বৃহস্পতিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭


সৌভাগ্যের রজনী আজ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
11.05.2017

স্টাফ রিপোর্টার।।     আজ বৃহস্পতিবার  দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত। শবে বরাত শব্দটি ফার্সি, এর অর্থ সৌভাগ্যের রজনী। এ রাতে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা পবিত্র এই রাতে নামাজ, ইবাদত–বন্দেগির মধ্যে দিয়ে বিগত জীবনের ভুল–ভ্রান্তি ও পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ জীবনে পাপ পরিহার করে শুদ্ধ–সুন্দর জীবন প্রার্থনা করেন।
আজ কুমিল্লাসহ সারা দেশের ধর্মপ্রান মুসলমানগণ অত্যন্ত ধমীর্য় ভাবগা¤ী¢র্যের মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালন করিবে।  নফল নামাজ রোজার পাশাপাশি, কুরআন তিলাওয়াত, কবর জিয়ারত, জিকির, বিশেষ দোয়া, আলোচনা ইত্যাদির মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করে থাকেন। অনেকে গরিবদের মধ্যে হালুয়া রুটি, মিষ্টি ইত্যাদি বিতরণ করেন। করেন দান সদকাহ। শবেবরাত উপলক্ষে কাল সোমবার সরকারি ছুটি। শবে বরাত একটি ফারসি বাক্য। শবে অর্থ রাত। বরাত অর্থ ভাগ্য। এ জন্য অনেকে একে ভাগ্যরজনী বলে থাকেন। আবার একে অনেকে লাইলাতুল বরাতও বলে থাকেন। যার শাব্দিক অর্থ– মাগফিরাত বা মুক্তির রাত। পাক–ভারত উপমহাদেশে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে শবে বরাত পালন করা হয়। এ রাতে সবার ভাগ্য নির্ধারিত হয় এবং আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফ করেন– এ বিশ্বাস পোষণ করা হয়।
হাদিস শরীফ থেকে জানা যায়, রাসুল (দ.) মধ্য শাবানের রাতে নামাজ আদায় ও দিনে রোজা রাখার তাগিদ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের একটি সূরায় ‘লাইলাতুল মোবারাকাহ’ শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়, যাতে বলা হয়েছে‘এটা সে রাত যাতে প্রতিটি বিষয়ের বিজ্ঞতাপূর্ণ ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত আল্লাহর নির্দেশে প্রকাশ করা হয়।’ (সূরা দুখান, আয়াত ৩ ও ৪ )। কোনো কোনো তাফসিরকারক এ আয়াতকে উদ্ধৃত করে সেটাকেই শবেবরাত বলে অভিমত দিয়েছেন।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা:), ইবনুল উমার (রা:), মুজাহিদ (রা:), কাতাদা (রা:), হাসান বসরী (রা: )সহ বেশির ভাগ প্রসিদ্ধ তাফসিরবিদ ‘লাইলাতুল মুবারাকাহ’ বলতে লাইলাতুল কদরকে আখ্যায়িত করেছেন, যা রমজান মাসে আসে। হাদিসে এসেছে, রাসূল (দ.) শাবান মাসে বেশি রোজা রাখতেন। কিন্তু উম্মতকে এ মাসে বেশি রোজা রাখতে নিষেধ করেন, যাতে রমজানের জন্য সতেজ থাকে। অবশ্য তিনি মধ্য শাবানের রাতে নামাজ আদায় করা ও দিনে রোজা রাখার তাগিদ দিয়েছেন। (ইবনে মাজা : কিতাবুল ইকামা)। তিরমিযী শরীফে এসেছে এ রাতে আল্লাহতায়ালা সর্বনিম্ন আকাশে (দুনিয়ার আকাশে) অবতরণ করেন এবং মানুষকে তাদের পাপ ক্ষমা করানোর জন্য আহ্বান জানান।