বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর ২০১৯


ষোড়শ সংশোধনী- বিতর্ক


আমাদের কুমিল্লা .কম :
24.08.2017

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় এবং এর পর্যবেক্ষণ নিয়ে সারা দেশে চলছে তোলপাড়। আদালত অঙ্গনের এই বিষয়টি আদালতের সীমা ছাড়িয়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে বঙ্গভবন থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। শুরু হয়েছে এ নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির তুমুল রাজনীতি। পাঠকের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দৈনিক আমাদের কুমিল্লার পক্ষ থেকে আমরা কথা বলি কুমিল্লার দুই বিশিষ্ট আইনজীবী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য এড. কাইমুল হক রিংকু ও কুমিল্লার পাবলিক প্রসিকিউটর এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটনের সাথে।এই দুই প্রথিতযশা আইনজীবীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন দৈনিক আমাদের কুমিল্লার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শাহাজাদা এমরান। সাথে ছিলেন স্টাফ রিপোর্টার তাপস চন্দ্র সরকার ও মোস্তাফিজুর রহমান।
খায়রুল হক ও আ’লীগের প্রতিক্রিয়া সুস্পষ্ট আদালত অবমাননাকর – এড. কাইমুল হক রিংকু
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক এড. কাইমুল হক রিংকু বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ও আওয়ামী লীগের মন্ত্রী -এমপিরা যেভাবে প্রধান বিচারপতিকে কটাক্ষ করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তা সুস্পষ্ট আদালত অবমানননাকর। এর আগে দেশের ইতিহাসে কোন রায় নিয়ে কোন রাজনৈতিক দল আদালতকে কটাক্ষ করে এভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তিনি অবিলম্বে আদালত অবমাননার জন্য খায়রুল হকের গ্রেফতার দাবি করেন। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে দৈনিক আমাদের কুমিল্লাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি নিচে দেওয়া হলো।
আমাদের কুমিল্লা : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক কথা বলা সত্ত্বেও বিএনপি ষোড়শ সংশোধনী রায়কে ঐতিহাসিক গণ্য করেছে কেন ?
এড. কাইমুল হক রিংকু : ষোড়শ সংশোধনী রায়কে শুধু বিএনপি না, দেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষসহ সকলেই অভিনন্দন জানিয়েছে। দেশের সাবেক সফল প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা চিন্তা করে আমাদের সংবিধানে এই বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করেছিলেন যে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়ালের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ও ২০০৮ সালেও ক্ষমতায় ছিল। তখন কিন্তু তারা তা বাতিল করেনি। এমনকি আজকে যিনি লাভজনক পদে থেকেও এই রায় নিয়ে কথা বলছেন সেই সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক সাহেবও এটি বাতিল করেননি। ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার এবার ক্ষমতায় এসে যখন দেখল, বর্তমান প্রধান বিচারপতি তাদের কথামত কাজ করছে না ঠিক তখনি তারা সংসদে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে আইনটি বাতিল করে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে নিয়ে যায়। যা সর্বোচ্চ আদালত দীর্ঘ শুনানির পর বাতিল করে দেয়। আদালতের সকল বিচারকই এই রায়ের পক্ষে রায় দেন। কারণ, সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করার ক্ষমতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে সরকার সংসদে যে বিল আনবে দলীয় সংসদ সদস্যরা সেই বিলের পক্ষেই রায় দিতে হবে।
আমাদের কুমিল্লা : আওয়ামী লীগ যেমন রায়ের পর্যবেক্ষণ এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানিয়েছেন, তেমনি আপনারা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে পর্যবেক্ষণে যা বলা হয়েছে তার এক্সপাঞ্জ চাইবেন কিনা ?
এড. কাইমুল হক রিংকু : আমাদের দলের সিনিয়র আইনজীবীরা বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে এলে ম্যাডামের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
আমাদের কুমিল্লা : বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী লিখেছেন, জিয়া এরশাদের স্বৈরশাসনে বাংলাদেশের সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী চরিত্র হারিয়েছিল- এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী ?
এড. কাইমুল হক রিংকু : নেত্রী দেশে আসলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম বসে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে।
আমাদের কুমিল্লা : আপনারা গত সংসদ নির্বাচনের বৈধতার কথা বলেছিলেন, কিন্ত রায়ে তা নেই- এ বিষয়ে কিছু বলবেন ?
এড. কাইমুল হক রিংকু : রায়ের ভেতর তা নেই ,আবার আছে। ১৫৪টি বেশি আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এটি অবৈধ। আপনি রায়টি ভাল ভাবে পর্যালোচনা করলে রায়ের ভিতরেই এই অবৈধ বিষয়টি দেখতে পাবেন।
আমাদের কুমিল্লা : আপনাদের ভিশন ২০৩০-এ প্রধানমন্ত্রীর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করার কথা বলা হলেও ৭০ অনুচ্ছেদ সম্পর্কে সেখানে কিছু বলা নেই। অথচ রায়ে বলা হয়েছে, সংসদ শক্তিশালী হওয়ায় এটাই বড় বাধা। আপনার মন্তব্য কী?
