শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭


দুই মামলায় ২০ বছরের সাজা রাম রহিমের


আমাদের কুমিল্লা .কম :
29.08.2017

দু’জন নারী ভক্তকে ধর্ষণের দায়ে পৃথক দুই মামলায় ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের কারাদ- দিয়েছেন দেশটির আদালত। সোমবার হরিয়ানার রোহতক কারাগারে গিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) বিশেষ আদালতের বিচারক জগদ্বীপ সিং ওই রায় ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রাম রহিম সিংয়ের কারাদ- হয়েছে ১০ বছরের। তবে ২০০২ সালের ওই জোড়া ধর্ষণের দায়ে ধর্ষক ধর্মগুরুর আলাদাভাবে ১০ বছর করে কারাদ- দেন আদালতের বিচারক। এতে করে রাম রহিমকে ১০ বছর নয়, সাজা ভোগ করতে হবে মোট ২০ বছর।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এসকে জর্জ নরওয়ানা জানান, দুটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ধর্মগুরুকে আলাদাভাবে ১০ বছর করে মোট ২০ বছর কারাদ- ভোগ করতে হবে।
এছাড়া বিচারক জগদ্বীপ সিং রাম রহিমকে প্রত্যেক মামলায় আলাদাভাবে ১৫ লাখ রুপি করে জরিমানা করেন। এতে করে রাম রহিমের অর্থদ-ের পরিমাণ হয়েছে ৩০ লাখ রুপি। এই ৩০ লাখ রুপির মধ্যে আলাদাভাবে ১৪ লাখ করে মোট ২৮ লাখ রুপি প্রদান করা হবে ধর্ষিত দুই নারীকে।
রামদেব বার্তা সংস্থা এএনআই’কে বলেন, এটা একটা উদাহরণ হয়ে থাকল যে মানুষ যতোই ক্ষমতাধর হোক, কোনোভাবেই আদালত এবং আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।
তিনি আরও বলেন, ধর্মের নামে অবৈধ কার্যকলাপ করা একেবারেই অনুচিত। বিচার দেরিতে হতে পারে, তা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। এখন আমাদের বিচার ব্যবস্থা অনেক শক্তিশালী হয়েছে। সে কারণে অপরাধ করে কারও পার পাওয়ার কোনো উপায় নেই।
আদালত সেটাই করে দেখিয়েছে। এই ঘটনা থেকে ক্ষমতাবান লোকদের শিক্ষা নেয়া উচিত। যদি আপনি অপরাধী হয়ে থাকেন; শাস্তি আপনাকে পেতেই হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত শুক্রবার ১৫ বছর আগের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন ৫০ বছর বয়সী রাম রহিম সিং। গুরমিত রাম রহিমের সর্বোচ্চ সাজার আবেদন করেছিল সিবিআই। অন্যদিকে, রাম রহিমের আইনজীবী লঘু শাস্তির আবেদন করেন।
আইনজীবীর যুক্তি, যেহেতু বহু সামাজিক কাজে জড়িয়ে আছে রাম রহিমের নাম; সেকারণে লঘু শাস্তি দেয়া উচিত।

বিচারকের সামনে ক্ষমাও চান রাম রহিম। রাম রহিম হাত জোড় করে বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ কথাগুলো বলার সময় তিনি কেঁদেও ফেলেন।
শুক্রবার রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার শিষ্যরা তা-ব শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ৩৮ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়। ৩২ জন পঞ্চকুলায় এবং সিরসায় ৬ জন নিহত হয়।
ঝামেলা এড়াতে রোহতকের কারাগারে বিচারক জগদীপ সিংকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই গ্রন্থাগারের মধ্যে আদালত বসে এবং সাজা ঘোষণা করেন বিচারক।
সূত্র : দ্য হিন্দু, এনডিটিভি

 

 

 

 

 

 

 

নির্মাণাধীন ফিলিং স্টেশনের ছাদ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন ফিলিং স্টেশনের ছাদ ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।
তারা হলেন- উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের দুলাল মিয়া (৫০) ও নাজমুল (১৮) এবং সদর উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের আবু সাঈদ (৪০) এবং জেলার সরাইল উপজেলার তেরকান্দা গ্রামের মিজান (৩২)।
এ ঘটনায় আহত শিপন মিয়া (২৮), রিপন মিয়া (৩০) ও হানিফ মিয়া (৩৫) নামে আরও তিন শ্রমিককে স্থানীয় ডে-নাইট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট।
ঘটনাস্থল থেকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন জাগো নিউজকে জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নিহতদের প্রত্যেকের দাফনের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার বেলা ২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন বাহাদুপুর এলাকায় জেলা সার সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিনের নির্মাণাধীন সায়েরা ফিলিং স্টেশনের ভবন নির্মাণের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা।

