শনিবার ১৯ অগাস্ট ২০১৭


পুড়ে কয়লা খোকন ও তার স্বপ্ন!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.06.2017

স্টাফ রিপোর্টার ॥
খোকনের আর বড় ব্যবসায়ী হওয়া হলো না। এক সাথে আগুনে পুড়ে কয়লা হলো ছোট্ট খোকন আর তার স্বপ্ন।
নিহত নাজমুল হাসান খোকন (১২) দেবিদ্বার  উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের  গোপালনগর গ্রামের রিকশা চালক তারা মিয়ার ছেলে। তবে ৫বছর আগে তারা মিয়া আরেক বিয়ের পর তার মাকে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করার তাড়িয়ে দেয়। মা আয়েশা বেগম ৪ ছেলেকে হাতে নিয়ে এবং এক ছেলেকে পেটে করে বাবার বাড়ি বি-পাড়া উপজেলার আছাদনগর গ্রামে চলে আসেন। আয়েশা বেগমের বাবা মৃত মনিরুল ইসলাম। তার দুই ভাই প্রবাসী হলেও স্বামী পরিত্যক্ত আয়েশার মাথা গোঁজার জন্য একটি ঘরের জায়গা দিলেও অন্যান্য দায়িত্ব তার ভাইয়েরা নেয়নি। তাই আয়েশা আক্তার মানুষের কাছে হাত পেতে ছেলেদের আহার যোগান। বড় ছেলে রবিউল্লাহ মাঝে মধ্যে কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে। ২য় খোকন, সে অল্প বয়সে বুড়িচংয়ের কংশনগর বাজারের আবুল কালামের সুতার দোকানে কাজ নেয়। সেখানে সাড়ে ৩বছর ৭শত টাকা বেতনে কাজ করতো। গত ৭মাস ধরে একই বাজারের অলি আহাদের আম্বিয়া বস্ত্রালয় নামের কাপড়ের দোকানে ১২শত টাকা বেতনে কাজ নেয়। খোকন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হয়ে উঠেছিলো। তার স্বপ্ন ছিলো বড় ব্যবসায়ী হওয়ার,বড় দোকান দেয়ার। ছেলের এসব কথা শুনে মা মৃদু হেসে বলতেন- তুই আগে ব্যবসা শিখে নে, পরে দেখা যাবে। আবার মাকে বলতো -আমাকে বিদেশ পাঠিয়ে দাও, আমি ভালো টাকা উপার্জন করে পরিবারের সকল দু:খ, কষ্ট মোচন করবো। তার কোনো আশা পূরণ হলো না। অগ্নিদগ্ধ হয়ে তালাবদ্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে খোকন জীবন্ত দগ্ধ হয়ে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে হল। তার চিৎকার শুনে পাশের ব্যবসায়ীরা দোকানের তালা ভেঙ্গে বাঁচানোর চেষ্টা করেও আগুনের লেলিহান শিখার কাছে তার ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে।
দোকানের ভেতরে খোকন পুড়ে মরার বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি মনোজ কুমার জানান,বাইরে তালা মারা ছিলো বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখেছি বাইরে তালা ছিলো না,ভেতর থেকে খোলার ব্যবস্থা ছিলো। আগুনের ভয়াবতায় খোকন হয়তো সার্টার খুলতে পারেনি।



Notice: WP_Query was called with an argument that is deprecated since version 3.1.0! caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/dailyama/public_html/beta/wp-includes/functions.php on line 4023