মঙ্গল্বার ২১ নভেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট, সামর্থ্যরে সেরাটা চাই


বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট, সামর্থ্যরে সেরাটা চাই


আমাদের কুমিল্লা .কম :
27.08.2017

বদরুল হুদা জেনু
সাবেক ম্যানাজার,বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল

অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে আজ। নিরাপত্তার অজুহাতে ২০১৫ এর টেস্ট শুরু হবে ২০১৭’র আগস্টে। যারা আমাদের প্রতিপক্ষ তাদের ক্রিকেটীয় আভিজাত্য নজর-কাড়া। কাঠামোগত ও মানগত ক্রিকেটের চর্চা দীর্ঘদিনের এবং মর্যাদার আসনে তাদের অবস্থান প্রায় ধারাবাহিক। ক্রিকেটের প্রতিটি শাখায় অস্ট্রেলিয়া দারুণ শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। নানা কারণ আর অবস্থার মোকাবেলা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সফর আয়োজন করতে পেরেছে এটাই এখন প্রাথমিকভাবে আমাদের স্বস্তি দেয়।
বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়া দু’টো টেস্ট খেলবে। একটি হবে আমাদের ‘ক্রিকেট অব হোম’ মিরপুর স্টেডিয়ামে। আরেকটি হবে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী মাঠে। সফরকালীন সূচির প্রস্তুতি ম্যাচটি হতে পারেনি। কারণ নিকট সময়ের সবচাইতে বেশি বর্ষণের কারণে প্রস্তাবিত ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী মাঠটি খেলার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। এই সফরটি শুধুমাত্র যে নিরাপত্তা ও ভারী বৃষ্টিপাত আমাদের দৃষ্টি কেড়েছে তা নয়। এর সাথে আরো দু’টো বিষয় বেশ আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
তার একটি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ক্রিকেট প্রশাসনের সাথে খেলোয়াড়দের আর্থিক সম্মানীর চুক্তি। অন্যটি বাংলাদেশ দল গঠন প্রক্রিয়া ও হঠাৎ পরিবর্তন। পত্র পত্রিকায় যা জেনেছি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলোয়াড়দের আর্থিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় যা যৌক্তিকভাবে ক্ষমতাবান করেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট প্রশাসন। আর আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দল নির্বাচকরা ১৪ জনের দল গঠনের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বাধ্য হলেন। প্রথম ঘোষিত দলে মুমিনুল ছিল না ছিল মোসাদ্দেক। মুমিনুলের নেয়াটা খারাপ না লাগলেও মোসাদ্দেককে বাদ দেওয়ার কারণটা বেশ দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে। কোন যোগ্যতায় মোসাদ্দেককে দলে রাখা হলো আবার কি এমন অযোগ্যতা নির্বাচক এবং প্রধান প্রশিক্ষক আবিষ্কার করলেন তা সঠিকভাবে জানা গেল না। এটা দলের সংহতি ও সমন্বয়ে খেলার মাঠে একটা প্রভাব খেলতে পারে বলে আমার ধারণা। দল গঠনে কারা সিদ্ধান্ত নেবে এটা ফয়সালা করা দরকার। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা নেই নির্বাচক ম-লীর।

দলগত শক্তি বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সাফল্য আমরা সবাই জানি। শতভাগ পেশাদার ক্রিকেট ভাবনায় খেলোয়াড় পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রিকেট দলের চর্চা করা হয়। তাই যে কোন পরিবেশ পরিস্থিতি ও উইকেট অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবার কথা নয়। দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় হয়তো এই উপমহাদেশের মন্থর উইকেটে খেলার সুযোগ পাননি। তারপরও আমি বলবো মানিয়ে নেবার কৌশল তাদের নিবিড়ভাবে শেখানে হয়েছে।
বাংলাদেশ দল তাদের বর্তমান সময়ে খেলার মানের উন্নতি ঘটাবার চেষ্টায় আছে দলটির অধিকাংশ খেলোয়াড় একসাথে খেলছে অনেকদিন যাবৎ। পরিকল্পনা করা আর মাঠের খেলার অবস্থা ভিন্ন। কথায় বলে যা সহজে প্রমাণ করা যায় ব্যাট বা বল হাতে তা ফুটিয়ে তোলা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। আমাদের সেরা একাদশ প্রথম টেস্টের জন্য কেমন হবে তা যখন পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি। চৌদ্দজনের স্কোয়াড থেকে তিনজনের বাদ পড়তে হবে। লিটন দাস, সফিউল এবং ড়–মিনুল বা ইমরুল সেরা একাদশে জায়গা নাও পেতে পারেন।
প্রথম টেস্টটি একটি নতুন প্রত্যাশা পূরণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অসিদের বিরুদ্ধে আমাদের কোন টেস্ট জয় নেই। এই দুই টেস্ট সিরিজ টাইগারদের হারানোর কিছুই নেই। যা হবে সবটাই প্রাপ্তি। খেলায় বাংলাদেশের চাইতে চাপে বেশি থাকবে অস্ট্রেলিয়া। সংবাদ পরিকল্পনা ও মাঠে সেশন টু সেশন হিসেব করে খেলতে পারলে জয় পাওয়া কঠিন হবে না। সেই আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতার শক্তি আমাদের প্রতিপক্ষ বেশ চতুর দল। অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেশ পরিপক্ব দল অস্ট্রেলিয়া। তাই টাইগারদের সামান্য দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে অসিরা মুখিয়ে থাকবে। বাংলাদেশ দল যদি খেলাটা সমন্বিতভাবে ক্রিকেটিং ভাবনায় উপভোগ করতে পারে, তাহলে খেলার ফলাফল অনুকূলে আনা কঠিন হবে না। অস্ট্রেলিয়ার সাথে এমন একটা লড়াই করুক বাংলাদেশ, যা বিশ্ব ক্রিকেটে এমন একটি আলোচনার পথ খুলে দেয় যে টাইগাররা আরো সামনে যাবে।