এ সময় হঠাৎ করে ছাদের বিভিন্ন অংশ ধসে শ্রমিকদের ওপর পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে ডে-নাইট হাসপাতালে পাঠায়।

 

 

 

 

 

 

 

নির্মাণাধীন ফিলিং স্টেশনের ছাদ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন ফিলিং স্টেশনের ছাদ ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।
তারা হলেন- উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের দুলাল মিয়া (৫০) ও নাজমুল (১৮) এবং সদর উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের আবু সাঈদ (৪০) এবং জেলার সরাইল উপজেলার তেরকান্দা গ্রামের মিজান (৩২)।
এ ঘটনায় আহত শিপন মিয়া (২৮), রিপন মিয়া (৩০) ও হানিফ মিয়া (৩৫) নামে আরও তিন শ্রমিককে স্থানীয় ডে-নাইট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট।
ঘটনাস্থল থেকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন জাগো নিউজকে জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নিহতদের প্রত্যেকের দাফনের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার বেলা ২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন বাহাদুপুর এলাকায় জেলা সার সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিনের নির্মাণাধীন সায়েরা ফিলিং স্টেশনের ভবন নির্মাণের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা।
এ সময় হঠাৎ করে ছাদের বিভিন্ন অংশ ধসে শ্রমিকদের ওপর পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে ডে-নাইট হাসপাতালে পাঠায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

 

 

 

 

ঈদের ছুটি ৩ দিনই থাকছে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদের ছুটি তিনদিন বেড়ে ছয়দিন হওয়ার বিষয়টি আলোচিত হলেও শেষ পর্যন্ত আর সেটি চূড়ান্ত হয়নি। সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঈদের আর চারদিন বাকি তাই এ সময়ের মধ্যে ছুটি বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনাও দেখছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক হয়। বৈঠকের বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
ঈদের ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছি কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘না, এটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ঈদের ছুটি ৬ দিন করার সুপারিশ করে। তারা দুই ঈদের ছুটি ৩ দিন করে ৬ দিন বাড়িয়ে নৈমিত্তিক ছুটি ২০ দিনের পরিবর্তে ১৪ দিন করতে বলেছিল। কিন্তু নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তের বিষয় হওয়ায় এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কিন্তু তার আগে বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে কিনা সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেয়া দরকার। তাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু সেটি সোমবার পর্যন্ত ফেরত আসেনি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল হাকিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রিসভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ফাইলটিও আমাদের কাছে ফেরত আসেনি। এখন ঈদের আগে বাকি সময়ের মধ্যে ছুটি বাড়ানোর তো কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘দেশে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল হচ্ছে। সেখানে সরকারি ছুটি তিনদিন থেকে বাড়িয়ে ছয়দিন করার সম্ভাবনা বলতে গেলে একেবারেই নেই।’
বাংলাদেশে আগামী ২ সেপ্টেম্বর মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। না বাড়লে এবার ঈদের ছুটি ১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে শেষ হবে ৩ সেপ্টেম্বর।

 

 

