রবিবার ২৪ †m‡Þ¤^i ২০১৭


ছায়াসঙ্গী


আমাদের কুমিল্লা .কম :
24.08.2017


মেহেরুন্নেছা
রাত প্রায় তিনটা। নওশাদের চোখ থেকে ঘুম পালিয়েছে। পাশেই কেয়া অঘোরে ঘুমুচ্ছে। কেয়ার পরনে নাইটি। সুন্দরী হলেও কেয়াকে নাইটিতে কেমন যেনো লাগছে। নওশাদের চোখে কেয়ার সৌন্দর্য সবসময় ম্লান ; কখনোই চটকদার নয়।
তারা দুজনে ক্যাডার কর্মকর্তা। বিয়েটা পারিবারিকভাবে হয়। উভয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। চৌকষ নওশাদ তার সঙ্গিনীকে যেভাবে চেয়েছে কেয়া তার ধারে কাছেও নেই। একেবারে সাদা- মাটা
জীবন কেয়ার। কেয়া কখনো নওশাদকে টানতে পারেনি। কেয়া কখনো নওশাদের চোখে চমক ধরাতে পারেনি।
বিছানা থেকে উঠে ধীর লয়ে নওশাদ ড্রইং রুমের সাথে লাগোয়া বারান্দায় পাতা চেয়ারে বসে। মনটা একদম তেতো। তাদের দুটি সন্তান হলেও নওশাদের কখনোই কেয়াকে নিজের শরীরের সাথে দুমড়ে মুচড়ে পিষে ফেলতে মন চায়নি।
একেবারে ছকেবাঁধা জীবন, নিরানন্দ জীবন। শুধু সমাজের চোখে আদর্শ দম্পতি। কেয়ার গেটআপ পরিবর্তনের চেষ্টা যে নওশাদ করেনি তা নয়। কিন্তু তার এসবে ভ্রুক্ষেপ নেই। কেয়ার কাছে ব্যাপারটি তেমন গুরুত্ব বহন করেনা। সে ভেবেছিলো নওশাদ নিপাট ভদ্রলোক। জীবনকে অন্যখাতে নিয়ে যাওয়ার মত লোক নওশাদ নয়।
কেয়া উচ্চ শিক্ষিত, প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হলেও জীবন যাপনে বড়ই আটপৌরে। চাকুরী আর সন্তান কেন্দ্রিক জীবন। দাম্পত্য জীবনে নওশাদের চাওয়া-পাওয়াকে তার নিকট একটু বাড়াবাড়ি মনে হয়। তবুও তার হ্যান্ডসাম, চৌকষ স্বামী। সে নওশাদকে পেয়ে তৃপ্ত। কিন্তু নওশাদের ভেতরে অতৃপ্তির যে অনল তার হদিস কখনো কেয়া রাখেনি। তার ধারণা তাদের যুগল জীবন ঠিকঠাক মতই চলছে।
শৈশব থেকেই নওশাদের সাহিত্যে অবাধ বিচরণ। পাশাপাশি সংগীত ও সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনে ছিলো তার পদচারণা। প্রচুর পড়াশোনা করা নওশাদের মনের নকশাতো আর কারো সাথে মেলেনা। তার ভেতরের সৌন্দর্য চর্চার আগ্রাসী চেতনা তাকে সুরুচি সম্পন্ন এক কাঙ্খিত পুরুষে পরিণত করেছে।
সভ্যতার ইতিহাসের পরতে পরতে নওশাদ হেঁটে বেড়ায়। কল্পনায় তার যত হৃদ্যতা ইতিহাসের সেই কালজয়ী নারীদের সাথে। এই নারীরাই তার ভাবের খেলার সাথী। এই নারীরাই তার মরমের সাথী। কল্পনায় এই সৌন্দর্যের দেবীদের সাথেই সে অভিসারে মত্ত হয়।
এই নারীদের সৌন্দর্য সার্বজনীন; যাদের কখনো সময়ের করাল থাবা আঘাত হানেনা।

কল্পনার উড়াল পঙ্খীকে কিংবা ইচ্ছে ঘুড়িটাকে দূর আকাশে স্বাধীনভাবে উড়ানো যায়। কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন।
এখানে ইচ্ছে ঘুড়ির নাটাইটা সমাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাইতো পরিবারের ইচ্ছের কাছে নওশাদ নিজের ইচ্ছেটাকে সমর্পণ করে। নওশাদরা দুই বোন ও এক ভাই। বাবা- মা ছাড়াও বোনদের খুবই প্রিয়
এই নওশাদ। তার পরিবার চিরন্তন মূল্যবোধ মোতাবেক কেয়াদের পরিবারের সাথে আত্মীয়তা করে। নওশাদও কেয়াকে সাদরে গ্রহণ করে। ভেবেছিলো ধীরে ধীরে কেয়াকে নিজের মত করে গড়ে তুলবে। কিন্তু সে ব্যর্থ। আসলে মানুষ তার সহজাত বৈশিষ্ট্য থেকে বের হয়ে আসতে পারেনা। কেউ অন্য কাউকে নিজের মত করে গড়ে- পিঠে তুলতে পারেনা। পৃথিবীর সকল মানুষ আপন মহিমায় বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

