শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭


কত রান নিরাপদ?


আমাদের কুমিল্লা .কম :
29.08.2017

আঙিনায় অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক।।

৮৮ রানের লিড নিয়ে শেষ হয়েছে দ্বিতীয় দিন। মিরপুর টেস্টে আর কত রান করলে জিতবে বাংলাদেশ? কেউ বলছেন ২৮০ রানই নিরাপদ। কেউ বলছেন নিরাপদ থাকতে স্কোরটা নিয়ে যেতে হবে তিন শর ওপরে। বাংলাদেশ কি পারবে সেটা করতে?

মেহেদী হাসান মিরাজ আছেন আশাবাদীদের দলে। লিডটা তিন শর বেশি হলেই নিজেদের নিরাপদ ভাববেন তিনি। তবে অস্ট্রেলিয়ার সামনে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত যে লক্ষ্যই দিক, সেটি নিয়েই জয়ের পতাকা ওড়ানোর আত্মবিশ্বাস মিরাজের কণ্ঠে। ৬২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন বাংলাদেশ দলের এই অফ স্পিনার। আশার কথা শুনিয়েছেন সেখানেই, ‘এই উইকেটে আমরা যত রানই করি, সেটাই লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট মনে হবে। প্রথম ইনিংসে দেখেছেন ২৬০ রান করেও তাদের ওই রানের মধ্যে আটকে দিয়েছি। আমাদের এখনো অনেক ব্যাটসম্যান আছে। যে রানই হোক, ওটা নিয়েই আমরা লড়ব।’

মেহেদীর সঙ্গে একমত জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান, ‘আমার মনে হয় কাল (আজ) মিরপুরের উইকেটে রান করাটা আরও কঠিন হবে। তারপরও সময় যেহেতু এখনো অনেক আছে, আমি মনে করি তিন শর বেশি লিড নিলে আমরা জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারব।’ প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা খুব একটা সমস্যায় ফেলতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। শুরুর দিকে যে ব্যাটিং বিপর্যয়টা হয়েছে, সেটা ব্যাটসম্যানদের দোষেই। রকিবুলের আশা, দ্বিতীয় ইনিংসে সে সমস্যা কাটিয়ে উঠবে বাংলাদেশ, ‘প্রথম ইনিংসে এক নাথান লায়ন ছাড়া ওদের আর কোনো বোলারকে আমার কাছে সমস্যা মনে হয়নি। কাজেই ব্যাটসম্যানরা একটু ধৈর্য ধরে খেললে এই উইকেটেও তিন শর বেশি লিড নেওয়া সম্ভব।’

আরেক সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক হাবিবুল বাশার অবশ্য বাংলাদেশ ২৭০-২৮০ রান করলেই জয়ের স্বপ্ন দেখবেন, ‘তিন শ করতে পারলে ভালো। তবে উইকেটের যে অবস্থা দেখছি তাতে আমার মনে হয় ২৭০-২৮০ রানের লিডই জয়ের জন্য যথেষ্ট হবে। ৮৮ রানের লিড এর মধ্যে হয়ে গেছে। ব্যাটসম্যানরা আর দুই শ রান করলেই জয়ের আশা করা যায়।’ অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করবে মনে করিয়ে দিয়ে আশার বেলুনে আরেকটু হাওয়া দিলেন হাবিবুল, ‘আমাদের স্পিনারদের যে ওদের ব্যাটসম্যানদের খেলতে অসুবিধা হচ্ছে সেটা প্রথম ইনিংসেই দেখেছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উইকেটে ব্যাট করা আরও কঠিন হবে। আর আমাদের ব্যাটসম্যানরাও আছে ভালো ফর্মে। মোটামুটি ভালো একটা লক্ষ্য দিতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য কাজটা কঠিন হবে।’

প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশকেই চালকের আসনে দেখেছিলেন সাকিব। দ্বিতীয় দিন শেষে মিরাজেরও একই মূল্যায়ন, ‘আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত আমাদের পক্ষেই আছে ম্যাচ। কালকের (আজ) দিনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটসম্যানরা সবাই দায়িত্ব নিয়ে খেলে একটা বড় লক্ষ্য দিতে পারলে ওদের কাজটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাবে।’

কাল সকালে বাংলাদেশের বোলারদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে ফেরানো। মিরাজের অফ স্পিনে সকাল সকালই হয়ে গেছে কাজটা। আগের দিন ডেভিড ওয়ার্নারের উইকেটটিও নেওয়া মিরাজ বলছিলেন স্মিথকে ফেরানোর পরিকল্পনার কথা, ‘মুশফিক ভাই আমাকে বলেছিলেন, স্মিথকে যদি রাউন্ড দ্য উইকেটে ভালো জায়গায় বল করতে পারি, তাহলে সে আটকে যাবে। পায়ের ব্যবহার করতে পারবে না। সামনে গিয়ে খেলবে। তখন বল টার্ন করে স্টাম্পড হওয়ার বা ক্যাচ আউট হওয়ার সুযোগ আসবে। আমি মুশফিক ভাইয়ের কথামতোই করার চেষ্টা করেছি।’