এড. কাইমুল হক রিংকু : মাননীয় আদালত অত্যন্ত সঠিক কথা বলেছেন। সংসদ অকার্যকর হয় এই রকম নিয়ম পার্শ্ববতী দেশ ইন্ডিয়াতেও নাই। আবার ওই দেশে না ভোট দেওয়ারও নিয়ম আছে। মাননীয় আদালতের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, সংসদ শক্তিশালী হওয়ার সবচেয়ে বড় বাধা ৭০ অনুচ্ছেদ। এটা বাতিল করতে হবে।
আমাদের কুমিল্লা : আওয়ামী লীগের দলীয় গঠনতন্ত্রের চেয়ে বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্রে বেগম খালেদা জিয়াকে বেশি নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দিয়েছে। সুতরাং আমিত্ববাদ জাতীয় রাজনীতির অংশ হয়ে গেল কি না ?
এড. কাইমুল হক রিংকু : এখানে আপনি বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সাথে মিলিয়ে ফেললে হবে না। বিএনপি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল করে কাউন্সিলরদের রায়ে দলীয় চেয়ারপার্সনকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়েছে। তারপরেও যে কোন সিদ্ধান্ত চেয়ারপার্সন একা নিতে পারেন না। তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সুতরাং এখানে আমিত্ববাদের কোন কিছুই নেই।
আমাদের কুমিল্লা : বিএনপি কোন যুক্তিতে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ দাবি করে। ভারতের ৯৯তম সংশোধনী বাতিলের পরে কেউ সেখানে সরকারের পতন আশা করেনি।
এড. কাইমুল হক রিংকু : বিএনপি ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর থেকে বলছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এই নির্বাচনে জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন হয়নি। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, তাদের জন্যই আইন। সুপ্রিম কোর্টের রায় সর্বোচ্চ আদালতের রায় । তারা সেই রায়কে কিভাবে অস্বীকার করে সেটা বুঝে আসে না। দলের মেসেজ পাঠানোর জন্য দলীয় সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সেখানে যেতে পারে না। এই কারণেই বিএনপি দাবি করছে যেহেতু ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর সরকারের উচিত দ্রুত ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া। কিন্তু তা না করে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা পর্যন্ত প্রধান বিচারপতিকে কটাক্ষ করে কথা বলছেন- যা কাম্য হতে পারে না।
আমাদের কুমিল্লা : ষোড়শ সংশোধনী রায় ঘোষনার পর প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপিরা এমনকি দলীয় আইনজীবীরা পর্যন্ত যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে সেটা কি আদালত অবমাননা পর্যায়ে পড়ে কিনা?
এড. কাইমুল হক রিংকু : অবশ্যই আদালত অবমাননা পর্যায়ে পড়ে। আসলে আদালতের রায়ে সব সময়ই আইনজীবীরা দু’পক্ষ হয়ে যায়। কিন্তু রাজনীতিবিদরা বর্তমান সময়ের মত কখনো এমন আচরণ আর করেনি। এর আগে মাননীয় আদালত খাদ্য মন্ত্রী এড. কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হককে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল। তার পরেও তারা কিভাবে মন্ত্রী থাকে সেটা বুঝি না।
আমাদের কুমিল্লা : রিভিউতে যদি সরকার হেরে যায় আর আদালত যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী কিছু অংশ এক্সপাঞ্জ না করে তাহলে সম্ভাব্য আর কি উপায় থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন।
এড. কাইমুল হক রিংকু : রিভিউ করার পরে আর কিছু থাকে না। মহামান্য আদালত কোন পক্ষপাতিত্ব করে না । রিভিও যদি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে রাখবে, না হয় বাদ দিবে। আইনমন্ত্রী আইনের মাধ্যমে যাওয়ার কথা বলছিল সেটাই ভাল ছিল।
আমাদের কুমিল্লা : ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্যকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
এড. কাইমুল হক রিংকু : আমি মনে করি ওনি (সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক) সুবিধাবাদী একজন লোক। ওনার হাতে এর আগে ক্ষমতা ছিল কিন্তু তিনি ওই সময় সংশোধন করেনি। তিনি এখন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যেভাবে আদালতকে অবজ্ঞা করছেন তাতে তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত।
আমাদের কুমিল্লা : আপনাদের পরবর্তী কর্মসূচি কী ? ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের লক্ষ্য কি।
এড. কাইমুল হক রিংকু : আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী । মাজদার হোসেন মামলার মূল বিষয় হতে সরকার সরে যাচ্ছে। আমরা তিনটা ইস্যুতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করছিলাম। অবিলম্বে খায়রুল হক ও কামরুলসহ দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ আসা করছি।
আমাদের কুমিল্লা : সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
এড. কাইমুল হক রিংকু : আপনাকেও ধন্যবাদ।