বিয়ে- সাদী, জন্মদিন যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে কেয়া ম্রিয়মান ;অথচ নওশাদ তার রুচি, সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্বেরচ্ছটায় দীপ্তিমান। অফিশিয়াল প্রোগ্রামে পারতপক্ষে দুজন একসাথে উপস্থিত থাকলেও সময়টা পার করা নওশাদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠে। তারপরেও এভাবেই দিন গুজরান হচ্ছিলো।

দূর আকাশের ঐ তারারাই যেনো চিরকাল নওশাদের সঙ্গী হিসেবে রয়ে যাবে। ইতিহাসের নারীরাই যেনো নওশাদকে তৃপ্ত করে যাবে। কিন্তু এভাবে কতদিন!! চিত্তের চাঞ্চল্য যে আর প্রশমিত হয়না। শূণ্যতা যে অহর্নিশি তাড়িয়ে বেড়ায়। তার আত্মা কেবলি ইতিহাসের সেই কাঙ্খিত নারীদের ছায়া নারীকে খুঁজে ফেরে!

কি হবে এই নওশাদের জীবনে???
কতদূর তার সেই কাঙ্খিত ছায়া- নারী??

নওশাদের চারপাশে জলে সয়লাব অথচ সে তৃষ্ণার্ত। এমনি বিষন্নতা নিয়েই সে অফিশিয়াল ট্যুর অথবা ট্রেনিং এ দেশ- বিদেশ ঘুরে বেড়ায়। মোটেই কেয়াকে তার সঙ্গী হিসেবে পছন্দ নয়। কেয়ার সাথে ভাবের খেলা, মরমের কথা আদান- প্রদান একেবারেই চলেনা। শরীরী সুখতো নয়ই। বিছানায় নওশাদের ইতিহাসের নারীরা কিংবা ছায়া- নারীরা থাকে উদগ্র কামনায় ভরপুর। কল্পনার সেই রমনলীলা থাকে আদিমতা কিংবা বন্যতায় টইটুম্বুর। কেয়ার চিরআড়ষ্ট হৃদয়ে তো এই লীলা উপভোগের সুখ বা আমেজ কখনো পৌঁছুবেনা কিংবা বুঝানো যাবেনা। নওশাদ যতই কেয়াকে এসব কথা জানাতে চেয়েছে; কেয়া ততই বিরক্ত হয়েছে। অগত্যা নওশাদের সব প্রচেষ্টাই গুড়েবালি।

