মঙ্গল্বার ২৪ অক্টোবর ২০১৭


টাকা দাবি করায় স্ট্রোক করেছেন মুক্তিযোদ্ধা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.06.2017

আজিজুর রহমান রনি, মুরাদনগর।।
ফরম পূরণ করার সময় পঁচিশ হাজার টাকা নিয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও রাতে আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করায় স্ট্রোক করেছেন এক মুক্তিযোদ্ধা। মুরাদনগরে গত শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার শিকার মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন উপজেলার পাহাড়পুর ইউপির উৎরাইন গ্রামের মৃত আকরাম আলীর ছেলে।
জসিম উদ্দিনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, ফরম পূরণ করার সময় পঁচিশ হাজার টাকা নিয়েছে আব্দুল রশিদ। গত শনিবার দুপুরে যাচাই-বাছাইয়ে আমার স্বামী উত্তীর্ণ হওয়ার পর রাতে মোবাইলে আবার ৫০ হাজার টাকা দাবি করে রশিদ। টাকা না দিলে চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম থাকবেনা বলে জানালে ফোন হাতে থাকা অবস্থায় আমার স্বামী মাটিতে লুটে পড়ে। এঘটনায় আমরা চিকিৎসক জামাল উদ্দিনকে বাড়িতে আনলে ডাক্তার জানায় আমার স্বামী স্ট্রোক করেছে।

চিকিৎসক জামাল উদ্দিন বলেন, অল্পের জন্য জসিম উদ্দিন রক্ষা পেয়েছেন। যে কারণে তিনি অসুস্থ হয়েছেন, সে বিষয় নিয়ে চিন্তা করলে বড়ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে।
ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল রশিদ ধামঘর ইউপির আড়ালিয়া গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের শুরু থেকেই ভুয়াদের মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য অর্ধশতাধিক লোকজনকে উৎসাহ দেন আবদুর রশিদসহ একটি চক্র। চক্রটি প্রকাশ্যে না আসলেও আবদুর রশিদের মধ্যস্থতায় টাকা হাতিয়ে নেয়। সে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেউ না হয়েও মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য প্রকাশ্যে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের হাত থেকে ছাড় পায়নি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাও। ওই চক্রটি বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে শোনা গেছে।
আরো জানা যায়, গতকাল রবিবার ধামঘর ইউপি সিদ্ধেশ্বরী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকার জন্য চাপ দেয় আবদুর রশিদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুক্তিযোদ্ধা জানায়, আমরা সাঠিক মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার পরও রশিদ গ্রুপের হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ২৫/৩০ হাজার টাকা করে দিয়েছি। রশিদকে দিয়ে একটি মহল মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে নানান অজুহাতে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সূত্র জানায়, গত ১৯ মে উপজেলা নজরুল মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই চলার সময় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরোদ্ধে অভিযোগকারী জাহাঙ্গীর আলমের ওপর দলবলে আব্দল রশিদ প্রথম হামলা করে। জাহাঙ্গীর আলম যে ১৪২ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন তাদের মধ্যে আব্দুল রশিদের নাম রয়েছে। হামলায় আহত হওয়ার পর জাহাঙ্গীর আলম তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় যে সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন তাতেও নাম রয়েছে রশিদের।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য আব্দুল রশিদের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন না ধরাতে এবং পরে তার বাড়িতে গিয়েও দেখা না পেলে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।