শনিবার ১৯ অগাস্ট ২০১৭


পবিত্র মাহে রমজান সংখ্যা-১৭


আমাদের কুমিল্লা .কম :
27.05.2017

সময়ের ঘড়ি
ভূঁইয়া তাজুল ইসলাম

সময়ের ঘড়ি চলছেই অবিরাম
ধমনীতে সচল ঠক্ ঠক্ সে ধ্বনি
জন্ম বীজ থেকে গতিবিধি অদ্যাবধি
সকল শক্তির পরিসীমা নির্ধারিত ;
একদিন চলমান গতি শান্ত স্থির
বন্ধ হবে মন ঘড়ির সচল কাঁটা
ক্ষনিক পূর্বে যা ছিলো চলমান জীব
বর্তমান অসাড় দেহ মাটির খাঁচা।
জীবনে সফল পরিনতি অর্জিত যার
সে পরিপূর্ন স্বার্থক সকল মানুষ
উৎকন্ঠাহীন মৃত্যুকে করবে আলিঙ্গন
মৃত্যু স্বাদ নিয়ে চলে যাবে পরপার
¯্রষ্টার কৃপা দৃষ্টিতে ধন্য যার মন
সেই পাবে শান্তির বিশ্রাম চিরন্তন।।

দূর্বিসহ মড়কে অহর্নিশ
আকিব শিকদার

আমার রূপসী বাংলা কাটে সাঁতার অহরহ দূর্বিসহ
কালের বিপন্ন সরোবরে।
নিরাশার ধূ ধূ বালুচরে
দারুণ রক্তক্ষরণ চলে অর্হনিশ
সবুজের গায়ে লাগে বহ্নিদগ্ধ বিষ
জননীর বুকে ছোবল আঁকে ভয়াল নখারো দানব।

ভাগ্যচ্যুত বাঙালি অঙ্গে ভিখেরী-বেশ, আজ বড়ো কাঙালি
যেন গলায় শিকলবাঁধা কুকুর
সত্ত্বাধীকারি যার ভিনদেশি মজুর।
ব্যথার তরঙ্গ দোলে
নিবিড় নদীর কাশফুলে
কৃষাণের গালে হাতÑক্ষেতের ফসল চেটে খায় অরাজকতা।

কবিতার অন্তরে বাজে অজস্র বীণ প্রাণহীন।
কোকিলের সুমিষ্ট স্বর
কর্কশ বায়সের সুর সম ভাস্বর।
মড়ক আজ হড়িৎ ঘাসেÑ
রক্তের আলপনা আঁকা চারপাশে
নেশাচুর মাতালের মতো আমাদের চোখ বুজে বেঁচে থাকা।

ভালো কাজে এসো
কাজী মোরশেদ আলম

ঘৃণিত কাজে যেওনা তুমি ভালো কাজে এসো,
ভালো দ্বারা হবে উন্নত সঠিক ভালোবেসো।
দ্বারে কাছে আছে ভালো গ্রহণ করোনা মন্দ কালো
অতিসত্ত্বর আসো তুমি ভালোর পাশে ঘেঁষো।
ঘৃণিত কাজে যেওনা তুমি ভালো কাজে এসো।

কিছু লোককে দেখতে পাবে ওরা খুবই মন্দ,
পরকালে পাবে শাস্তি সুখ যে হবে বন্ধ।
চায় না তারা করতে ভালো ঘৃণা করে সঠিক আলো
তাইতো তারা খুবই বোকা কেন তুমি মেশো?
ঘৃণিত কাজে যেওনা তুমি ভালো কাজে এসো।

তুমি আসবে বলে
মো. তাজুল ইসলাম

পুষ্পে পুষ্পে হৃদয় সাজে হাজারো স্বপ্ন হৃদয়ে বাজে
শূন্য হৃদয় পূর্ণ হতে কে তুমি মোর জীবন পথে?
আমি তো সে কবে থেকে বসে আছি পথ ছেড়ে
হৃদয় জন্মের প্রথম ভোরে শত শত ফুল ছিটিয়ে
ফুল গালিচার পথের ধারে গান গেয়ে যাই আসবে বলে।
জোছনা রাতের তারা হাসে চাঁদতো তার আগেই হাসে
বাগান ভরা ফুলেরা হাসে মানবসন্তে কোকিল ডাকে
আকাশ বাতাস ছুটতে থাকে, মোর ধরণী নাচতে থাকে,
মন বাগানে ফুল ফুটতে থাকে মধুর স্বপ্নগুলি ডাকতে থাকে
এত সুখ এত সুখ শুধু তুমি আসবে বলে।

