শনিবার ২১ অক্টোবর ২০১৭


চৌদ্দগ্রামে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.08.2017

স্টাফ রিপোর্টার।।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবিকা কর্তৃক ৭ বছর বয়সী শিশুকে দ্রুত স্যালাইন পুশ করায় ফুসফুসে পানি জমে ওই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ী সেবিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন শিশুর মাতা মনোয়ারা বেগম। শিশু আবির নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের চারিতুপা গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবিরকে বৃহস্পতিবার ভোরে চৌদ্দগ্রাম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাম কিবরিয়া শিশুটিকে একটি স্যালাইন প্রদান করলে এক সেবিকা নির্দিষ্ট নিয়মে সেটি পুশ করে। কিছুক্ষণ পর রোকেয়া বেগম নামের আরেক সেবিকা তড়িঘড়ি করে স্যালাইনের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। এতে আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই স্যালাইনটির অধিকাংশ শেষ হয়ে যায়। শিশুটির অবস্থা বেগতিক দেখে স্বজনরা পাশ^বর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। ডাক্তার শিশুটিকে কুমিল্লা প্রেরণের পরামর্শ দেন। সরকারি হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার গোলাম কিবরিয়াও একই পরামর্শ দেন। তাৎক্ষণিক মনোয়ারা বেগম ও পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ শিশু আবিরকে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার পরিবারকে জানায় শিশুটির ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণে পানি জমে গেছে। অবস্থা খারাপ দেখে ডাক্তার শিশুটিকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার জন্য বলে। পরিবার দ্রুত শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যায়। ঢাকার ধানমন্ডির নর্দান হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার বুক ভেঙে গেছে। আমার সন্তানের মত অন্য কারো সন্তান যেন এমন ভুল চিকিৎসায় মারা না যায়। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
অভিযুক্ত সেবিকা রোকেয়া বেগম জানান, আমি ওইদিন ডিউটিতে ছিলাম না। হয়তো না চিনেই রোগীর স্বজনরা অভিযোগটি দিয়েছে। এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. নাছির উদ্দিন জানান, বিষয়টি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হয়েছে। শিশুটির জন্মগত জটিল রোগ ছিল। তাই হয়তো তার মৃত্যু হয়েছে। স্যালাইনের কারণে শিশুর মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ গুজব।
গতকাল বুধবার দুপুরে শিশু আবিরের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসার পর পারিবারক কবরস্থানে দাফন করা হয়।