মঙ্গল্বার ২৪ অক্টোবর ২০১৭


সিলেটের হাঁসের দল নিয়েকুমিল্লার পথে প্রান্তরে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.07.2017

মাহফুজ নান্টু।।
কুমিল্লা সদর উপজেলার উত্তরের শেষভাগে বলেশ্বর গ্রাম। এ গ্রামের উত্তর পশ্চিমে বুড়িচং উপজেলার ভরাসার ও পয়াত নামে দুটি গ্রাম রয়েছে। আর দক্ষিণে ধানী জমির বিস্তীর্ণ প্রান্তর। মাসখানেক আগে জমিগুলো থেকে কৃষকরা তাদের ফলানো ধান গোলায় ভরেছে। এখন এ জমিগুলো খালি পড়ে আছে। জমিগুলোতে আষাঢ়ের পানি জমে আছে। কৃষকদের উঁচু জমির বীজতলায় ধানের চারাগাছ বড় হচ্ছে । ধানের চারাগুলো আগামী পনেরো বিশ দিন পর রোপণ উপযোগী হলে তারপর আগামী পনের বিশ দিন পরে জমিগুলোতে ধান রোপণ করবেন কৃষকরা। এখন জমিগুলো খালি থাকায় পানি আর ঘাসযুক্ত হয়ে আছে। এই জমিতে দিনভর প্যাক-প্যাক করে জলকেলি ও খাবারের সন্ধানে ঠোঁট ডুবিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে হাঁসের দল। মাঝে মাঝে হাঁসের দল খেতের আইলে সারিবদ্ধ হয়ে বিশ্রাম নেয়, একটি আরেকটির সাথে খুনসুঁটিতে মেতে থাকে। মাথায় ছাতা আর হাতে লাঠি নিয়ে খাবারের সন্ধানে ব্যস্ত থাকা হাঁসের দলটিকে দেখাশুনা করে তকদির মিয়া ও তালেব মিয়া দ’ুজন যুবক। সিলেটের শায়েস্তাগঞ্জের বানিয়াচংয়ে দু’জনের বাড়ি। মাসিক বেতনের বিনিময়ে তারা হাঁসের দেখাশুনা করে। হাঁসের মালিকের নাম কুদরত মিয়া। তার বাড়িও শায়েস্তাগঞ্জের বানিয়াচংয়ে।
কথা হয় তকদির মিয়ার সাথে । তিনি জানান মো. কুদরত নামে তাদের এলাকার একজন লোক ১৩ শ হাঁস দিয়ে তাদের কুমিল্লায় পাঠিয়েছে। কুমিল্লায় এখন ধানী জমিতে পানি আর ঘাস-লতাপাতায় ভরপুর। এসবের মধ্যে হাঁসের দল চষে বেড়ালে হাঁসগুলো মোটা তাজা হবে আবার ডিম ও দিবে। সেই চিন্তা থেকে দু’জন যুবককে দায়িত্বে দিয়ে হাঁসগুলোকে ঝুড়িতে করে সিলেট থেকে লোকাল ট্রেনে করে কুমিল্লায় পাঠিয়েছেন। যেখানে যাচ্ছেন সেখানে একটি শুষ্ক স্থান দেখে হাঁসগুলোর জন্য বাঁশ-পলিথিন দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করেন। দিনভর হাঁসগুলোকে চড়িয়ে রাতে সেই অস্থায়ী খোয়াড়ে রাখেন। পরের দিন সকালে হাঁসের ডিম সংগ্রহ করেন। বাজার থেকে পাইকার এসে ডিম নিয়ে যায়। ঠিক এভাবেই গত ১৫ দিন যাবত হাঁসের দল নিয়ে কুমিল্লার বিভিন্ন প্রান্তরে ঘুরে ফিরছেন দু’জন যুবক।
হাঁসের মালিক কুদরত মিয়া জানান, বছরখানেক আগে এক দুই দিন বয়সী প্রায় ২২০০ হাঁসের বাচ্চা কিনেছিলেন ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে। এখন সে ২২শ হাঁসের মধ্যে বর্তমানে ১৩শ হাঁস রয়েছে। ধানি মাঠে চষে বেড়ানো ১৩শ’ হাঁসের মধ্যে ৬শ’ হাঁস ডিম দিচ্ছে। গড়ে সাড়ে ৪ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করছেন কুমিল্লার বাজারে। কুদরত মিয়া জানান, আবহাওয়া ভালো থাকলে দু’জন যুবকের বেতন ও অন্যান্য খরচ বাদে আগামী পনের বিশ দিনে ভালো মুনাফা করতে পারবেন।
হাঁসের রক্ষণাবেক্ষণকারী যুবক তকদির মিয়া জানান, হাঁসগুলোর ডিমপাড়া শেষ হবে আগামী ফাল্গুন-চৈত্র মাসে। তখন হাঁসগুলোকে বিক্রি করে আবার নতুন করে হাঁসের বাচ্চা পালন করা হবে। এভাবে শুধু বছরের এ সময়টাকে কাজে লাগিয়ে কম পুঁজিতে বেশ ভালো মুনাফা অর্জন করা যাচ্ছে । আর তাই সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মৌসুমি হাঁস পালন বেশ জনপ্রিয়তা হয়ে উঠছে।