বইয়ের বোঝা
মো. কৌফিল মাহমুদ স্বাধীন
(৭ম শ্রেণী, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজ।)

সকাল বেলা স্কুলে যেতে পরে শিশুরা মোজা,
আর কাঁধে করে নিয়ে যায় বইয়ের একটি বোঝা।
বইয়ের বোঝা নিয়ে যেতে কারও কাঁধ হয় ব্যথা,
ঘরে এসে ব্যথার কারণে বলে নানান কথা।
রাতের বেলা বই নিয়ে পড়তে বসে যখন
কোনটা রেখে কোনটা পড়বে ভেজাল লাগে তখন।
বইয়ের এত লেখা দেখে যখন মাথা ঘোরে,
তখন শিশুরা চশমা লাগিয়ে পড়তে শুরু করে।
স্বল্প বই পড়লে হয় আমাদের জন্য সোজা,
তাই আমরা সকলে বলি কমাও বইয়ের বোঝা।

মু’মেন জীবনে রমযানের প্রস্তুতি
অধ্যাপক মু. সহিদুল ইসলাম

রহমত-বরকত, মাগফিরাত ও নাযাতের সওগাত নিয়ে মাহে রমযান আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। আষাঢ়ের ঝরঝর বর্ষা যেমনি রৌদ্রের খরতাপ, কষ্ট-কাঠিন্য, দুঃখ-গ্লানি এবং জ্বরা-জীর্ণতাকে ধুঁয়ে মুছে দেয়, তেমনি পাপ-পঙ্কিল এবং আল্লাহ বিমুখ পাপিষ্ট আত্মাকে তাকওয়ার পরশে সিক্ত করে দ্বিনের সঠিক পথের দিশা দেওয়ার জন্য মাহে রমযানের আগমন আমাদের মাঝে। ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) মাক্কা থেকে মাদিনায় হিযরত করেন। তার দেড় বছর পর অর্থাৎ দ্বিতীয় হিযরির রমযান মাসে ঈমানদার বান্দাদেরকে পরিপূর্ণভাবে দ্বিনের পথে অবিচল রাখার মানসে আল্লাহ তায়ালা পূর্ণ একমাস সিয়াম পালন ফরয (অপরিহার্য) করেছেন। মুসলমানদের জন্য মাহে রমযানের গুরুত্ব ও মাহাত্ম অপরিসীম, কেননা-রমযান মাস কুরআন নাযিলের মাস, প্রশিক্ষণের মাস, সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী বদর প্রান্তরের সেই ঐতিহাসিক যিহাদের মাস, মাক্কা বিজয়ের মাস, সর্বোপরি ‘লাইলাতুল ক্বদরের’- মাস, যে মাস হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। তাই সাওয়াবের বোনাস নিয়ে প্রতি বছর এ মাস ফিরে আসে মু’মেনদের কাছে জান্নাতের পয়গাম নিয়ে। রাসূল (সা:) রযব মাস আসলেই আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করতেন ‘হে আল্লাহ তুমি আমাকে রযব এবং শাওয়াল মাসের বরকত দান করো এবং রমযান মাস পর্যন্ত আমার হায়াত বৃদ্ধি করে দাও’। হাদিস থেকে প্রমাণিত যে, পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর রাসূল (সা:) খুব বেশী নফল ইবাদত করতেন না, বিশেষ করে নফল রোযা। তিনি শরীরে শক্তি বৃদ্ধি এবং সুস্থ্য থাকার চেষ্টা করতেন যাতে রযমান মাসে কঠোর ইবাদত করা যায়। নবি কারিম (সা:) রমযানের পূর্বেই সাহাবিদের এ মহান বরকতময় মাসের অসীম ভান্ডার থেকে পায়দা হাসিলের নির্দেশ দিতেন।
হযরত সালমান ফারসি (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি করিম (সা:) শাবান মাসের শেষদিন আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন, তিনি বললেন হে লোক সকল! একপুত পবিত্র ও বরকতের মাস তোমাদের উপর ছায়া বিস্তার করেছে। এ মাসের একটি রাত-বরকত ও ফযিলতের দিক থেকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ মাসে সিয়াম পালন (রোযা রাখা) আল্লাহ তায়ালা ফরয করেছেন। রাতে আল্লাহ তায়ালার সম্মুখে হাযির হওয়া তোমাদের জন্য নফল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসাবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি নফল ইবাদত পালন করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে অন্যান্য মাসের ফরয ইবাদত পালনের সাওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি একটি ফরয ইবাদত আদায় করবে অন্যান্য মাসের সত্তরটি ফরয আদায়ের সাওয়াব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ করে দিবেন। এটি সবর-ধৈর্য ও ত্যাগ-তিতিক্ষার মাস। আর সবরের প্রতিফল একমাত্র জান্নাত। এ মাসে যারা রোযাদার ব্যক্তিকে ইফতার করাবে আল্লাহ তার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে তাকে জান্নাত দিয়ে দিবেন। তাকে পূর্ণ একটি রোযার সাওয়াব দান করবেন কিন্তু রোযাদারের সাওয়াব কমবেনা। আমরা নিবেদন করলাম ইয়ারাসুলাল্লাহ! আমাদের অনেকের রোযাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ নেই (কিন্তু তারা কিভাবে এ সওয়াব অর্জন করবে) রাসুল (সা:) বললেন, যে ব্যক্তি রোযাদারকে একটি খেজুর, এক গ্লাস দুধ, এক গ্লাস পানি দিয়ে ইফতার করাবে সে ব্যক্তিকেও আল্লাহ তায়ালা অনুরূপ সাওয়াব দান করবেন। আর যে লোক রোযাদারকে পরিতৃপ্তভাবে আহার করাবে আল্লাহ তাকে ‘হাউসে কাউসার’ এর পানি পান করাবেন ফলে জান্নাতে যাওয়া পর্যন্ত তার কোন পিপাসা লাগবেনা। এটি এমন মাস যার প্রথম দশদিন রহমতের বারিধারা প্রবাহিত হতে থাকবে। দ্বিতীয় দশদিন ক্ষমা ও মার্জনা এবং তৃতীয় দশদিন জাহান্নাম হতে মুক্তি লাভের উপায়, আর যে লোক এ মাসে নিজের অধীন শ্রমিকদের কষ্ট লাঘব করে দিবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন এবং দোযখের আগুন থেকে তাকে নিস্কৃতি দান করবেন। (রায়হাকি, ফি শুয়াবিল ইমান খন্ড)।
‘রমযান’ শব্দটি পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারায় ১বার এসেছে যার অর্থ জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া, অর্থাৎ রোযা পালন করলে আল্লাহ পাক বান্দার গুনাহ খাতা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে তাকে নিষ্কলুষ করে দিবেন। আর ‘সিয়াম’ শব্দটি পবিত্র কুরআনে এসেছে ১৩ বার, যার অর্থ বিরত থাকা সুতরাং খাওয়া-দাওয়া, অন্যায়-অত্যাচার, যেনা-ব্যভিচার ও যাবতীয় পাপাচার থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম।
রাসুল (সা:) শুরুতে মাসে ৩দিন সিয়াম পালনের নির্দেশ জনগণই দিয়েছিলেন, এতে কেউ পালন করতো-কেউবা ফিদিয়া (অন্যকে খাবার দিয়ে) তা পালন করতেন, কিন্তু দ্বিতীয় হিযরির রমযান মাসে সুরা বাকারার ১৮৩নং আয়াতের মাধ্যমে ১ মাস সিয়াম পালন বান্দার জন্য ফরয করে দেন এবং সফরকারী ও রুগ্ন ব্যক্তি ছাড়া অন্যরা ফিদিয়া (খাদ্য বিনিময়) দিলেও তা হবে না- মর্মে আইন করে দেন। যুদ্ধকালে রোযা পালন রাসুল (সা:) নিষেধ করতেন যাতে শত্রুর সাথে কোন প্রকার দুর্বলতা প্রদর্শিত না হয়, হযরত ওমর (রা:) বলেন বদর যুদ্ধের সময় আমরা অনেকেই রোযা পালন করি নাই। মাক্কা বিজয়ের সময় রাসুল (সা:) ঘোষণা করলেন শত্রুর সাথে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে হবে তাই তোমরা রোযা পালন করবেনা, যাতে তোমাদের লড়াই করার ক্ষমতা অক্ষুণœ থাকে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা:) বর্ণনা করেন রাসুল (সা:) বলেছেন- তোমাদের মাঝে  রযমান মাস উপস্থিত। ইহা অত্যন্ত বরকতময় মাস, মহান আল্লাহ তায়ালা এ মাসের রোযা তোমাদের জন্য ফরয করে দিয়েছেন, এ মাসে আকাশের দুয়ার সমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয় এবং বড় বড় শয়তানগুলোকে আটক করা হয়। আল্লাহ তায়ালার জন্য এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ মাসের কল্যাণ (ফযিলত) থেকে বঞ্চিত হবে, সেই অতি দুর্ভাগা। (নাসাই, রায়হাকি, আহমদ)।