সাকিবের স্পিনে স্বস্তিতে বাংলাদেশ
নিজের ৫০তম টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখতে পুরোপুরি সফল সাকিব আল হাসান। ব্যাটে ও বলে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি। ব্যাট হাতে ইনিংস সেরা ৮৪ রান করার পর বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশও থাকলো এগিয়ে। অস্ট্রেলিয়াকে ২১৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে তারা প্রথম ইনিংসে লিড পায় ৪৩ রানের। এর পর দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে স্বাগতিকরা ১ উইকেটে ৪৫ রান করেছে। প্রথম ইনিংসে ২৬০ করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ৮৮ রানের লিড নিয়ে।
প্রথম ইনিংসের মতো ব্যাটিং দুর্দশার মুখোমুখি বাংলাদেশকে হতে হয়নি দ্বিতীয়টিতে। বরং সম্ভাবনাময়ী জুটি গড়ার পথে ছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। কিন্তু বাড়াবাড়ি শটে দ্বিতীয় ইনিংসেও ভালো কিছু করতে পারলেন না সৌম্য। অ্যাস্টন অ্যাগারের বলে অনেক উঁচু শট নিলেন তিনি, লং অনে দাঁড়ানো উসমান খাজার হাত ফসকে দুইবার বল বেরিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ধরা দেয়। ১৫ রানে বিদায় নেন সৌম্য। ৫৩ বলে সাজানো ছিল তার ৩ বাউন্ডারির ইনিংস।
দিন শেষ হওয়ার আগে তামিম ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ‘নাইট ওয়াচম্যান’ হিসেবে মাঠে নেমে তাইজুল ইসলাম ৯ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি।
এর আগে দ্বিতীয় সেশনে সাকিব-মিরাজের স্পিনে ১৪৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রতিরোধ গড়ে তারা অ্যাগার ও প্যাট কামিন্সের জুটিতে।
তাদের ৪৯ রানের জুটিতে ৮ উইকেটে ১৯৩ রানে চা বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় সেশনে এসেই সাকিব এ জুটি ভাঙেন। কামিন্সকে (২৫) বোল্ড করে নিজের চতুর্থ উইকেট নেন এ স্পিনার। শেষ ব্যাটসম্যান জশ হ্যাজলউডকে ৫ রানে ইমরুল কায়েসের ক্যাচ বানান তিনি। ৭৪.৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়। তার ইনিংস ছিল ৯০ বলের। অ্যাগার ৪১ রানে খেলছিলেন।
সোমবার সকালে দুর্দান্ত শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দিনের তৃতীয় ওভারেই মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিনে বোল্ড হয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ (৮)। অধিনায়ক চলে যাওয়ার পর ৬৯ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন পিটার হ্যান্ডসকম্ব ও ম্যাট রেনশ। তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে এলবিডাব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন হ্যান্ডসকম্ব (৩৩)। ১০২ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর আবার বাংলাদেশের অনুকূলে চলে যায় ম্যাচ। ওপেনার রেনশ কয়েকবার জীবন পেলেও সৌম্য সরকারের হাতে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন ৪৫ রানে। সাকিব ফেরান তাকে।
ম্যাথু ওয়েড এলবিডাব্লিউ হন ৫ রানে, মিরাজ নেন তার উইকেট। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল বেশিদূর যেতে পারেননি। সাকিবের স্টাম্পিংয়ের শিকার তিনি ২৩ রানে। প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের বিদায় করে দিয়ে যখন বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনেই ব্যাট করার আভাস পাচ্ছিল, তখন অ্যাগার-কামিন্স বিস্ময়কর প্রতিরোধ গড়েন। অবশেষে এ জুটি ভেঙে স্বস্তি ফেরায় বাংলাদেশ। অ্যাগার একপ্রান্ত আগলে রাখলেও পারেননি হ্যাজলউড। তাকে ফিরিয়ে সাকিব পান নিজের পঞ্চম উইকেট।
সাকিব ২৫.৫ ওভারে ৭ মেডেনসহ ৬৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। বাঁহাতি অলরাউন্ডার তার টেস্ট ক্যারিয়ারে এনিয়ে এক ইনিংসে ১৬ বার ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন। ৩ উইকেট পান মিরাজ। একটি পান তাইজুল।

 

 

 

 

 

 

 

খাল-নদীর পানির প্রবাহে বাধার সৃষ্টিকারী সব স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
নদী ও খাল-বিল ও সাগরের জোয়ারভাটার পানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পানির প্রবাহে বাধার সৃষ্টিকারী সব ধরনের স্থাপনা অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের সব জেলা প্রশাসককে জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা পাঠাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলমকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে জোয়ার ভাটার পানিও যেন বাধাহীনভাবে ওঠানামা করতে পারে সে বিষয়টি বাস্তবায়নেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৮ আগস্ট) তেঁজগাওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এবারের বন্যা ও বন্যা পরবর্তী পরিস্থতি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের কাছে বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
পরিস্থিতি অবগত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, অনেক স্থানে খাল বিল দখল করে মাছের ঘের করা হয়েছে। অনেক জায়গায় ব্রিজের নিচে ইট বালু সিমেন্ট দিয়ে দেয়াল তৈরি করে পানি আটকে রেখে মাছ চাষ করা হচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় খাল-নদী দখল করে নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জোয়ার ভাটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক স্থানে তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা। এ সব কারণে এবারের বন্যায় জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে।
জানা গেছে, এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ সব যারা করেছেন তারা যতোই ক্ষমতাশালী হোক তা আমলে না নিয়ে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন সব অবকাঠামো, দেয়াল বা জঞ্জাল ভেঙে ফেলতে হবে। এ বিষয়ে সব জেলা প্রশাসককে কার্যকর উদ্যোগ নিতে তিনি লিখিতভাবে নির্দেশ দিতে বলেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে। অবিলম্বে জেলা প্রশাসকদের এই নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি পাঠানোরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে আহ্বান খালেদা জিয়ার
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমি দায়িত্বরত বাংলাদেশের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আহ্বান জানাই।’ সোমবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভীর পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে অমনোযোগী বাংলাদেশ সরকারের দুর্বল কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই পরিস্থিতি শোচনীয় রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকেই।’
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সুসম্পর্ক যেন বিনষ্ট না হয়, সে বিষয়ে মিয়ানমার সরকারকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হয়ে জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকটের অবসান ঘটাতে হবে। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে যেকোনও সংকট আরও ঘনীভূত হয়। যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গারা অত্যাচারিত ও ভূমিচ্যুত হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে বাংলাদেশে।’
রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সে দেশের রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে অসংখ্য মানুষ বসতবাটি হারিয়ে মৃত্যুভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সীমান্তগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে গ্রামের পর গ্রামে আগুন জ্বলছে। আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের ওপরও মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী অবিরাম গুলিবর্ষণ করে যে নারকীয় পরিবেশ তৈরি করেছে, তা বর্ণনাতীত।’ তিনি আরও বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ যে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে, তাদের অনেকেই হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। অনেকেরেই মৃত্যু হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নাফ নদীর বিস্তৃত এলাকাজুড়ে তীরে বসে ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তায় প্রহর গুনছে নারী ও শিশুরা। এই দৃশ্য অমানবিক, বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক।’