রায় নিয়ে নয়,পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা করা আদালত অবমাননাকর নয়- এড.মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন বলেছেন, আমরা ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে কথা বলছি না। আমরা কথা বলছি, শুধু রায়ে বিচারকদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে। রায়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় অনেক ভাল কথা বলেছেন, কিন্তু তিনি জাতির পিতাকে নিয়ে যে প্রসঙ্গেও অবতারণা করেছেন এটা মেনে নেওয়া যায় না। এটা খুবই দু:খজনক। তা এদেশের সাধারণ মানুষের মনোবেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে দৈনিক আমাদের কুমিল্লাকে দেওয়া জেলা পিপির সাক্ষাৎকারটি নিচে দেওয়া হলো।

আমাদের কুমিল্লা : স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্ব রায়ে অস্বীকার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু রায়ে তা দেখা যাচ্ছে না । এমনকি প্রধান বিচারপতি রায়ে ৫ বার বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা বলেছেন এবং জাতিরজনক কথাটিও উল্লেখ করেছেন। তাহলে এত হৈ চৈ কেন হচ্ছে ?
এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন : ষোড়শ সংশোধনী সংবিধান বাতিলের রায় সম্পর্কিত রায় । সেখানে তিনি একটি কথা বলেছেন, কোন একজন ব্যক্তির পক্ষে একটি দেশের স্বাধীনতা সম্ভব নয়। এই কারণে রায়কে অপ্রাসঙ্গিক বলি। কেননা, মহান মুক্তিযুদ্ধকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার কোন সুযোগ কারো নেই। এটা মিমাংসিত সত্য। এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টির অপপ্রয়াস জাতি কোন ভাবে মেনে নিবে না। যেমন, আপনি আমাকে বললেন, আপনার মত খারাপ লোক হতে পারে না। আবার অন্য এক জায়গায় বললেন, আপনার মত ভাল লোক হতে পারে না। তাহলে কি দাঁড়াল ? এক ব্যক্তি তো একজন সম্পর্কে দুই রকম কথা বলতে পারেন না। তাই আমরা বলছি, অপ্রাসঙ্গিক শব্দগুলো বাতিল করতে হবে। রায়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি অনেক ভাল কথা বলেছেন কিন্তু তিনি জাতির পিতার অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।
আমাদের কুমিল্লা : এই রায় আমিত্ববাদের বিরুদ্ধে একটি জোরালো উচ্চারণ । আমাদের সংবিধানে প্রস্তাবনা আমরা জনগণ দিয়ে শুরু হয়েছে । তাহলে এতে ভুল কোথায় ?
এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন : বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ নির্বাচিত করেন জনপ্রতিনিধিগনকে। নির্বাহী বিভাগের প্রধান প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের মুখপাত্র। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের সুশাসন বাস্তবায়নকারী। একটি আদর্শ রাষ্ট্রের জন্য এ তিনটির কোন একটিতে অনৈক্য, দূরত্ব কিংবা পৃথকীকরণ দেখা দিলে জন্মভূমির মানচিত্রে ফাটল ধরে। সুতরাং এখানে আমিত্ববাদ এল কোথা থেকে ?
আমাদের কুমিল্লা : ষোড়শ সংশোধনীর রায় বা পর্যবেক্ষণ নিয়ে আপনারা যে আন্দোলন করছেন তা কি ব্যাখা নির্ভর বিষয়, না তথ্য নির্ভর।
এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন : তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এখন এই রায়ের উপর আলোচনা সমালোচনা চলছে। আমরা রায় থেকে কিছু অপ্রাসঙ্গিক কথাগুলো বাদ দেওয়ার জন্য রিভিউ করব। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় সংসদকে নিয়ে কটাক্ষ করা অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বলে আমরা মনে করছি। এ প্রসঙ্গে প্রথমে বলতে হবে আমরা স্বাধীন কি না? আমরা রায়ের বিরুদ্ধে যাচ্ছি না আমরা কিছু অপ্রাসঙ্গিক পর্যালোচনার কারণে কথা বলছি । যার কথায় এই দেশের ঘুমন্ত মানুষ জাগ্রত হয়েছে ৭ মার্চ ১৯৭১-এ । ওইদিন তিনি ভাষণে বলেছেন ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেদিন এই ভাষণ বঙ্গবন্ধু ছাড়া অন্য কোন নেতার মুখে শুনিনি। আজ দেশের অবিসংবাধিত নেতাকে কেন্দ্র করে যে পর্যালোচনা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই পুর্নবিবেচনার দাবী রাখে।
আমাদের কুমিল্লা : ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর সরকার এবং আপনাদের দলের নেতারা যেভাবে প্রধান বিচারপতিকে কটাক্ষ করে কথা বলছে – এটা আদালত অবমাননা পর্যায়ে পড়ে কিনা।
এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন : আমরা আগেই বলেছি, আমরা রায়ের বিপক্ষে কথা বলছি না। আমরা কথা বলছি, রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে। সুতরাং রায়ের উপর আলোচনা পর্যালোচনার সুয়োগ রয়েছে।এ বিষয়ে কথা বলাতো হতেই পারে। এটা আদালত অবমাননা হবে কেন ।
আমাদের কুমিল্লা : শুনেছি সরকার রিভিউ করবে কিন্ত যদি রিভিওতে রায় আপনাদের পক্ষে না আসে তখন কি করবেন ?
এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন : একজন আসামিকে কুমিল্লাতে ফাঁসির রায় দিল। আপিলের পর উচ্চ আদালত রায় বহাল রাখলো তারপর সে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চায় । এ বিষয়ে আমরা সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে আইনী লড়াই চালিয়ে যাবো।
আমাদের কুমিল্লা :প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে অবৈধ সেনা শাসক, নোংরা রাজনীতি ও ভোটারবিহীন নির্বাচন করার জন্য তিরস্কার করা হয়েছে। সেটাকে কি বলবেন?
এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন : আমাদের মহান স্বাধীনতার পিছনে জিয়ার অবদানের কথা অস্বীকার করি না। তার অবদান আছে। তবে আদালত তার সম্পর্কে পরবর্তীতে যে সকল কথা বলেছে তা ঠিক আছে।
আমাদের কুমিল্লা : আইনমন্ত্রী চারজন বিচারককে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ১১৬ অনুচ্ছেদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাহলে কি ধরে নেব বাকিগুলো আপনারা মেনে নিয়েছেন।
এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন : আপনাকে প্রথমে বুঝতে হবে, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আমরা বিচারকের সাথে দ্বিমত করিনি। কিছু অপ্রাসঙ্গিক পর্যালোচনার কারণে রায়ের সমালোচনা করা হয়েছে মাত্র।
আমাদের কুমিল্লা : আপনাদের পরবর্তী কর্মসূচি কী ? ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের লক্ষ্য কি।
এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আইনজীবী পরিষদ থেকে যে কর্মসূচি আসবে আমরা তা পালন করব ইনশাল্লাহ।।
আমাদের কুমিল্লা : বিএনপির প্রতিক্রিয়া আপনাদের এত তাড়া করল কেন ?
এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন : এই দল সম্পর্কে আপনারা জানেন। এই দলটি স্বাধীনতা বিরোধী দলের সাথে সম্পৃক্ত । এই দলটি জাতির পিতাকে কটাক্ষ করে কথা বলে। তারা হত্যাকারীদেরকে লালন করে। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য গ্রেনেড হামলা করে। তারা কি করে তা দেশের মানুষ জানে । তবে তারা স্বাধীনতার বিপক্ষে এদেশে আর কিছু করতে পারবে না।

আমাদের কুমিল্লা : কর্মরত প্রধান বিচারপতিদের বিরুদ্ধে মন্ত্রী এমপিরা অনেক অশোভন উক্তি করছেন- একজন আইনজীবী হিসেবে বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন ?
এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন : আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছি। যারা আন্দোলন করেছে তারা সবাই আইনজীবী। বিচার বিভাগের বিচারকরা মনে করেন, তারাই সব কিছু করেছেন। আইনজীবিরা কিছু করেনি। তারা পূর্বের ইতিহাস মনে রাখে না। এই স্বাধীনতা তারা আনেনি। এই স্বাধীনতা আইনজীবীরা এনেছে। আইনজীবীদের কোন কথা তাদের অবজারবেশনে আসে না। কারণ জিয়াকে কটাক্ষ করে কথা বলায় বিএনপি যদি খুশি হয় তাহলে আমাদেরতো কোন কিছু বলার নেই। বিএনপি মেধাভিত্তিক সংগঠন না। যদি তারা মেধাভিত্তিক সংগঠন হতো তাহলে জিয়াকে কটাক্ষ করার পরেও তারা এত খুশি হতো না, তারা নেতার আদর্শ চায় না, শুধু চায় ক্ষমতা। এবং সে ক্ষমতা নিতে চায় পেছনের দরজা দিয়ে।
আমাদের কুমিল্লা : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
এড. মোস্তাফিজুর রহমান লিটন : আপনাকেও ধন্যবাদ।