শয়তান মানুষের চ্যালেঞ্জিং বড় শত্রু। আল্লাহ তায়ালাকে শয়তান বলেছিল “আমি আদম সন্তানের সম্মুখ থেকে ধোঁকা দিয়ে তাকে বিভ্রান্ত করবো, ব্যর্থ হলে পেছন থেকে আসবো, তাতেও যদি ব্যর্থ হই ডান দিক দিয়ে আসবো না পারলে বাম দিকে থেকে আসবো। উপর কিংবা নিচ থেকে এসে তাকে ধোঁকায় ফেলে বিভ্রান্ত করে ছাড়বো’- আমি মানুষকে সঠিক পথে (সিরাতাল মুস্তাকিম) থাকতে দিব না। তাকে জাহান্নামে নিয়ে ছাড়ব, শয়তানের এই চ্যালেঞ্জ এবং ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে হলে আমাদের কুরআনের পথে অবিচল থাকতে হবে এবং কুরআন বুঝে বুঝে অধ্যয়ন করতে হবে। রমযান সেই কুরআন নাযিলের মাস হওয়ায় আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য এক মাসের বিশেষ ট্রেনিং কোর্স এর ব্যবস্থা করেছেন। সেটি হলো ‘শাহরে রামাযান’ রোযা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণের ট্রেনিং দেয়, যে ট্রেনিং মানুষকে তাকওয়া (আল্লাহর আইন মেনে চলার নীতি) শিক্ষা দেয়। সে জন্য আল্লাহ তায়ালা বলেছেন হে ঈমানদারগণ। তোমাদের জন্য রোযা পালন ফরয করা হয়েছে যেমনি ভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের (নবীদের উম্মতদের) উপর ফরয করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়ার (আল্লাহকে ভয় করার নীতি) গুণ অর্জন করতে পারো। (সূরা বাকারা: ১৮৩)
মুসলিম ভাই-বোনেরা তাই আসুন পূর্ণ এক মাস সিয়াম পালনের মাধ্যমে আমরা এই দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
১) এটাই জীবনের শেষ রমযান হিসাবে গ্রহণ করে খালেসভাবে রোযা পালন করি পবিত্র কুরআন সহিহ-শুদ্ধ ও বুঝে পড়ার চেষ্টা করি।
২) যারা পড়তে জানিনা, তারা ভালো আলেমের নিকট গিয়ে লজ্জা শরমের তোয়াক্কা না করে জাহান্নামের ভয়ে কুরআন পড়তে শিখি।
৩) রমযানের প্রতিটি সিয়াম যথাযথ ভাবে (হক আদায় করে) পালন করি।
৪) দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথা সময়ে মসজিদে গিয়ে জামায়াতের সাথে একাগ্রচিত্তে আদায় করি।
৫) রাতে তাহাজ্জুদ কিংবা ‘কিয়ামুল-লাইল’- আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে হৃদয় দিয়ে আদায় করি।
৬) সেহেরির পরে এবং ইফতারের পূর্বে চোখের পানি ফেলে আল্লাহর নিকট দোয়া করি।
৭) গরীব নিঃস্ব, অসহায় ও নিকটতম আত্মীয়-স্বজনকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই।
৮) পরিবর-পরিজন ও আত্মীয়দের নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করি।
৯) ফিতরা যাকাত যথাযথভাবে আদায় করি এবং দান-সাদকা যথাসম্ভব বাড়িয়ে দেই।
১০) রমযানের মাসলা-মাসায়েল ও সহিহ হাদিসসমূহ গভীর মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করি।
১১) পবিত্র কালামুল্লাহ (কুরআন) মুখস্ত ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণসহ অধ্যয়ন করি। কুরআনের আলোকে জীবনকে গড়ে তুলি।
১২) সর্বোপরি জীবনকে পরিশুদ্ধ করি এবং খালেস নিয়তে তাওবা করি।
আল্লাহ আমাদের কবুল করুন।
আমিন!