কোনো এক ফোরামে শবনম নামে এক নারীর সাথে নওশাদের পরিচয়।
অবাক কান্ড…..!!
এই নারী যেনো তার চিরচেনা…!!
হাজার বছর ধরে যেনো এই অবয়বকেই সে খুঁজে বেড়াতো…!!
কি এক অমোঘ আকর্ষণ!!
সত্যি – সত্যিই এই নারী যে তার হৃদয় হরণ করে নিলো। প্রথম দর্শনে তার হৃদয়টা মোচড় দিয়ে উঠলো।
মনটা যেনো জানান দিলো— এ যে তার কল্পনার সেই ছায়া নারী। এ নারী যে তার বানভাসি জীবনে আশার ভেলায় চড়ে এসেছে। যেকোনো ভাবেই হোক এ নারীকে তার চাই।
আগ বাড়িয়ে নওশাদ পরিচয়ের পর্ব সেরে নিলো। শবনমও নওশাদকে দেখলো মুগ্ধ হয়ে। দুটি হৃদয় যেনো দুজনের অন্তরাত্মাকে চিনে নিলো।
চাহনি বলে দিলো–জনম জনম ধরে আমিতো তোমারই প্রতীক্ষায় ছিলাম।
স্নিগ্ধ, সৌম্য অথচ ঝলসানো রূপবতী শবনম তীব্রভাবে নওশাদের দৃষ্টিতে আটকে গেলো। শবনম ডিভোর্সী। রক্ষণশীল হাজবেন্ড চেয়েছিলো শবনমকে তার মানসিকতার গড়নে জীবন – যাপনে বাধ্য করতে। কিন্তু শবনম সে ধাঁচের নয়। শবনম সবসময় তার ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়েছে। মুক্ত বিহঙ্গের মত উড়তে চেয়েছে। সুন্দরের সাগরে চিরটাকাল সাঁতরাতে চেয়েছে। কিন্তু এই পার্থিব জীবনে নিজের মত করে জীবন যাপন কতটা সম্ভব???
শবনম যতটা সম্ভব নিজের স্বাধীনতা, অধিকার এসবকে গুরুত্ব দিয়েই জীবনকে সাজিয়ে রেখেছে। স্বকীয়তা, সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বেরচ্ছটায় ভরপুর শবনম একটি এনজিওর বড় কর্মকর্তা।
ধীরে ধীরে নওশাদ ও শবনম পরস্পরের কাছাকাছি আসতে থাকে। দুজনের বোঝাপাড়াটা চমৎকার। এ সম্পর্কে কোনো জবর-দস্তি নেই। জোর- পূর্বক চাওয়া- পাওয়া নেই। সম্পর্কের দাবি নিয়ে কেউ কাউকে কিছুতে বাধ্য করছেনা। উভয়ে পুলকিত, আনন্দিত! সম্পর্কের গোপনীয়তা যেনো সম্পর্কের উপভোগের আবেশ আরো বাড়িয়ে তুলছে। কিন্তু এতদসত্বেও তারা যে সমাজ-সংসারের গন্ডীতে আবদ্ধ।
স্বতঃস্ফূর্তভাবে নওশাদ নিজের দেশে শবনমকে পেতে চাইলেও পারছেনা। অগত্যা দুজনেই মাঝে মাঝে বিদেশে পাড়ি জমাতো যেখানে কেউ কারো দিকে বাঁকা চোখে তাকায় না। উদ্দাম ভালোবাসার মাখামাখি। অতঃপর দেশে ফেরা। আবার বিরহ।
নাহ্! নওশাদের আর এভাবে ভালো লাগছেনা। শবনমকে তার সারাজীবনের জন্য চাই।
কেয়ার সাথে একটা ফয়সালায় আসতে হবে। নওশাদের ভয় কেয়াকে নয় তার নিজের বাবা- মা ও পরিবারকে যারা সনাতনী চিন্তার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। যাদের কাছে ব্যক্তিগত সুখ- দুঃখের চেয়ে সামাজিক সম্মানের জায়গাটা অনেক বড়। নওশাদ কি করে জানাবে কেয়াকে, তার বাবা- মাকে, তার চারপাশের সমাজকে শবনমের কথা।
এই শবনম যে তার জীবনের ধূসর পটের নক্ষত্র দীপ্তি; এই শবনম যে তার শুকতারা যে কিনা দিনের শেষে কর্মক্লান্তির অবসান ঘটিয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। এই শবনম যে তার ভোরের তারা যে কিনা একটি আনন্দে ভরপুর দিনের সূচনা করে যায়।
জীবনতো একটাই! নওশাদ ও শবনম দুজনেই দুজনকে ভালোবাসে। দুজনেই তাদের ছায়া- সঙ্গী খুঁজে পেয়েছে। অথচ তারা সংসার শুরু করতে পারছেনা।
নওশাদের বাবা-মা কেয়ার প্রতি সন্তুষ্ট। তাদের বউমা তাদের অনেক পছন্দের। নাতি-নাতনীতো যেনো আনন্দের আর ভালোবাসার ফোয়ারা। নওশাদ-এর এহেন চিন্তাকে তারা কোনোদিনও মেনে নেবেনা।
কিন্তু ভালোবাসা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। নওশাদ অনেক প্রস্তুতি নিয়ে তার বোনদের শবনমের বিষয়টা বলে। বোনদের তো চক্ষু চড়কগাছ! দুই বোনই ব্যাপারটি নিয়ে বেশ হাউ- কাউ শুরু করে দিলো। তারপরেও নওশাদের পীড়া- পীড়িতে বাবা- মাকে জানালো। নওশাদের বাবা সাফ জানিয়ে দিলেন— এমন দুঃশ্চরিত্র ছেলের মুখ তিনি আর দর্শন করতে চান না। মা নওশাদের হাত চেপে ধরে খুব ভয়ঙ্কর শপথের কথা জানিয়ে দিলেন। নওশাদ যদি কেয়াকে ডিভোর্স করে শবনমকে বিয়ে করে তবে তার নওশাদ মায়ের মরা মুখ দেখবে।
সেই সাথে নওশাদকে সতর্ক করে দেয় যেনো তার এহেন ন্যক্কারজনক মনোভাব তাদের প্রিয় বউমা ও স্নেহের নাতি-নাতনীরা ঘুনাক্ষরেও টের না পায়! পরবর্তীতে নওশাদ ও নওশাদের পরিবার আর কোনোদিন এ ব্যাপারে মুখ খুলেনি। ফলে চিরকালের সরল, নিরুত্তাপ ও নির্লিপ্ত কেয়ার পক্ষে স্বামীর গোপন অভিসার সম্পর্কে জানা হয়ে উঠেনি। তাই কেয়ার সংসারের শূণ্যতা কোনোদিনই কেয়ার অনুভবে আসেনি।
নওশাদ যদিও জানতো ঘটনার ক্রম এমনটাই হবে তারপরেও সেই রাতে চোখের পানিকে সে আটকে রাখতে পারেনি। শবনমের জন্য তার ভেতরের কান্না কেবলি উথলে উঠছে।
” হে আকাশ, হে বাতাস, হে চাঁদ, হে সূর্য
—– তোমরা স্বাক্ষী! আমি আমার শবনমকে ভালোবাসি! তাকে ছাড়া কি করে আমার এ জীবন কাটাবো! এ কেমন সমাজ?? এ কেমন রীতি?? যাকে ভালো লাগেনা তাকে নিয়ে জীবন কাটিয়ে সমাজে নিজের সাধুতার প্রমাণ দিয়ে যেতে হবে?? মানুষের ভালোলাগা কিংবা ভালোবাসার চেয়ে সমাজের চাওয়াটাই বড়??” ভাবতে ভাবতে নওশাদ নিশ্চুপ হয়ে যায়!! একরাশ বিষন্নতা পেয়ে বসে। এক পর্যায়ে মনে হলো তার চাকুরী, সম্মান, পারিবারিক স্ট্যাটাস, মূল্যবোধ সবকিছুই ঠুনকো! অসার!!
নওশাদের মুখে এসব শোনার পর শবনমও মুষড়ে পড়ে। তবুও নওশাদকে শান্তনা দেয়। বলে সমাজের চোখে ধূলি দিয়ে তারা আমৃত্যু দুজন দুজনেরই থাকবে। এ ভালোবাসায় আছে প্রশান্তি, আছে গভীর মমত্ব, আছে শ্রদ্ধা, আছে আকুতি!!