 

 

 

রাখাইনে সেনাবাহিনীর গুলি থেকে নবজাতকও রেহাই পায়নি
রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নিরস্ত্র রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষদের গুলি করে সেনারা হত্যা করছে বলে অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করেছেন। সেনারা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার আরাকান রোহিঙ্গা সালভ্যাশন আর্মি (আরসা) পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালানোর পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। মংডু, বুথিডাউং ও রাথেডাউং এলাকায় সেনাবাহিনীর এই অভিযান শুরু হয়েছে। এই তিন অঞ্চলে প্রায় ৮ লাখ মানুষের বাস। জারি করা হয়েছে সকাল-সন্ধ্যা কারফিউ।
সরকার ১০০ জন নিহতের কথা জানালেও মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ৮০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আল জাজিরার পক্ষ থেকে স্বতন্ত্রভাবে এই তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মংডুর বাসিন্দা আজিজ খান জানান, শুক্রবার সকালে সেনাবাহিনী গ্রামে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে। সরকারি বাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) আমাদের গ্রামেই অন্তত ১১ জনকে হত্যা করেছে। গ্রামে আসার পর তারা নড়াচড়া করছে এমন কিছু দেখলেই গুলি করতে থাকে।
আজিজ খান বলেন, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। এক নবজাতকও রক্ষা পায়নি।
ইউরোপভিত্তিক রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগার রো নায় স্যান লুইন জানান, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া নতুন অভিযানে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। মসজিদ ও মাদ্রাসা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েক হাজার মুসলিম খাদ্য ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।
লুইন বলেন, সরকার ও সেনাবাহিনীর কারণে আমার চাচাও দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাদেরকে সরকার কোনও সহযোগিতা করেনি। উল্টো সরকারি বাহিনীই তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করে লুটপাঠ চালিয়েছে। খাবার, আশ্রয় ও নিরাপত্তা নেই। কখন মৃত্যু হবে তাও জানে না তারা।
বুথিডাউং শহর থেকে মুইন্ট লুইন নামের বাসিন্দা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, সববাড়িতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ হোয়াটস্যাপে হত্যাযজ্ঞের ভিডিও আদানপ্রদান করছেন। নারী ও শিশুকে হত্যার ভিডিও আসছে। নিষ্পাপ মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা কেমন আতঙ্কে আছি তা আপনারা কল্পনাই করতে পারবেন না।
লুইন আরও বলেন, কেউই তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে যায় না। কিন্তু হাসপাতাল, বাজার বা যে কোনও স্থানে যেতে মুসলিমরা এখন ভয় পাচ্ছে। বিপজ্জনক এক পরিস্থিতি।
গত বছর অক্টোবরে ৯ পুলিশ হত্যার পর রাখাইন রাজ্যে আং সান সুচির সরকার কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। ওই অভিযানের সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।
ফর্টি রাইটস নাম মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ স্মিথ জানান, কর্তৃপক্ষ সব রোহিঙ্গাকেই যোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকার নিহতের যে সংখ্যা বলছে তা ধামাচাপা দেওয়ার শামিল হবে। অনেক মানুষ পালাচ্ছে এবং সরকার তাদের কোনও সহযোগিতা করছে না।
রাখাইন রাজ্যে প্রায় ১১ লাখ মুসলিম রোহিঙ্গার বসবাস। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্যের শিকার হন। কয়েক প্রজন্ম ধরে বাস করলেও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে দাবি করে মিয়ানমার এবং তাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। সূত্র: আল জাজিরা।