শনিবার ২১ অক্টোবর ২০১৭


‘আয়কর আদায়ে বেশি নজর দিতে হবে’


আমাদের কুমিল্লা .কম :
07.10.2017

বাংলাদেশের বর্তমান কর ব্যবস্থা অনেকাংশে পরোক্ষ কর বা ভ্যাটের উপর নির্ভরশীল। এই ভ্যাট গরিবকে আরো পশ্চাদপদ অবস্থানে নিয়ে যায়। কারণ এই ভ্যাট দরিদ্রদের উপার্জনের একটা বড় অংশ কেটে নিয়ে যায়। দরিদ্র আরো দরিদ্র হয়। এই পশ্চাদমুখী ভ্যাট দরিদ্রদের জীবন-জীবিকার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ তাদের অধিকাংশ উপার্জন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যয় করতে হয়, যা ধনীদের করতে হয় না। অপরদিকে দেশের ১% -এর ও কম মানুষ যথাযথভাবে আয়কর প্রদান করছে। কর সংগ্রহের এই নি¤œহার কর প্রশাসনের দূর্বলতাকে তুলে ধরে, পাশাপাশি ‘কর নীতির’ দুর্বলতাসমূহকেও নির্দেশ করে। কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে দুর্বলতাগুলো হলো কর প্রদান করার ক্ষেত্রে অনিহা, বিদ্যমান বহুমাত্রিক কর ধার্য হার, প্রশাসনিক দুর্বলতার সাথে যুক্ত বিষয়গুলো হলো পশ্চাদমুখী ভ্যাট ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক চর্চা যেমন মূল্যের ঘোষণা, ইনপুট-আউটপুটের গুণাঙ্ক, ট্যারিফ মূল্য, সাম্প্রতিক হিসাব ইত্যাদি। এগুলো দূরীভূত হওয়া জরুরী। সরকারকে ভ্যাটের পরিবর্তে আয়কর আদায়ে বেশি নজর দিতে হবে। গত ৭ অক্টোবর দাতা সংস্থা অক্সফামের সহযোগিতায় সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) কুমিল্লা জেলা কমিটি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দপর্ণের যৌথ উদ্যোগে দর্পণের অপরাজিতা সম্মেলন কক্ষে সাম্প্রতিক কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা নিয়ে জেলা পর্যায়ে আয়োজিত অধিপরার্শ সভায় বক্তাগন এ কথাগুলি বলেন। কুমিল্লা আইনজীবি সমিতির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ নূরুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদেও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি দুপ্রক এর সাধারন সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান ও দৈনিক ডাক প্রতিদিনের সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুপ্র-র কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও দর্পণের নির্বাহী পরিচালক মো: মাহবুব মোর্শেদ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবি ও সংগঠক ফখরুল হুদা হেলাল, ইমরোজ ল্যাবরেটরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আ: হাকিম সরদার, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি কুমিল্লা শাখার সভাপতি নাগমা মোর্শেদ, মিয়াবাজার তোষণ-রফিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোজাহারুল হায়দার বেকন, মহিলা সামাজিক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শারমিন মান্নান, সাংবাদিক ওমর ফারুকী তাপস, সাংবাদিক বাহার রায়হান, সাংবাদিক এন, কে রিপন, সাংবাদিক এন, কে শিপন, মহিলা কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নাসিমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক শাহানা বেগম, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নেহার বেগম এবং ভিক্টোরিয়া কলেজের সমাজ কর্ম বিভাগের ছাত্র কামাল হোসেন।
সভা সঞ্চালনা করেন দর্পণের ইযুথ লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের টিম লিডার তানজিনা রহমান। সাবির্ক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন দর্পণের অর্থ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দা নিলুফার ইয়াসমিন ও প্রোগ্রাম অফিসার সানজিদা ইয়াসমিন।
সভায় বক্তাগণ যেসব সুপারিশ উপস্থাপন করেন সেগুলো হল: দরিদ্রবান্ধব ও উত্তম “কর নীতি” প্রণয়ন করা, করের বিপরীতে অত্যাবশ্যকীয় নাগরিক সুবিধা যেমন মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা প্রভৃতি নিশ্চিত করা; জনগণের উপর করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানো। অর্থাৎ করের হার নয় বরং আওতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর সুশাসন নিশ্চিত করা; একটি প্রগতিসূচক কর ব্যবস্থা প্রণয়ন করা, যে কর নীতি অর্থনীতির ন্যূনতম অপচয় রোধ করতে সক্ষম হবে; বর্তমানে দেশের মাত্র ১% মানুষ আয়কর প্রদান করছে। কর প্রশাসনের দূর্বলতা এবং কর নীতির দূর্বলতাসমূহকে দূরীভূত করে কর সংগ্রহের নি¤œহার উচ্চতর হারে উন্নীত করা; কর প্রদান প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং এ প্রসঙ্গে জনমনে বিদ্যমান ভীতি দূর করতে কর প্রশাসনকে অধিকতর জনবান্ধব, বিকেন্দ্রীভূত, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করা; কর ব্যবস্থা অনেকাংশে পরোক্ষ কর বা ভ্যাটের উপর নির্ভরশীল হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠির জীবন-জীবিকার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারণ তাদের অধিকাংশ উপার্জন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যয় করতে হয়। ফলে কর ব্যবস্থা হওয়া উচিৎ প্রত্যক্ষ কর নির্ভরশীল; কর ব্যবস্থায় কালো টাকা সাদা করার বিষয়টিকে বৈধতা না দেয়া; অবৈধভাবে অর্থ পাচার রোধ করার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা; বিদ্যমান ১৮টি ট্যাক্স ট্রিটি ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয়ভাবে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি থেকে লভ্যাংশ, রয়ালিটি বাবদ রাজস্ব আদায় করা এবং বাংলাদেশে কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য বৃহত্তর নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলা।