শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২০


রমজানের পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে এখনই


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.05.2017

রমজান মাস আসতে বাকি আরও তিন সপ্তাহেরও বেশি। এই মাসে চাহিদা বেশি হয় এমন পণ্যের দাম বাড়লে ব্যবস্থা নেয়া হবে-সরকারের এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই বেড়ে চলেছে রমজান পণ্য হিসেবে পরিচিত দ্রব্যগুলোর দাম।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে গেছে ছোলা, ডাল ও চিনির দাম।

সংযমের মাস রমজানে খাদ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় অনেক। চাহিদাবিধির স্বাভাবিক গতি প্রকৃতির বিপরীতে বাংলাদেশে এই সময় দাম বৃদ্ধিও একটি স্বাভাবিক প্রবণতা। গত কয়েক বছর ধরে দেখা গেছে, রোজার আসার আগে আগে বেড়ে যায় দাম। তবে এবার দাম বৃদ্ধির ঘটনাটি ঘটছে আরও আগাম।

সরকার অবশ্য বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে যাচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সচিবালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে এমনও বলেছেন যে, দাম না বাড়ালে পুরষ্কার দেবে সরকার। ব্যবসায়ীরাও বলেছেন, রমজানে চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত আমদানি করা হচ্ছে। কাজেই দাম বাড়বে না।

তবে এই ধরনের প্রতিশ্রুতি ব্যবসায়ীরা এর আগেও দিয়েছে। তবে কথা রাখেনি তারা। এবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে।

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী সফিউল হক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা আসলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি মনিটরিং এর মাধ্যমে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে অনেক সময় এই প্রক্রিয়া কাজ করে না। তারপরও আমরা আমাদের কার্যক্রম জোরদার করেছি। আপনি যে তথ্য দিয়েছেন, আমি সেটাও মনিটরিং সেলে দেব। তারা দেখবেন কী কারণে বাড়লো কেন বাড়লো।’

জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংগঠন কনজ্যুমারস রাইটস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের সহসভাপতি নাজের হোসাইন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সরকারের নীতি নির্ধারণে ত্রুটি আছে। রমজানের দুই মাস আগে থেকেই বাজারদর মনিটরিং করা উচিত। আর কারসাজি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কারসাজি হচ্ছে এটা নিশ্চিত, কিন্তু বাস্তবতা হলো কোনোদিন ব্যবস্থা নেয়া হয় না।’

নাজের হোসাইন বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে শুধু সরকার আর ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। এমনটা হলে কেবল দেনদরবার হয়। সেখানে ভোক্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি থাকলে আলাপ-আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত হতে পারতো।’

মঙ্গলবার রাজধানীর চকবাজারের মৌলভীবাজারে পাইকারিতে কেজিপ্রতি ছোলার দাম বেড়েছে আট টাকা। মৌলভীবাজারে উন্নতমানের অস্টেলিয়ান ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০৫ টাকায়। যা গত সপ্তাহেও ছিল ১০০ টাকা। দাম বাড়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা কম সরবরাহকে দুষছেন।

মৌলভীবাজারের ছোলা বিক্রেতা আতাউর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সাধারণ ছোলা গত সপ্তাহে ৯০ টাকায় বিক্রি করেছিলাম। এখন বাজারে হঠাৎ ছোলার ঘাটতি শুরু হয়েছে। এর সাথে আমদানিও হচ্ছে কম। এই কারণে বাজারে ছোলার দাম বাড়তি।’ তবে রমজানের আগেই বাজারে ছোলার দাম স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।

ছোলার পাশাপাশি বাড়ছে মসুর ডালের দামও। সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ টাকারও বেশি। মৌলভীবাজারে কেজিপ্রতি নতুন মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা কেজি দরে। রমজানের আগে দাম আরও বাড়বে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী হাজী আলম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘রমজানের আগে থেইকা এইসব মালের দাম বাইড়া যায়। এইবার দাম একটু বেশি বাইড়া গেছেগা। রমজানের মধ্যে অন্যগুলার দাম কমলেও এইটার দাম কমার সম্ভাবনা নাইক্কা।’

রমজানে অন্যতম গুরত্বপূর্ণ পণ্য হল চিনি। অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজানে চিনির কদর বেশি থাকায় বছরের এই সময়ে চিনির দাম লাফিয়ে বেড়ে উঠে। চলতি বছর দাম বেড়েছে আগেভাগেই।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৪২ টাকা থেকে ‍চিনি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর কারওয়ান ও চকবাজারে খোজ নিয়ে জানা যায়, চিনি সরবরাহ সংকটের কারণে গত শনিবার থেকেই দাম বাড়তে শুরু করেছে। দুইদিন আগেও যে ৫০ কেজির বস্তা দুই হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল সেই চিনি গতকাল বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৩০০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের চিনি ব্যবসায়ী আতিউর হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘চিনি সরবরাহ সংকটের কারণে প্রতি বস্তায় চিনির দাম বেড়েছে ৩৫০ টাকায়।’

মৌলভীবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, ‘একদিন আগেও বস্তাপ্রতি চিনি বেচাকেনা হয়েছে দুই হাজার ৯৩০ থেকে দুই হাজার ৯৪০ টাকায়। শবে-বরাতের পরেই এর দাম আরও অনেক বাড়বে।’