মঙ্গল্বার ২৪ অক্টোবর ২০১৭


মাইশা পরপারে-মা হাসাপাতালে, নানারও মৃত্যু


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.08.2017

তৈয়ুবুর রহমান সোহেল ॥
আড়াই বছরের ফুটফুটে শিশু শর্মিলা শাহরিন মাইশা। তার চাঞ্চল্যে মুখর থাকতো বাড়ির আঙিনা। প্রতি বিকেলে চাচার চায়ের দোকানে আড্ডা আর বাড়ির শিশুদের সাথে খেলাধুলায় মেতে থাকতো। শুক্রবার বিকেলে প্রতিদিনের মত বাড়ির পুকুর পাড়ে খেলতে বের হয় সে। হঠাৎ পুকুর পাড়ের ভিমররুলের বাসায় ঝোঁক পড়ে। এসময় মাইশাকে ভিমরুল কামড়ানো শুরু করলে মেয়ের চিৎকারে ঘর থেকে তার মা রীনা আক্তার বেরিয়ে এলে তাকেও ভিমরুলে কামড় দেয়। নাঙ্গলকোটের কাশিপুর গ্রামের ফেনুয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জনা যায়, ভিমরুলের কামড়ে মা-মেয়ে দুইজনে অসুস্থ হয়ে পড়লে ওইদিন সন্ধ্যায় তাদেরকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাত তিনটার সময় বিষক্রিয়ায় শিশু মাইশার মৃত্যু হয়। মা রীনা আক্তারের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ভর্তি করা হয় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পরদিন সকালে মা হাসপাতালে থাকা অবস্থায় মেয়ের দাফন করা হয়। দু’দিন পর হাসপাতাল থেকে ফিরে নিজের মেয়েকে দেখতে না পেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন পড়ে রীনা আক্তার। নাতনী ও মেয়ের শোক সইতে না পেরে শিশু মাইশার নানা উপজেলার দৌলখাঁড় গ্রামের আব্দুল লতিফ চৌধুরী (৭০) বুধবার আকস্মিক স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে ভিমরুলের কামড়ে নিহত শিশু মাইশার বাবা নাঙ্গলকোট উপজেলার সাবেক যুবদল নেতা জালাল উদ্দিন মিলন একটি মামলায় গত একমাস ধরে কুমিল্লা কারাগারে হাজত বাস করছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে ভর্তি করা হয়েছে কুমিল্লার মুন হাসপাতালে। নিহত শিশুর চাচা সাহাব উদ্দিন জানান, মিষ্টি মিষ্টি কথা ও চঞ্চলতার কারণে মাইশা সবার কাছে প্রিয় ছিল। তার আচমকা মৃত্যুতে পুরো সংসার এলোমেলো হয়ে গেলো। শিশু মাইশা ও তার নানা আবদুল লতিফ চৌধুরীর মৃত্যুতে কাশিপুর ও দৌলখাঁড় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।