শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭


ফরহাদ মজহারকে অপহরণের প্রমাণ মেলেনি: আইজিপি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.07.2017

কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক। তাকে অপহরণের মামলার তদন্ত চলছে জানিয়ে পুরো প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানানোর কথাও বলেছেন তিনি।

শনিবার যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সভায় আইজিপি এসব কথা বলেন।

গত সোমবার ভোরে রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর ফরহাদ মজহারকে পায়নি তার পরিবার। তাকে অপহরণ করা হয়েছে এমন অভিযোগে আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন তার স্ত্রী ফরিদা আখতার। পরে এ বিষয়ে মামলাও হয়।

অবশ্য ওই রাতেই খুলনা থেকে একটি বাসে করে ঢাকায় ফেরার পথে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে মঙ্গলবার তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। সেদিনই আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে নিজ জিম্মায় মুক্তি দেন বিচারক। এরপর থেকে তিনি রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ফরহাদ মজহারকে ‘অপহরণ’ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম দিন তার ঘনিষ্ঠজনদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ভোরে এক জনের ফোন পেয়ে তিনি শ্যামলীর বাসা থেকে বের হয়েছেন।

তবে পরদিন আদালতে ফরহাদ মজহার বলেছেন, তিনি ওষুধ কিনতে ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন।

আবার পুলিশ আলোচিত এই কবি-প্রাবন্ধিককে আটকের সময় একটি ব্যাগ উদ্ধারের কথা বলেছেন। এতে একটি কাপড়, মোবাইল ফোনের চার্জার ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তারা দাবি করেছিলেন, ভোরে তিনি কোনো ব্যাগ নিয়ে বের হননি। তবে ফরহাদ মজহার আদালতে জানিয়েছেন, তিনি একটি ব্যাগ নিয়ে বের হয়েছিলেন।

আবার যেদিন ফরহাদ মজহার অপহরণ হয়েছিলেন বলা হচ্ছে, সেই রাতে তিনি খুলনার একটি রেস্টুরেন্টে একা গিয়ে খাবার খেয়েছেন। আর খুলনায় বাস কাউন্টারে গিয়ে মিস্টার গফুর নামে টিকিট কিনেছিলেন বলে কাউন্টারের ব্যবস্থাপক ঢাকায় আদালতে এসে জবানবন্দি দিয়েছেন।

যদিও ফরহাদ মজহার পুলিশকে জানিয়েছেন, তাকে খুলনা নিয়ে যাওয়ার পর হাতে বাসের একটি টিকিট দিয়ে ঢাকায় ফিরতে বলেছেন ‘অপহরণকারীরা’।

আলোচিত-সমালোচিত এই প্রাবন্ধিক ও কবিকে অপহরণের অভিযোগের মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগ। বিভাগের জোনাল টিমের গোয়েন্দা পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন এই দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে তিনি এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানাননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দুই দিন আগেই জানিয়েছেন, এই মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ হবে।

যে অনুষ্ঠানে আইজিপি ফরহাদ মজহার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন, সেখানে তিনি অন্য নানা বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘কোন পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে এমন প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’