শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২০


এক হাতের কারিগর ইকবাল!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.05.2017

শাহ ফয়সাল কারীম, সদর দক্ষিণ। ছন্দু হোটেলের কারিগর ইকবাল। ট্রেন দুর্ঘটনায় গত বছরের বৈশাখ মাসে এক হাত ভেঙে যায় তার। কয়েকদিন চিকিৎসা চালানোর পর উন্নতি না হওয়ায় এক হাত কেটে প্রতিবন্ধকতা বরণ করে নিতে হয় তাকে। কিন্তু এ প্রতিবন্ধকতাকে ডিঙিয়ে জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার দুর্নিবার প্রত্যয় নিয়ে কারিগরের কাজ করে যাচ্ছেন কুমিল্লার অন্যতম ব্যস্ত রেস্তোরাঁ ছন্দু হোটেলে। দাম্পত্য জীবনে জড়িয়ে যাওয়া পিতৃহারা ইকবালের এছাড়া যে কোনো গতি নেই!  গত রোববার হোটেলে গিয়ে কথা হয় তার সাথে। অভাবের সংসার হওয়াতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর আর পড়াশোনা ছেড়ে দেন তিনি। তারপর থেকে পা রাখেন কর্মজীবনে। এভাবে সংসার চালাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় তাকে। তখন নিজ এলাকা থেকে পরিচিত এক ভাইয়ের সাথে ছন্দুর হোটেলে চাকরি নেওয়া হয় তার। বেশ কয়েক বছর কাজ করার পর কুমিল্লা শহরের একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি নেন। চাকরির উপার্জন দিয়ে চার বোনের মধ্যে দুই বোনকে বিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দাম্পত্য জীবন শুরু হয় তার। একদিন হঠাৎ তার জীবনে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা নেমে আসে। তিনি বলেন, শ^শুর বাড়ি কুমিল্লার শাসনগাছা থেকে আমি রেলওয়ে স্টেশনে এসে বিজয় এক্সপ্রেস এ করে আখাউড়া জংশনে পৌঁছার পর ট্রেনটির ধীর গতি ছিল, তখন আমি ওই স্টেশনে নামতে গিয়ে পা পিচলে পড়ে আমার হাত ভেঙে যায়। তাৎক্ষণিক আমাকে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওইখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর আমার হাতের কোনো উন্নতি হয়নি। কিছুদিন পর আমার ডান হাত অপারেশন করে ফেলে দেওয়া হয়। সুস্থ হবার পর এক হাত নিয়েই বিভিন্ন জায়গায় কাজের জন্য গেলে কেউ কাজে রাখতে রাজি হয়নি। ছন্দু হোটেলে দীর্ঘ দিন কাজ করার ফলে মালিক পক্ষ জানতে পেরে আমাকে পুনরায় চাকরি প্রদান করে। এক হাত দিয়ে কাজ করতে  কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তেমন সমস্যা না, তবে পেটের দায়ে কাজ করতে হয়। দৈনিক বারো ঘণ্টা কর্মস্থলে থাকি। মাসিক বেতন দেওয়া হয় ছয় হাজার নয় শত টাকা। এই দিয়ে চলছে সংসার।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হাজী ইকবাল হোসেন জানান, শ্রমিকদের সাথে আনন্দ উল্লাস, তাদের সুখে-দুঃখের কথা নিয়ে হোটেলে একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করা হবে।