রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯


শাসনগাছায় দুঃসহ দুর্ভোগ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
24.08.2017

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।

ছবি- এন কে রিপন
নির্মাণাধীন শাসনগাছা ফ্লাইওভার। ৬৩১.২৯ মিটার এলাকার বেশিরভাগ এখন বাস টার্মিনালে পরিণত হয়েছে। সারা রাস্তায় ছড়ানো ছিটানো বাস, ফুটপাথ দখল, ফ্লাইওভার নির্মাণের ফলে সড়ক সঙ্কুচিত হওয়ায় ও সড়ক সংস্কারের অভাবে চরম দুর্ভোগে কুমিল্লার লাখো মানুষের। উড়ন্ত ব্রিজের নিচে জীবন্ত দুর্ভোগে ভয়াবহ সমস্যায় পড়েছেন নগরীর পথচারী ও ব্যবসায়ীরা। ওই এলাকায় রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও ভাঙা রাস্তায় জলাবদ্ধতায় কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে যান চলাচল করাতে সংযোগ সড়কগুলোতেও তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিকল্প সড়ক হিসেবে শাসনগাছা-ধর্মপুর-খেতাসার সড়কে বাস চলাচল করায় দুর্ভোগে পড়ছে ভিক্টোরিয়া কলেজ ও কুমিল্লা বিশ্ববিদালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। যাতায়াতে বিঘœ ঘটায় সঠিক সময়ে অফিস আদালতে পৌঁছাতে পারছে না চাকরিজীবীরা। কুমিল্লা রেল স্টেশন সংলগ্ন শাসনগাছা রেলগেট ট্রেন চলাচলের কারণে বারবার বন্ধ রাখায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে ওই ফ্লাইওভারকে ঘিরে পুরো মহানগরীতে জনভোগান্তি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

ছবি- এন কে রিপন

এদিকে যাতায়াত সমস্যার ফলে ক্রেতা কমে যাওয়ায় বেচাকেনা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে ফ্লাইওভার এলাকার প্রায় এক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। ধস নেমেছে কুমিল্লার অভিজাত মার্কেট ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার ব্যবসাতে। পথে বসার উপক্রম হয়েছে রেলওয়ের ব্যবসায়ীদের। গতকাল শাসনগাছায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ফ্লাইওভারের নিচের সামান্য কিছু জায়গা বাদে পুরো ফুটপাথ দখল হয়ে গেছে। ফুটপাথ দখল হওয়াতে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ফুটপাথের অন্তত দশজন ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিয়ে তাদেরকে এখানে বসতে হয়। এই চাঁদা আদায় করে কারা জানতে চাইলে তারা বলেন, সরকার দলীয় রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ চাঁদা আদায় করে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের মে মাসে ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে ইস্টার্ন প্লাজা ও পাইকারি ঔষধের ফার্মেসিসহ ফ্লাইওভার সংলগ্ন শাসনগাছা-রেসকোর্সের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহে গণহারে ক্রেতা কমতে থাকে। এতে করে দু’বছরে প্রায় ৬০০-৭০০ কোটি টাকার লোকসান গুণতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। চাল ব্যবসায়ী নিউ গোমতী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সুলতান আহমেদ জানান, আমাদের বেচাকেনা অনেক কমে গেছে। যাতায়াতে সমস্যা হওয়ার ফলে ক্রেতারা অন্যমুখী হয়ে গেছে। এত দিন আশায় আশায় ছিলাম সমস্যা নিরসন হবে, কিন্তু তার কোনো লক্ষণ দেখছি না।
আদিবা মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী বাবু সিংহ বলেন, গত দুই বছরে ওষুধ বেচাকেনা অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। বাধ্য হয়ে অনেকে এখন ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছেন। দিনের এত সময় হলো এখনো হিসেবের খাতায় দাগ দিতে পারিনি!
ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা দোকান-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম ভূঁইয়া জানান, গত দুই বছরে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসে গেছে, তার একটিই কারণ এ ফ্লাইওভার। আমরা বিষয়টি নিয়ে বারবার নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রেক্টো ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে বসেও কোনো সমাধান পাইনি।
অপরদিকে শাসনগাছা বাস টার্মিনালের বাস ও অন্য বাহনগুলো ঠিকভাবে চলাচল করতে না পারায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানা গেছে।
শাসনগাছা বাস টার্মিনালের ইজারাদার ও কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান জানান, নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের সমস্যার কারণে বাধ্য হয়ে যানবাহন সমূহকে এলামেলোভাবে রাখতে হচ্ছে। দুই বছরের বেশি সময়ে বাস ঠিকভাবে বের করতে না পারায় আমাদের প্রায় দুইশ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলেও প্রতিকার মেলেনি।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহম্মদ সাইফ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যেই আমরা কাজ শেষ করতে পারবো। কাজ শেষ হলে জনগণের দুর্ভোগ কমে আসবে।
তবে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের নিচে পর্যাপ্ত যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকার পাশাপাশি ফ্লাইওভারের নিচে মৌসুমি হকারদের জায়গা দখল করে বসে পথচারীদের চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে। কবে নাগাদ এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবে এটাই এখন জানতে চায় নগরবাসী। এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম জানান, আমরা সড়ক ও জনপদের সাথে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবরে না হয় নভেম্বরের মাঝামাঝিতে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হবে। এ সময়টুকু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।