লেখকঃ
জয়েন্ট সেক্রেটারি
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক পরিষদ
কুমিল্লা।
০১৭১১-৯৫৩৮১৬

স্বাগত মাহে রমজান ঃ নজরুলের প্রতি নজরানা
দীপ্র আজাদ কাজল
মুসলিম, বুদ্ধিমান প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও স্ত্রী যাদের সুস্থ শরীর তাদের ওপর রমযান শরীফের রোজা ফরজ। এ রোজা চাঁদের হিসেবে রাখতে হয় এবং চাঁদের হিসেবে রোজা শেষ করতে হয়। রোজা রাখতে হবে দ্বিপ্রহর রাত হতে সুবেহ সাদিকের পূর্ব সময়ের মধ্যে। সেহরি খেয়ে রোজার নিয়ত করতে হয়। রোজার নিয়ত ব্যতীত রোজা জায়েজ হয় না। দ্বি প্রহরের পূর্ব পর্যন্ত সে দিনের রোজার নিয়ত করা জায়েজ আছে কিন্তু ঠিক দ্বিপ্রহর বা তারপর নিয়ত করলে তা জায়েজ হয় না। কাজা, কাফফারা ও অনির্দিষ্ট মানতে রোজার নিয়ত সুবেহ সাদিকের পূর্বেই করতে হয়।
রোজা রাখার নিয়তটি হলো ঃ ‘হে আল্লাহ! আমি আগামী দিন পবিত্র রমজানের, তোমার নির্দেশিত ফরজ রোজার নিয়ত করলাম। অতএব, হে দয়াময়! আমার থেকে এটি কবুল কর, নিশ্চয় তুমি শ্রবণকারী ও জ্ঞানী।’
ইফতার করবার দোয়া ঃ ‘হে আল্লাহ! তোমারই খুশির জন্য রোজা রাখলাম ও তোমারই আহার্যের ওপর নির্ভর করলাম এবং এখন তোমারই রহমতে ইফতার করছি, হে সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহকারী।’
অর্থাৎ আল্লাহ পাকের নির্দেশ পালন, আল্লাহ পাকের উপর নির্ভরতা, আল্লাহ পাকের খুশীর জন্য নিজের সমস্থ বিশ্বাস ও অঙ্গ দ্বারা ইবাদত করে আল্লাহর আনুগত্য প্রার্থনা করা মূলত নিজের মুক্তির জন্যই।
রোজা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হল, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীগণের জন্য বিধিবদ্ধ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হও। তা নির্ধারিত কয়েকদিন, কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে কেউ পীড়িত বা প্রবাসী হয়, তার জন্য অপর কোন দিবস হতে গণনা করবে এবং যারা তাতে অক্ষম, তারা এর পরিবর্তে একজন দরিদ্রকে আহার করাবে, অতএব যে ব্যক্তি আপন ইচ্ছায় সৎকর্ম করে, তার জন্য কল্যাণ এবং তোমরা যদি বুঝে থাক তবে রোজা রাখাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও প্রভেদকারী কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে, অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাস প্রত্যক্ষ করে, সে যেন রোজা রাখে এবং যে ব্যক্তি পীড়িত বা প্রবাসী, তার জন্য অপর কোন দিবস হতে গণনা করবে, আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ, তা চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না, এইজন্য যে-তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ করবে এবং তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার জন্য তোমার আল্লাহর মহিমা কীর্তন করবে ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। এবং যখন আমার সেবকবৃন্দ আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আমি তো নিকটেই