শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » কাবা অবমাননার ছবি ফেসবুকে, বিক্ষোভে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ


কাবা অবমাননার ছবি ফেসবুকে, বিক্ষোভে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.07.2017

মুসলমানদের পবিত্র কাবাঘরের আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়। অভিযুক্তকে পুলিশ আটক করলেও তার শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন ক্ষুব্ধ মুসলমানরা। রাজ্যপালের অনুরোধে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রশমনে ৪০০ সেনা সদস্যকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এর শুরুটা হয়েছিল রবিবার। রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া এলাকার এক তরুণ কাবার আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে দেন বলে অভিযোগ উঠে। সন্দেহভাজন তরুণ শৌভিককে ওই রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু উত্তেজনা থেমে থাকেনি।

পুলিশ বলছে, বাদুড়িয়া, দেগঙ্গা, স্বরূপনগর আর বসিরহাট এলাকাগুলিতে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই অশান্তি শুরু হয়। বহু মানুষ রাস্তা আর রেল অবরোধ করে থাকেন অনেক রাত পর্যন্ত।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন এই সব বিক্ষোভকারীদের আসলে কোনও নেতৃত্ব নেই। সামাজিক মাধ্যমে নানা ছবি আর গুজব ছড়িয়ে পড়ায় তারা বারে বারে অশান্ত হয়ে উঠছে। ধর্মীয় বা সামাজিক নেতাদের কথাও এরা শুনছে না।

জানা যায়, সোম ও মঙ্গলবার এই দুই দিনে অন্তত ১৫টি পুলিশের গাড়ি-সহ বহু দোকানপাট ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সংঘর্ষে এসপি ও এএসপিসহ ২০ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও আটজন। চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দা-তরোয়াল-কুড়াল নিয়ে শহরে ঘুরতে দেখা যায় বিক্ষুব্ধদের।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকার দুষ্কৃতীরাও সেই ভিড়ে মিশে ছিল। এরা রাস্তা কেটে আটকে দেয় পুলিশের গাড়ি। বোমা-গুলি পড়তে থাকে মুহূর্মুহূ।

বসিরহাট ও বনগাঁর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ইন্টারনেট, ওয়াইফাই পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলাশাসক অন্তরা আচার্য জানিয়েছেন, বাদুড়িয়া-সহ কয়েকটি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। আজ বন্ধ থাকবে এলাকার স্কুল-কলেজ ও অফিস।

তবে এই ঘটনায় বিক্ষোভ না করার আহ্বান জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে যদি কেউ কিছু বলে, তুমি তার পাল্টাটা বলো। তুমি কাউন্টার না করে রাস্তায় নেমেছ কেন?’

অপরদিকে কেন্দ্রের কাছে সেনা সাহায্য চাওয়ার রাজ্যপালের প্রতিও ক্ষোভ জানিয়েছেন মমতা। তার অভিযোগ, রাজ্যপাল তাকে অত্যন্ত অপমান করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন ডেকে এও বলেন যে রাজ্যের নির্বাচিত প্রশাসক তিনি, রাজ্যপালের কোনও অধিকার নেই এইভাবে তাকে অসম্মান করার। তবে রাজ্যপালের আবাস থেকে জানানো হয়েছে যে মি. ত্রিপাঠি মুখ্যমন্ত্রীকে অসম্মান করার মতো কিছু বলেননি।