সুবেশা এবং সুস্নাতা শবনম যেমন নওশাদের কাঙ্খিত তেমনি নওশাদের ব্যক্তিত্বের আর সৌন্দর্যের আভাও শবনমকে ব্যাকুল করে তোলে।
এভাবেই প্রেমের ভেলায় ভেসে চললো দুজন। বিদেশের মাটিতে অতি সংগোপনে চলতো তাদের অভিসার।
দশ বছর পরের কথা….!!!
পদোন্নতি পেয়ে নওশাদ ও শবনম যার যার চাকুরীতে আরো উঁচু পদে আসীন। তাদের জীবনও হয়ে উঠলো আরো প্রেমঘন।
সেদিন সন্ধ্যায় শবনম টিভি দেখছিলো।
সাধারণত অফিস আওয়ারে নওশাদের সাথে শবনম কথা সেরে নেয়। হঠাৎ টিভি স্ক্রীণে একি দেখলো?? এই নওশাদ কি তার নওশাদ??
না….! না…..! না…! এ হতেই পারেনা!
নওশাদ এভাবে মারা যেতে পারেনা! সড়ক দুর্ঘটনায় নওশাদের মৃত্যু!!
পরদিন বিছানায় শুয়ে শবনম। তার হৃদয়ে শোকের মাতম চলছে যা কিনা সে কাউকে বলতে পারছেনা! অথচ তার জীবনের সব হারিয়ে গেছে। এই বেঁচে থেকে কি হবে! সত্যিই তার নওশাদ তাকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে।

 

পরাণের গহীনের খবর এ সমাজ রাখেনা। বাহ্যিক আচার কিংবা অভিনয়ের মূল্যই এ সমাজে বেশি। অন্তরের টান, বোধের খেলার কোনো মূল্য নেই।।
এটার নামই কি সংসার….??? যদি তাই হয় শবনমের ইচ্ছে করছে সংসারের দ্বারে একদলা থুথু ফেলতে!!

 

লেখক :
সহকারী অধ্যাপক, উদ্ভিদবিজ্ঞান।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ,
কুমিল্লা।



Notice: WP_Query was called with an argument that is deprecated since version 3.1.0! caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/dailyama/public_html/beta/wp-includes/functions.php on line 4023