থাকি, আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই, সুতরাং তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক, আমাতে বিশ্বাস স্থাপন করুক, যাতে তারা সুপথে চলতে পারে। রমজান-রজনীতে স্ত্রী গমন তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, তারা তোমাদের পোশাক, তোমরা তাদের পোশাক, আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা আত্মপ্রতারণা করছিলে, এজন্য তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন এবং  তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন, সুতরাং এখন তোমরা স্ত্রী গমন করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন, তা কামনা কর, আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কৃষ্ণরেখা হতে ঊষার শুভ্ররেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়, অতঃপর রাত্রি সমাগম পর্যন্ত তোমরা রোজা পূর্ণ কর এবং তোমরা মসজিদে ই’তিকাফ অবস্থায় তাদের সাথে মিলিত হয়ো না, এইগুলো আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং এগুলোর নিকটবর্তী হয়ো না, এইভাবে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনাবলী মানব-জাতির জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যেন তারা সংযত হয়।’
(সুরা বাক্বারাহ। আয়াত-১৮৩-১৮৭)
পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত আয়াতে ইহকাল ও পরকালের মঙ্গলের কথা ঘোষিত হয়েছে। ব্যক্তির কল্যাণ সাধনের দ্বারা মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভ হয়। রোজা সেই পথকে সহজ করে দেয়। রমজান মানে পুড়ে যাওয়া বা ভস্ম হওয়া। রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো, মানুষের কু-প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করে আত্মাকে সৎপথে পরিচালিত করা। অন্যত্র বলা হয়েছে, রোজা সওম হতে এসেছে। সওম অর্থ বিরত থাকা। রোজা আল্লাহভীতি, আল্লাহপ্রেম সৃষ্টি করে, ইচ্ছাশক্তি বাড়ায়, সহানুভূতিশীল করে, ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ায়, মানবনিষ্ঠাসহ মানব দরদী করে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘রোজা’-প্রসঙ্গ কবিতা ও গানে নিয়ে এসেছেন। আহমদ শরীফ লিখিত ‘বিচিত চিন্তা’ গ্রন্থের ‘নজরুল ইসলামের ধর্ম’ প্রবন্ধে বলেনÑ
“বলছি, নজরুল ইসলামকে কোন বিশেষ ধর্মের অনুরাগী বলা চলে না। এতদ্সত্ত্বেও তিনি ইসলামের প্রতি তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেছেন। তার কারণ, কবির জীবনের যা ব্রত তা’ইসলামের মতো আর কোন ধর্ম এত দৃঢ়তার সঙ্গে এমন স্পষ্ট করে বলে নি।”
আহমদ শরীফ আরো বলছেন, “ইসলামের মানবতা ও সমাজ সংজ্ঞা তাঁর আদর্শের সম্পূর্ণ অনুকুল বলেই মানুষ নির্বিশেষের মিলন-পীঠ কাবার ছবি তাঁর বক্ষে অঙ্কিত, মানবতা ও সাম্যের বাণী-বাহক হজরত মুহম্মদের নাম তাঁর ‘জপমালা’; এ জন্যেই মর্যাদার পূজারী উন্নতশির কবির হৃদয় কলেমা ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু রসুলাল্লাহু’ আন্দোলন জাগায়। তাঁর এই ইসলামপ্রীতি ধার্মিকতা প্রসুত নয়, মানবতা ও ব্যক্তি নিষ্ঠাজাত। ধর্মপ্রাণতা নয়, আদর্শানুগত্য।…”
