মঙ্গল্বার ২৪ অক্টোবর ২০১৭


কুমিল্লার ফুটপাতে ঈদের আমেজ ‘একটা মারে দিমু- আরেকটা বউরে’


আমাদের কুমিল্লা .কম :
18.06.2017

মাহফুজ নান্টু।। বছরে একটি মাত্র ধর্মীয় উৎসবে নতুন পোশাক পরিধানের রীতি সেই ইসলাম সূচনার পর থেকে। আমাদের দেশে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল বাবা-মা চেষ্টা করেন ঈদে তাদের সন্তানের  গায়ে নতুন জামা পরিয়ে দিতে। কিন্তু সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় করতে গিয়ে সীমিত আয়ের বাবা-মাকে কত শত ইচ্ছা আর স্বপ্নকে  মাটি চাপা দিয়ে ঈদ উৎসব পার করতে হয়, তা কেবল ওই বাবা-মা জানেন। এখন নগরীর ফুটপাতজুড়ে  তেমন  সীমিত আয়ের বাবা-মা আর হকারদের হাকডাকে উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়,নিউমার্কেট, মনোহরপুর,রাজগঞ্জ, গোয়ালপট্টি, চকবাজার,রামঘাট, পদুয়ার বাজার ও নগরীর বাইরে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ফুটপাতে ঘুরে দেখা যায়, সাশ্রয়ী মূল্যর জামা কাপড়ের সম্ভার। বড় শপিংমলের পাশে ও ফুটপাতজুড়ে  বাঁশের তৈরি মাচা-আর ভ্যান গাড়িতে করে  করে শার্ট-প্যান্ট-থ্রিপিস-ফ্রক, লুঙ্গি,পাজামা-পাঞ্জাবি বিক্রি করছেন।
সাত্তারখান কমপ্লেক্সের পাশে ও সুফিয়া ম্যানশনের বিপরীতে বড় পরিসরে তরুণীদের জুতো-পাথরের অর্নামেন্ট,থ্রিপিস-বোরকা-হিজাবসহ সকল প্রকার প্রসাধনীর পসরা সাজিয়েছেন ক্রেতারা।
সাজিয়া নামের একজন গৃহবধূ তার পঞ্চম শ্রেণি পড়–য়া মেয়ের জন্য একটি থ্রি-পিস ও তার সাথে ম্যাচ করে জুতো কিনেছেন। তিনি জানান স্বামী একটি ভোগ্যপণ্যের বিপণন কর্মী।  অভিজাত শপিংমল থেকে মেয়েকে জামা কিনে দিবেন সে  সক্ষমতা নেই। তাই এখান থেকে নিয়েছেন। ফুটপাতের এ অংশটিতে নির্দিষ্ট দামে  তরুণীদের জুতো বিক্রি হয়। প্রতি জোড়া দেড়শ টাকা। কম মূল্যের বলে মাঝে মাঝে কতিপয় অবস্থা সম্পন্ন তরুণীরাও ভিড় করে।
রাজগঞ্জ মোড়ের পূর্বপাশে মুলি বাঁশের বেড়া দিয়ে দোকান তৈরি করে সারা বছরই হকাররা বেচাকেনা করে। ঈদ বা অন্য যেকোন উৎসবে রাজগঞ্জ ও আশেপাশের ফুটপাতের ব্যবসায়ী বেশ সরব হয়ে উঠে। হকারদের হাকডাকে দিনরাত সরব থাকে এলাকাটি। দীর্ঘক্ষণ পরে মাপ ও পছন্দের রং অনুযায়ী ছেলের জন্য শার্ট-প্যান্ট আর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্য একটি ফ্রক কিনতে পেরেছেন বলে বেশ স্বস্তি প্রকাশ করেন ভ্রাম্যমাণ তরকারি বিক্রেতা সোহাগ। আত্মতৃপ্তি নিয়ে সোহাগ বলেন,আর দুই এক দিন পর দুইটা কাপড় কিনতে পারলেই হইবো। একটা মারে দিমু আরেকটা বউরে।