মঙ্গল্বার ২৪ অক্টোবর ২০১৭


ঘুষে নিয়োগ হচ্ছে অধ্যক্ষ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
31.05.2017


আবদুর রহমান ॥
লাকসাম উপজেলার বাকই দক্ষিণ ইউনিয়নের বিজরা বাজার এলাকার রহমানিয়া চির সবুজ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে এবং অনিয়মের মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগদানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যেই ওই কলেজের অধ্যক্ষ পদে উপজেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের যোগাদান করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে অনিয়মের অভিযোগে ওই কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম গত  ৮মে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেন। তবে রহস্যজনক কারণে ২১ মে ফের ওই বিএনপি নেতাকেই নিয়োগ দিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আবুল খায়ের ওই কলেজে বর্তমানে অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক পদে কর্মরত রয়েছেন । এছাড়া তিনি মেটলাইফ আলিকো বীমা কোম্পানিতে কুমিল্লায় ইউনিট ম্যানেজার হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বাকই ইউনিয়নের বিজরা বাজার এলাকার রহমানিয়া চির সবুজ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলে মোট ২৪ জন প্রার্থী ওই পদের জন্য আবেদন করেন। গত ১৬ এপ্রিল নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে এর মধ্যে ১৫জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ওই পরীক্ষায় এক্সপার্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করেন লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো.ইমতিয়াজ ছিদ্দিকি। এরপর ওই পরীক্ষায় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের প্রথম হয়েছেন বলে অন্য প্রার্থীদের জানানো হয়।
নাম প্রকাশ না শর্তে ওই পদের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, আবুল খায়েরের চেয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলো। তবে কলেজ পরিচালনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য দোলেয়ার হোসেন শিপনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতাকে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে ওই পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করেন আবুল খায়ের। আর ওই প্রক্রিয়াকারীরা এক্সপার্টকে ম্যানেজ করে বিএনপি নেতা আবুল খায়েরকে আগেই প্রশ্নপত্র দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে পরীক্ষায় তাকে প্রথম দেখিয়ে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।
তাঁরা আরও জানান, কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো.খোরশেদ আলম এসব বিষয় টের পেয়ে গত  ৮মে এই রেজুলেশনে স্বাক্ষর করে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেন। তবে রহস্যজনক কারণে গত ২১ মে আবারও ওই বিএনপি নেতাকে নিয়োগ দিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেন সভাপতি।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এহসানুল হক জানান, অনিয়ম আর ঘুষ বাণিজ্যের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তবে সভাপতি ৮মে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেন। আবার ২১ মে খায়েরকেই নিয়োগ দিতে বলেছেন।
এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো.খোরশেদ আলম জানান, ‘ঘুষ খাওয়ার জন্য আমাদের সভাপতি বানানো হয়। যারা ঘুষ খেতে পারে তারাই ভালো। আর আমরা যারা ঘুষ খেতে পারি না, তারা খারাপ।’ তিনি বলেন, ‘আমি অনিয়ম দেখেছি তাই স্থগিত করেছি, এখন অনিয়মকে তারা (প্রক্রিয়াকারীরা) নিয়ম করেছে। ঘুষ লেনদেনের ব্যাপারে আমি বলতে পারবো না। এক্সপার্ট এখানে অনিয়ম করেছে বলে বিষয়টি আমি এমপি (মো.তাজুল ইসলাম) সাহেবকে জানিয়েছি। তিনি (এমপি) বলেছেন নিয়োগ স্থগিত করো, আমি স্থগিত করেছি। এরপর পুনরায় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিবো নিয়োগের জন্য এর আগের দিন এমপি সাহেব আমাকে ডেকে নিয়ে বলেছেন, আমি দেখেছি সব ঠিক আছে, নিয়োগ দিয়ে দাও। এমপি সাহেব নির্দেশ দিয়েছেন, তাই আমি নিয়োগ দিতে বলেছি।’
ওই পরীক্ষায় এক্সপার্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকা লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ  ইমতিয়াজ ছিদ্দিকি এসব অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে চিনি না। আর অনেকেই আমার বাসায় আসতে চেয়েছিলো, আমি কাউকে সুযোগ দেইনি। এসব কথা মিথ্যা ও বানোয়াট।’
অর্থ লেনদেন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কলেজ পরিচালনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য দোলেয়ার হোসেন শিপন বলেন,‘ আপনি আগে বিষয়টি তদন্ত করুন। পরে আমার  সাথে কথা বলুন।’
ঘুষ প্রদান ও অনিয়ম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আবুল খায়েরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। এছাড়া তিনি কখনই বিএনপির রাজনীতি করেননি বলে জানিয়ে হঠাৎ করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মুঠোফোনটি বন্ধ করে দেন।
তবে লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো.শাহ আলম বলেন, খায়ের উপজেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক। এছাড়া সে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জানান,‘ আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি সে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। তবে আমরা এখনও তাঁর কাছ থেকে কোন পদত্যাগপত্র পাইনি।’