রোজা কল্যাণকর হয় যখন কোন ব্যক্তি তাকওয়ার অধিকারী হন, দরিদ্রকে আহার করান, আপন ইচ্ছায় সৎকর্ম করেন। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর লেখার ভিতর দিয়ে এই মানবনিষ্ঠার প্রত্যাশাই করেছেন। মূলত, মুসলিম রচিত বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যর ব্যবহার বরাবরই প্রাধান্য পেয়ে এসেছে। নজরুল ইসলাম সেই ধারাকে বিশাল করে দিয়েছেন। খোদার হাবিব হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর জ্যোতিতে দুনিয়া আজ ঝলমল করছে। খোদার প্রেমে দিওয়ানা হয়েছে নবীজীর উম্মতরা। কাজী নজরুল ইসলাম বলছেনÑ
“নামাজ রোজার ফুল-ফসলে শ্যামল হল মরু
প্রেমের রসে উঠল পুরে নীরস মনের তরু।
খোদার রহম এল রে আখেরে নবীর বেশে।।”
(জুলফিকার ঃ দ্বিতীয় খ-। ১১)
খোদার রাহে পথ চলার আহ্বানে মোয়াজ্জিনের ডাক শুনবার কথা কবি বলেনÑ
“আল্লা নামের বীজ বুনেছি এবার মনের মাঠে।
ফলবে ফসল, বেচব তারে কিয়ামতের হাটে।।”
(জুলফিকার ঃ দ্বিতীয় খ-। ২৪)
কবি আল্লাহ তায়ালার রহম কামনা করেন। বলেন- “আল্লা তোমায় চাই।” দুনিয়া-জাহান নিশিদিন তোমারই নাম জপে খোদা। তুমি বিনে আর কোন ভরসা আমাদের নাই। কবি মুসলিমদের ঈমান বা বিশ্বাসকে আল্লাহর রাহে দৃঢ় করবার তাগিদ প্রদান করে বলেনÑ
“নামাজ পড় রোজা রাখ, কলমা পড় ভাই।
তোর আখেরের কাজ করে নে, সময় যে আর নাই।।”
(জুলফিকার ঃ দ্বিতীয় খ-। ৩০)
মুসলিম মিল্লাতের তাকওয়া অর্জনের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রোজাকে ফরজ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালার ভয়ে তার দেয়া বিধান ভঙ্গের অপরাধ না করা, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করা এবং অহংকার বা নিজের আমিত্বকে বিসর্জন দেয়া। কাজী নজরুল ইসলামের ভ্রাতৃত্ববোধকে, সম্পদ বণ্টনকে, সামাজিক ন্যায় বিচারকে তুলে ধরতে বলেন বিশ্বাসের সাথে। পবিত্র কোরআনের আয়াতের মাঝে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালাকে পাবার পথ খুঁজে ফিরেছেন কবি। ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভ আমাদের জানায়, এ বিশ্বের সমস্ত কর্মকা- আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি বিধানের জন্য পূর্ণবিশ্বাস না থাকলে সবই বিফলে যায়। কাজী নজরুল ইসলাম পরকালে আল্লাহর কাছ হতে পুরস্কার গ্রহণ করবার আকাক্সক্ষায় এই দুনিয়ার খুশির চেয়ে জীবনে প্রতিপলে যে রোজ কিয়ামত আসে সেই দুনিয়ার যশ-খ্যাতির চেয়ে প্রত্যাশা করেছেন করুণাময়ের দয়া। এভাবে মুসলিম উম্মাহর মাঝে হারানো ঈমানের গুরুত্বকে তিনি সবচেয়ে বড় করে দেখিয়েছেন, যেন বিশ্বাস প্রকৃত অর্থেই খোদাপ্রীতি ও খোদা ভীতির হয়। কবি বলেনÑ
“নাই হলো মা বসন-ভূষণ এই ঈদে আমার।
আল্লা আমার মাথার মুকুট রসুল গলার হার।।
নামাজ রোজার ওড়না শাড়ি
ওতেই আমায় মানায় ভারী,
কলমা আমার কপালে টিপ, নাই তুলনা তার।।”
(জুলফিকার ঃ দ্বিতীয় খ-। )
