শনিবার ২২ জুলাই ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ৩ বিশ্ববিদ্যালয়কে আলটিমেটাম ১২ বেসরকারি ভার্সিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি


৩ বিশ্ববিদ্যালয়কে আলটিমেটাম ১২ বেসরকারি ভার্সিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.07.2017

আইনের শর্ত মেনে যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুলেছে এবং সেখানে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করছে এ ধরনের ১২টিকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সাথে তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আলটিমেটাম দিয়ে পৃথক চিঠি দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। আলটিমেটাম না মানলে তাদের শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের আদেশ দেয়া হবে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণলয় থেকে পৃথক এসব চিঠি দেয়া হয়েছে ওই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
গত ৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অনুষ্ঠিত শিক্ষামন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাল-হাকিকত নিয়ে গঠিত যৌথ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই ওই চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী এ হ চিঠি পাঠানোর কথা স্বীকার করে বলেন, যৌথ কমিটির প্রাথমিক সুপারিশের ভিত্তিতেই এ চিঠিগুলো দেয়া হয়েছে। আর কমিটিকে ৩০ জুনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবে। উল্লেখ্য, তিনিও এ কমিটির একজন সদস্য।
মন্ত্রণালয়ের কাছে যৌথ কমিটি প্রাথমিক যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনতে পারেনি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে দুই মাসের (৩০ জুনের মধ্যে) আলটিমেটাম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি হচ্ছ্ েপ্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি। ওই সময়ের মধ্যে তারা জমি কিনে তার দলিল মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা না দিলে জুলাই থেকে শিার্থী ভর্তি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হবে। তবে আইনের শর্ত মতো নির্ধারিত পরিমাণ জমি কিনতে হবে। জমি না কেনা পর্যন্ত স্থগিতাদেশ অব্যাহত থাকবে।
অপর দু’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কেও একই ধরনের চিঠি দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। এ দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, চট্টগ্রামের ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসটিসি) এবং ঢাকার সিটি ইউনিভার্সিটি। ওই চিঠিতে তাদের আউটার ক্যাম্পাস বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে তারা নিজস্ব জমিতে এখন শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করলেও আউটার ক্যাম্পাস চালাচ্ছে আইনের শর্ত লঙ্ঘন করে। এ জন্যই তাদের চিঠি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে অতিরিক্ত সচিব জানান।

১২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে টিঠি
যে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে টিঠি দেয়া হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি ইউএসটিসি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, আহছানউল্ল্যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, গণবিশ^বিদ্যালয়, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, দি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, সিটি ইউনিভার্সিটি।

স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম যে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়

যৌথ কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে আরো ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

যারা এখনও থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করছে না

১০টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করছে না। এগুলো হলো, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, আশা ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, মানারত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। তবে এসব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে তারা আংশিক শিক্ষাকার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিচালনা করছে।
দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে অবশ্য ৮৪টি চালু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সাত বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিাকার্যক্রম পরিচালনা করার বিধান রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে অনুমতিপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য এক একর অখণ্ড জমি থাকতে হবে এবং সেখানেই সব শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে। এ দু’টি মেগাসিটির বাইরে যেকোনো জেলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা ও পাঠদান করতে হবে দুই একর নিজস্ব অখণ্ড জমির ওপর। কিন্তু অনুমতিপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষগুলো আইনের এ শর্ত শতভাগ পূরণ করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সাল থেকে অন্তত পাঁচবার এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে আলটিমেটাম দিয়েছে। সর্বশেষ দেয়া আলটিমেটাম এ বছরের জানুয়ারিতে শেষ হয়। এরপর অগ্রগতি পর্যালোচনার করতে গত ৭ মার্চ ইউজিসিতে যৌথ বৈঠক করে আগামী ৩০ পর্যন্ত জুন পর্যন্ত আবার সময় দেয়া হয়েছে।



Notice: WP_Query was called with an argument that is deprecated since version 3.1.0! caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/dailyama/public_html/beta/wp-includes/functions.php on line 4023