শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২০


হারিয়ে যাচ্ছে ব্রাহ্মণপাড়ার পান চাষ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
27.04.2017

ফারুক আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়া।। এক সময় কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার উত্তর চান্দলা সারা জেলায় ঐতিহ্যবাহী পান চাষের জন্য বিখ্যাত ছিল। আজ থেকে গত পাঁচ বছর আগে উত্তর চন্দলা পানের বাগান ছিল ১৪০টি। নানান সমস্যার কারণে বর্তমানে এখানে পানের বাগানের সংখ্যা রয়েছে মাত্র ২০ থেকে ২২টি। দিন দিন ঐতিহ্যবাহী চান্দলার পান চাষের এ বিপর্যয়ের জন্য পান চাষিরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। উত্তর চান্দরা এলাকার অমিল চন্দ্র পাল এ প্রতিনিধিকে জানান, পান আমাদের জাতের পেশা। শত বছর ধরে পান আমাদের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। আমি নিজে বাপ-দাদার পরে ৪৫ বছর ধরে পান চাষের সাথে জড়িত আছি। কয়েক বছর আগেও পান চাষ করে পরিবারের খরচ চালাইতাম। কিন্তু বর্তমানে পান চাষে আমাদের অনেক সমস্যার কারণে অনেক চাষী পান চাষ ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দিয়েছে। তার অন্যতম কারণ হল- বর্তমানে পান চাষে খরচের পরিমাণ বেশী। সেই তুলনায় আমরা পানের দাম পাই না। এখানে আগের মত পাইকারী ক্রেতা আসে না। আমাদের উৎপাদিত পান স্থানীয় চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় অন্যান্য জাতের হাইব্রীড পানের প্রতি খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি ঝুঁকছে। আমরা এক বীরা অর্থাৎ ৮০টি পান ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করি। যা বিক্রি করে খরচ উঠানো অসম্ভব। যারা পান বাগানে কাজ করে তাদের মজুরী অনেক বেশি। অর্থের জন্য সময় মত আমরা পান বাগানের কাজের জন্য শ্রমিক কাজে লাগাতে পারি না। আমাদের পানের বাগানগুলো প্রায় শত বছরের পুরানো। এ মাটিতে এখন আর আগের মত পান চাষ ভাল হয় না। আর নতুন বাগান করতে গেলে খরচের পরিমাণ বেশি হওয়ায় কেউ আর এ ঐতিহ্যবাহী পেশার দিকে এগিয়ে আসছে না। আমাদের ছেলে ও নাতিপতিরা পান চাষের প্রতি কোন প্রকার আগ্রহ দেখায় না। কারণ  এ পেশায় তেমন কোন লাভ নেই। আমার ৩৫ শতক জমিতে পান বাগান আছে। যদি সবকিছু ঠিক থাকে ৪ থেকে ৫ মাস পরে এখান থেকে পান সংগ্রহ করতে পারবো। এ বছর বৃষ্টিপাত ভাল হওয়ায় পান বাগানের অবস্থা ভাল। এ পর্যন্ত ৩৫ শতক পান বাগানে আমার ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পান সংগ্রহ পর্যন্ত কীটনাশক, শ্রমিকবাবদ আরো অনেক টাকা লাগবে। ঠিক ভাবে পান বিক্রি করতে পারলে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রির আশা করছেন তিনি। যখন অনেক গরম পড়ে তখন পানি সেচ, পোকা সমস্যা ও অনেক প্রকার রোগবালাই দেখা দেয়। সঠিক কীটনাশকের অভাবে আমাদের পানের প্রতি বছরই ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতি পোষাতে না পেরে অনেক চাষী পান চাষ ছেড়ে দিচ্ছে। পান চাষের জন্য আমরা সার, ঔষধ অথবা আর্থিক কোন প্রকার সহায়তা পাই না। বর্তমানে পান চাষ করে এমন চাষি সুকুমার, নিখিল, অমর, সাদন পালসহ অনিল চন্দ্র পাল জানান, জাতের ব্যবসা পান চাষ অনেক পুরাতন হয়ে গেছে। সেদিন মনে হয়ে আর বেশি দূরে নয় যে দিন উত্তর চান্দলা এলাকায় পান চাষ ছিল বলে কেউ মনে রাখবে।