমাদের কুমিল্লার  আজকের এই বিশেষ আয়োজন। আমাদের কুমিল্লার পক্ষ থেকে আমরা কথা বলি শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক ও সাহিত্যিকদের সাথে। কুমিল্লার বিশিষ্ট এই ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আমাদের স্টাফ রিপোর্টার মাহফুজ নান্টু।

প্রগতিশীল সাহিত্যিক ছিলেন শান্তনু কায়সার- আমীর আলী চৌধুরী
শান্তনু কায়সার যদি ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়তো, তাহলে আমি শিক্ষক হিসেবে একজন কীর্তিমান ছাত্র পেতাম। তবে নি:সন্দেহে বলতে পারি বাংলা সাহিত্য চর্চায় তার ঝরঝরে ব্যতিক্রমী উপস্থাপন তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। আমি মনে করি, শান্তনু একজন প্রগতিশীল লেখক।  ১৯৯৬ সালের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তনু কায়সারের সাথে আমার কথাবার্তা হতো। তবে ৯৬’র পরে আমার সাথে শান্তনু কায়সারের সাথে আমার পারিবারিক সর্ম্পক গড়ে উঠে। হৃদ্যতায় ভরপুর একজন মানুষ। তার প্রস্থান বাংলা সাহিত্যর জন্য একটা অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

সাবেক অধ্যক্ষ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ।

সাহিত্যিক হিসেবে তিনি অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন

অধ্যাপক শান্তি রঞ্জন ভৌমিক
বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক শান্তি রঞ্জন ভৌমিক  প্রয়াত শান্তনু কায়সারের সাহিত্য কর্ম নিয়ে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।  প্রথমে তিনি বলেন, লেখক হিসেবে নি:সন্দেহে শান্তনু কায়সার অনেক পরিশ্রমী মেধাবী ছিলেন। অনেক পড়াশোনা করতেন। তার এ পরিশ্রমের বিষয়টি ফুটে উঠত তার লেখনিতে, তার বক্তব্যে। তার্কিক কিংবা একজন স্পষ্টবাদী হিসেবেও বেশ পরিচিত ছিল শান্তনু। নিজের মত করে গুছিয়ে বলতে পারার এক অসাধারণ গুণ ছিল শান্তনুর। তবে শান্তনুর আরেকটি বিষয় ছিল উল্লেখযোগ্য। তার যুক্তির কাছে অন্যর যুক্তি-তর্ক কখনো স্থান পেত না, বৈকি শান্তনু মেনে নিতে পারতো না। আর এ জন্য তার হয়তো বন্ধুমহলের পরিধি বিস্তৃত না হলেও তার লেখার পাঠক ছিল অনেক। শান্তনু কায়সার মূলত ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন উল্লেখ করে অধ্যাপক শান্তি রঞ্জন বলেন, সেই পাশ্চাত্ত্যধাঁচের সাহিত্য আর বাংলা সাহিত্য কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। শান্তনুর লেখায় পাশ্চাত্য ঢঙ্গে বাংলা সাহিত্য উপস্থাপনার একটা বিষয় ছিল লক্ষণীয়। তবে যত যাই হোক শিক্ষক হিসেবে জানি না একজন সাহিত্যিক হিসেবে অনন্তকাল তিনি বেঁচে থাকবেন।
লেখক ও গবেষক

কথা বলা যে শিল্প শান্তনু কায়সারের মাধ্যমে উপলব্ধি করেছি..হাসান  ইমাম মজুমদার ফটিক
কুমিল্লা অজিতগুহ কলেজের অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার বলেন, শান্তনু স্যারের এভাবে চলে যাওয়া সত্যি বড় কষ্টের। স্যারে বিভিন্ন বইতে আমার জেঠার কথা উল্লেখ করেছেন। আমরা পারিবকারিকভাবে স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আরো বরেন ,  শান্তনু কায়সার সর্ম্পকে বলতে গেলে অনেক কথাই বলা যাবে। নি:সন্দেহে প্রাগ্রসরমান লেখক, সাহিত্যিক, গল্পকার। সাহিত্যের সব শাখায় তার গভীর বিচরণ ছিল। যে কোন অনুষ্ঠানে সুন্দরভাবে বক্তব্য উপস্থাপন শান্তনু কায়সারকে আলাদাভাবে পরিচিত করে তোল। মোট কথা বলা যায়, কথা বলা যে  একটা শিল্প তা আমি শান্তনু কায়সারে মাধ্যমে উপলব্ধি করেছি।
অধ্যক্ষ
অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়, কুমিল্লা

শান্তনু কায়সারের জ্ঞানের পরিধি অনেক গভীর…. ড:আলী হোসেন
কুমিল্লা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ড:আলী হোসেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, শান্তনু কায়সার সর্ম্পকে কম কথায় অনেক কিছু বলা যায়। বাংলা সাহিত্য শান্তনু কায়সারের গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। সাহিত্যকে চর্চার মাধ্যমে হৃদয়াঙ্গম করে সাবলীল উপস্থাপন করার একটি ব্যতিক্রম গুণের অধিকারী ছিলেন তিনি।
অধ্যক্ষ
কুমিল্লা সিটি কলেজ

সমালোচনা সাহিত্য ছিল শান্তনু স্যারের নিজস্ব স্বকীয়তা, বাংলা সাহিত্যে অনুপ্রবেশেকারীদের বিরুদ্ধে ছিলেন কঠোর…….. মামুন সিদ্দিকী
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা লেখক মামুন সিদ্দিকী জানান, শান্তনু কায়সার স্যারের  চলে যাওয়াতে  কুমিল্লা তথা দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। সাহিত্য চর্চার বিষয়, হৃদয়াঙ্গম করার বিষয়। হৃদয়াঙ্গম ছাড়া চর্চা ছাড়া সাহিত্য প্রবেশ করার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। বাংলা প্রবন্ধ, গল্প কিংবা কবিতা সাহিত্যর যে কোন শাখায় শান্তনু স্যারের গভীর বিচরণ উনার লেখনির মাঝে অনুভব করা যায়। পাঠক স্যারে গল্প প্রবন্ধ যাই পড়–ক না কেন মনে হবে সামনে যেন স্যার বসে বসে পড়ে শোনাচ্ছেন। স্যার যা ভালো মনে করতেন তাই নিজের মতো করে উপস্থাপন করতেন। স্যারের সাহিত্যকর্মে একটা ঝরঝরে উপস্থাপন আর রসবোধ সৃষ্টি করতেন, যেন পাঠক তার তৃপ্তির ষোলকলা পূর্ণ করতে পারে। শান্তনু স্যারের আরেকটি বিষয় ছিল উল্লেখযোগ্য,মাকর্সবাদের দর্শনের অনুসারী শান্তনু স্যার লক্ষ্য করতেন, যে সাহিত্যকর্ম সমাজের শোষিত বঞ্চিতদের বিষয়গুলো যুক্ত হতো না, সে সাহিত্যকে তিনি পছন্দ করতেন না। গল্প কবিতা,প্রবন্ধ যাই লিখতেন সেই লিখাটাকে নান্দনিক কথামালায় রুচিশীল উপস্থাপনা ছিল স্যারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আজ স্যারে চলে যাওয়া সত্যি এক শূন্যতার সৃষ্টি করলো। স্যারে বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
গবেষণা কর্মকর্তা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়



Notice: WP_Query was called with an argument that is deprecated since version 3.1.0! "caller_get_posts" is deprecated. Use "ignore_sticky_posts" instead. in /home/dailyama/public_html/beta/wp-includes/functions.php on line 4022