কবি গুরুত্বের সাথে অনুভব করেন, আমরা আজ খোদার রহমত হতে বঞ্চিত। ভোগ ও বিলাসে ডুবে অর্ধেক পৃথিবীতে যে উদারতার -গুণ নিয়ে এসেছে ইসলাম, তার প্রধান শর্ত আল্লাহ তায়ালার প্রতি ঈমান রাখা। রব-এর প্রতি বিশ্বাস হারালে, তাঁর আদেশ অমান্য করার কারণে লাঞ্ছিত হতে হয়। তাইতো কবি বলেন, মুসলিম দুনিয়া গুনাহের ফাঁদে পড়ে রয়েছে “ভুলিয়া কলমা শাহাদাত।”
বিশ্বাসের স্তম্ভের উপর ইসলাম ধর্ম। বিশ্বাস অদৃশ্য। রোজা এক প্রকার অদৃশ্য ইবাদত। খোদার নেক-নজর চেয়ে ঈমানকে প্রতি ওয়াক্তে শুদ্ধ করে নেয় নবীজীর উম্মতগণ। কবি বলেনÑ
“কলমা শাহাদতের বাণী
যে    বারেক বলে একটুখানি,
সে    চাওয়ার অধিক দেয় আমারে
মোর সওদার দাম।”
(জুলফিকার ঃ দ্বিতীয় খ-। ৮)
কাজী নজরুল ইসলামের বিশ্বাসের এই শ্বাশ্বত রূপের মহত্ব নিয়ে বলতে হয়, আত্মত্যাগ তাকওয়ার শাশ্বত রীতি। পবিত্র কুরআনে আত্মত্যাগের বহু নজীর উল্লেখ করা হয়েছে। আবার আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক স্বপ্নাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর তাকওয়া পূর্ণরূপে অর্জিত হয়। শুধু তাই নয়, এ ধারার মাধ্যমে অব্যাহতভাবে তাকওয়া অর্জনের পথ উন্মুক্ত করে রাখা হয়েছে সাধারণ নিষ্ঠাবানদের জন্য। রাসূলে কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ইখলাসের সাথে রমজানের শেষ দশ দিন ই’তেকাফ করে, তার অতীতের যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় এবং তাকে দু’টি উমরার সওয়াব প্রদান করা হয়।’
আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের পথ পরিক্রমায় রোজা রাখার পর ঈদের নামাজ আদায় করে থাকেন মুসলিমরা। সবটুকু পরিক্রমাতে মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ থাকে না। মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে থাকে অশেষ ফজিলত ও সম্মানজনক মর্যাদা। ইসলামকে আমরা চিরকালের সর্বদেশের চিরমানবের ধর্ম বলি, তা হচ্ছে ইসলামের শিক্ষার মূলসূত্রগুলো সমাজে প্রযোজ্য হবার যোগ্যতা। কাজী নজরুল ইসলাম সেই যোগ্যতাকে প্রযোজ্য করে দিয়েছেন আমাদের সমাজে। যা ছিল আদর্শানুশীলনের সচেতন প্রয়াস। পারমার্থিক বা আধ্যাত্মিক সাধনা জগৎ ও জীবন সম্বন্ধে প্রজ্ঞাদৃষ্টি লাভের সহায়ক। নজরুল সাহিত্য আমাদের চেতনার স্বাক্ষর, আমাদের বোধের সাক্ষ্য, আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস এবং আমাদের মন-মননের প্রতীক, প্রেরণার উৎস আর মানবতাবোধের প্রতিভূ। আল্লাহ তায়ালা এই রমজান মাসে দেশ ও জাতির কল্যাণে, পরকালের নাযাত চেয়ে, নিজেদেরকে শুদ্ধ হবার এবং তাকওয়া অর্জন করবার তৌফিক দান করুন। মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট আমরা কবি কাজী নজরুল ইসলামের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।



Notice: WP_Query was called with an argument that is deprecated since version 3.1.0! caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/dailyama/public_html/beta/wp-includes/functions.php on line 4023