বুধবার ১২ অগাস্ট ২০২০


মুরাদনগরে আ’লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.05.2017

আজিজুর রহমান রনি,মুরাদনগর ।। এমপি হারুন ও জাহাঙ্গীর সরকারে বিভক্ত মুরাদনগর উপজেলা আ’লীগের দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ  কোন্দল চরম আকার ধারণ করছে। এক পক্ষ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে  প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে। গতকাল দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ওই সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে অপর পক্ষ।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার পক্ষের আ’লীগ নেতারা গতকাল ঢাকায়  সংবাদ সম্মেলন করে  বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুন দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে এমপি হয়েছেন। এমপি হওয়ার পর থেকে স্থানীয় বিএনপির লোকজনকে নানা প্রকারের সুযোগ সুবিধা দিয়ে স্থানীয় আ’লীগকে কোণঠাসা করে রেখেছেন। উপজেলার বিভিন্ন কাজের টেন্ডার হতে শুরু করে থানা, ইঞ্জিনিয়ার, পিআইও অফিস বিএনপির লোকজন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছেন। যার ফলে উপজেলার স্থানীয় আ’লীগ বর্তমানে বিরোধী দলের ভূমিকায় আছে বলে, মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত আছে। এবং গতমাসে উপজেলার রহিমপুর গ্রামে যে ডাবল মার্ডার হয়েছে তা ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুনের অনুসারীদের ইশারায় ওই হত্যাকা- ঘটে যার সঠিক তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। যারা হত্যাকান্ড গঠিয়েছে বা হত্যা হয়েছে তারা আ’লীগের কেউ না। তাঁর এই এহেন ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডের কারণে উপজেলা আ’লীগের ভাবমূর্তি সংকটের মুখে। স্থানীয় মানুষ  বলাবলি করছেন, ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুন আগামী নির্বাচনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। এমন অবস্থায় থেকে স্থানীয় আ’লীগকে রক্ষার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জাহাঙ্গীর সরকার গ্রুপ।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক  জাহাঙ্গীর আলম সরকার মুঠোফোনে বলেন, কুমিল্লা-০৩ মুরাদনগর আসন থেকে গত সংসদ নির্বাচনে ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুন ও আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করলে, দল আমাকে নৌকা মার্কা মনোনয়ন দিয়েছিলেন। ঘটনাক্রমে পরবর্তীতে জাতীয় পার্টিকে আসনটি দিয়ে দেয়া হয়। আমি দলীয় আদেশ মতে নির্বাচন থেকে বিরত থাকি। কিন্তু ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুন দলের প্রতি আনুগত না থেকে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করে করে এমপি হন। আমি আশা করছি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আগামী সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-০৩ মুরাদনগর আসন থেকে আমাকে নৌকা মার্কা মনোনয়ন দিবেন। কারণ একমাত্র আমিই তৃণমূলের আ’লীগের নেতা কর্মীদেরকে নিয়ে মুরাদনগর তথা কুমিল্লা উত্তর জেলার আ’লীগকে চাঙ্গা রেখেছি সাংগঠনিক ভাবে।

অপর দিকে স্থানীয় সাংসদ ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুন এফসিএ’র সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, আমি আর স্বতন্ত্রে নেই গত বুধবার আ’লীগে যোগদান করেছি। আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে কিছু নেতা কর্মী যে অভিযোগ এনেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কিছু নেতা কর্মী আছে যারা আমার কাছে অনৈতিক সুবিধা চেয়ে পায়নি তারাই আমার বিরোধিতা করছে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আমি আশা করছি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আগামী সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-০৩ মুরাদনগর আসন থেকে আমাকে নৌকা মার্কা মনোনয়ন দিবেন।
ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আ: আউয়াল, কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধ হানিফ সরকার, উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি হেলাল উদ্দিন মজনু, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস,টি তানবির আহম্মেদ ফয়সাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম মাসুক, জেলা পরিষদ সদস্য ভিপি জাকির, কোষাদক্ষ আব্দুল লতিফ, সদস্য স্বপন কুমার পোদ্দার, বিশ্বজিত সরকার, কালাম চেয়ারম্যান, আলমগীর ভূইয়া, এ,কে,এম গোলাম মোস্তফা দিপু।