মঙ্গল্বার ২১ নভেম্বর ২০১৭


হলি আর্টিজানে হামলার ‘পরিকল্পনাকারী’ মাহফুজ গ্রেপ্তার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.07.2017

রাজধানীর অভিজাত হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার অন্যতম আসামি সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ, যিনি হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনা ও গ্রেনেড সরবরাহকারী ছিলেন বলে জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া মাহফুজের তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার দিবাগত রাতে সাড়ে তিনটার দিকে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পুষ্কনি এলাকার একটি আমবাগান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন কামাল, হাফিজ, জুয়েল।

এদের মধ্যে সোহেল মাহফুজ নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার। তিনি রাজধানীর হলি অর্টিজান বেকারিতে হামলার পরিকল্পনাকারী ও গ্রেনেড সরবরাহকারী ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এছাড়া জামাল নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। হাফিজ তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং জুয়েল নব্য জেএমবির সদস্য।

চাঁপাইবনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহবুব আলম ঢাকাটাইমসকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মাহফুজ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মামলার আসামি। নব্য জেএমবির এই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর তাকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

তবে গ্রেপ্তারদের সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সংবাদ সম্মেলন করে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে বলে এএসপি মাহবুব জানিয়েছেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ জনসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশি। পর দিন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে ছয় জন নিহত হয়। আইএস এর পক্ষ থেকে এদের মধ্যে পাঁচজনকে তাদের ‘সৈনিক’ বলে দাবি করে, তারা হামলার দায় নেয়।

হামলার ওই ঘটনায় মাস্টারমাইন্ডসহ ২৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়। তারা সবাই নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাস্টারমাইন্ড তামিম আহমেদ চৌধুরী, তানভীর কাদেরী, নুরুল ইসলাম মারজান, আবু রায়হান তারেক, সারোয়ার জাহান, আব্দুল্লাহ মোতালেবসহ ১৪ জনের মতো নিহত হয়েছেন। এছাড়া মামলার চার আসামিকে জীবিত ধরা হয়েছে। পলাতক রয়েছে আরও কয়েকজন ভয়ঙ্কর জঙ্গি। পলাতকদের মধ্যে সোহেল মাহফুজও ছিলেন।