মঙ্গল্বার ২৪ অক্টোবর ২০১৭


কুমিল্লায় বাড়ছে নারী নির্যাতন-আত্মহত্যা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
09.08.2017

মহিউদ্দিন মোল্লা।।

ছবি: ইয়াসমিন আক্তার

ছবি: নাজমা আক্তার
কুমিল্লায় মাদক ও হিন্দি সিরিয়ালের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে উত্ত্যক্ত, ধর্ষণ,হত্যা এবং নির্যাতনে নারীদের আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ছে। গত ৭মাসে এনিয়ে কুমিল্লার বিভিন্ন থানা ও আদালতে ২৭২টি মামলা হয়েছে। নারী নির্যাতনের সংখ্যা আরো বেশি হলেও সব ঘটনা আদালত এবং থানা পর্যন্ত যায় না,এবিষয়ে আইন শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতার সাথে সামাজিক সচেতনতা জরুরি বলে জানান বিশিষ্টজনরা।
বিভিন্ন সূত্র জানায়,কুমিল্লায় নারীদের যৌতুকের জন্য নির্যাতন, উত্ত্যক্ত, ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এনিয়ে কুমিল্লার বিভিন্ন থানা ও আদালতে ২৭২টি মামলা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে এ সংখ্যা এক ডজন ছাড়িয়েছে। এদিকে গত ৭মাসে যৌতুকের কারণে হত্যার সংখ্যা ১৫টি। তবে আত্মহত্যার কোনো পরিসংখ্যান নেই পুলিশ বিভাগে। তবে এ সংখ্যা শতাধিক হবে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। জেলার ১৭উপজেলায় প্রায় প্রতিদিনই নারী নির্যাতন,হত্যা,উত্ত্যক্ত এবং আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে।
২ আগস্ট কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্রী নাজমা আক্তার স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

ছবি: স্মৃতি

একই দিন দেবিদ্বারের ভেলানগর গ্রামের কিশোরী আসমা আক্তার এবং ব্রাহ্মণপাড়ার চান্দলা গ্রামে সীমা আক্তার নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করে।
১০ জুলাই দেবিদ্বার উপজেলার শিবপুর গ্রামে মোস্তফা কামাল তার স্ত্রী ইয়াছমিনের গর্ভে মেয়ে সন্তান আসার খবরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠে। ১২ জুলাই মনোহরগঞ্জ উপজেলার বান্দুয়াইন গ্রামে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় কামরুন্নাহার নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ফেসবুকে অশ্লীল ছবি দেয়ায় লাকসামের অশ্বথতলা গ্রামের স্মৃতি আক্তার নামে এক কলেজ ছাত্রী সুইসাইড নোট লিখে ৩০জুলাই আত্মহত্যা করে। একই দিন ব্রাহ্মণপাড়ার বলাখালে যৌতুকের জন্য নির্যাতন সইতে না পেরে আছমা আক্তার নামের এক নারী আত্মহত্যা করে।
কুমিল্লা সেনানিবাসে ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী তনুকে হত্যা করা হয়। তার হত্যাকারীদের ১৭মাসেও শনাক্ত করতে না পারায় কুমিল্লায় নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে বলে জানান এ নারী নেত্রী প্রত্যয় উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা আক্তার। তিনি আরো বলেন,টিভিতে প্রচারিত হিন্দি সিরিয়ালের নেতিবাচক বিষয় গুলো গ্রহণ করে তরুণ-তরুণীরা বিপদগামী হচ্ছে। তারা আবেগ প্রবণ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এছাড়া তরুণরা মাদক গ্রহণ করে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে নারীদের উত্ত্যক্ত,ধর্ষণ ও নির্যাতন করছে।
কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ নুরুর রহমান বলেন,সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লাসহ সারা দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে গেছে। নির্যাতিতরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। তাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে,আইনের আশ্রয় নিতে হবে। আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়।
সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন,ধর্ষণ একটি বিকৃত মানসিকতার কাজ। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে এসব অপরাধ কমে আসবে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বলেন,থানায় এবং আদালতে নারী নির্যাতনের যে ২৭২টি মামলা দায়ের হয়েছে তা আমরা তদন্ত করে দেখেছি, এগুলোর কিছু মামলা সঠিক নয়। আত্মহত্যা ধর্মীয় দৃষ্টিতে মহাপাপ। নির্যাতিত হয়ে আত্মহত্যা করা ঠিক নয়। এনিয়ে পরিবারকে দায়িত্বশীল হতে হবে। পুলিশকে জানালে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।